ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

প্রকাশিত : 07:57 AM, 2 April 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনা দুর্যোগে সবচেয়ে বেহাল অবস্থা জাতির মেরুদ- শিক্ষা কার্যক্রম। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বন্ধ হওয়া বিদ্যাচর্চার এই নির্মল তীর্থকেন্দ্রটি এখন অবধি স্থবিরতার আবর্তে জড়ানো। মার্চের মাঝামাঝি সংক্রমণ পুনরায় বহুল মাত্রায় দাপট দেখালে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যক্রম রোজা ও ঈদের পর পরামর্শক্রমে ভাবা হচ্ছে।

করোনার এমন সঙ্কটকালে নতুন করে আরও এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। বেসরকারী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজারের বেশি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য যোগ্য প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। ৪ এপ্রিল থেকে আবেদন জমা দেয়া শুরু হবে এবং ৩০ এপ্রিল রাত বারোটা পর্যন্ত শেষ সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রার্থীদের জমা দেয়া আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনপত্র জমা দেয়ার পর প্রত্যেক প্রার্থীকে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে পরবর্তী বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সেখানে নির্ধারিত ১০০ টাকা আবেদন ফি পাঠানোর নির্দেশনাও থাকবে।

করোনার বিপন্নতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থমকে দাঁড়ালেও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক কর্মসূচীর মাধ্যমে চালু রাখা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিধি ব্যবস্থাও সংশ্লিষ্টােদর মধ্যে চালু থাকে। নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন যথার্থ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের জায়গা দেয়া হয়, সেটা নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করা আবশ্যক। একজন উপযুক্ত ও ন্যায়নিষ্ঠ শিক্ষক জাতি গঠনের মূল কারিগর। সেখানে গাফিলতি কিংবা ত্রুটি-বিচ্যুতি কোনভাবেই কাম্য নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তার মূল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারে, তেমন সচেতন দায়বদ্ধতাও কর্তৃপক্ষকে আমলে নিতে হবে। নিয়োগ কমিটিও উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনে আদর্শ আর নীতিনৈতিকভাবে সমধিক প্রাধান্য দেবে, এমন প্রত্যাশা সকলের। কাম্য।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির খবর এমন সময় প্রকাশ হলো যখন সরকার আরও এক নতুন পদক্ষেপে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মান যাচাই করে তাদের ভাতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে। বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ জারি করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বাড়তি সুযোগ তো বটেই। এখানে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত সহজ করা হলেও কলেজের ক্ষেত্রে তা একটু কঠিন। নতুন এই নীতিমালায় কলেজ পর্যায়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ তৈরি করা হয়। গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের শিক্ষকের মর্যাদায় স্থান দেয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেয়া এবং বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা নির্ধারণ হবে সর্বশেষ ২০১৫ সালে নির্ধারিত বেতন স্কেলের নিয়ম অনুসারেই।

বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বজনীন করতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও এর আওতায় আসতে পারে। এবার শিক্ষকদের দিকেও বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয় যাতে জাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটিও তার যথাযোগ্য সম্মান এবং বেতন ভাতা সঠিকভাবে পেতে পারে। সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT