ঢাকা, শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

৫০ অবৈধ প্লাস্টিক কারখানা পুড়ে ছাই

প্রকাশিত : 08:30 AM, 12 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীর চকবাজারের নোয়াখালী ভবনে আগুন লেগে ৫০টির মতো ‘অবৈধ’ প্লাস্টিক কারখানা পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কর্মীরা পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিভিয়েছেন, তবে এরই মধ্যে ভবনের মধ্যে থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

জানা যায়, পুরান ঢাকার চকবাজারের কেবি রুদ্র রোডের ‘নোয়াখালী ভবনে’ প্লাস্টিক কারখানায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৩টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল পৌনে ৮টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভবনটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। শুধু দাঁড়িয়ে আছে কংক্রিটের কাঠামো।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও চারতলা এ ভবনের কমপক্ষে ৫০ প্লাস্টিক কারখানা ও গুদামের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভবনের ঘুমন্ত লোকজন দ্বিগবিদিক ছুটাছুটি করে প্রাণ বাঁচান। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ও আতঙ্কে আশপাশের ভবনের লোকজন বিনিদ্র রাত কাটান।

প্রত্যক্ষদর্শী নোয়াখালী ভবনের একটি প্লাস্টিক কারখানার শ্রমিক খোকন জানান, গত রাতে তিনি ওই ভবনের চারতলায় ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও লোকজনের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম থেকে উঠে দেখেন ভবনের সামনের দিকে আগুনের ভয়াবহ লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া। ওই সময় তিনিসহ আরও কয়েকজন দৌড়ে ছাদে উঠে পাশের ভবনের ছাদে লাফিয়ে পালিয়ে যান। দূর থেকে চেয়ে দেখেন ভবনের নিচতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত প্লাস্টিকের কাঁচামাল ও প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি জানান, এ ভবনে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০টি প্লাস্টিকের কাঁচামাল ও মালামাল তৈরির কারখানা রয়েছে। গুদামে বস্তায় বস্তায় প্লাস্টিকের দানা ছিল।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিন নোয়াখালী ভবনে গিয়ে দেখা যায়, আগুন নিভে গেলেও এখনও চারতলা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুনে ভবনের দরজা, জানালা পুড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ছাদের কার্নিশ ভেঙ্গে পড়ে আছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে প্লাস্টিকের সামগ্রী তৈরির ভারি মেশিন পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, এ ভবনটি বহু বছরের পুরনো। ভবনটিতে অনেক কারখানার মালিক ভবন মালিককে ভাড়া না দিয়ে দখল করে আছেন। ইতিপূর্বে প্রভাবশালীদের কেউ কেউ ভবনটি দখল করে নিতে চেয়েছেন। তারা বলেন, ‘এ ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ড নাশকতাও হতে পারে।’

ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি। এছাড়া এই অগ্নিকাণ্ড বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণে নাকি নাশকতা তা তদন্তের পর বলা যাবে বলে জানান কর্তব্যরত ফায়ার কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। আগুন নেভাতে তাই বেগ পেতে হয়েছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়রা সার্ভিস থেকে সুপারিশ করা হয়, এই এলাকা থেকে অবৈধ প্লাস্টিক কারখানা সরানোর জন্য, কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, এই ভবনটি এর আগেও ফায়ার সার্ভিস পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তারপরও এখানে কারখানা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে এই ভবনে চারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ জানার পরও এখানে প্লাস্টিকের কারখানা করা হয়েছে। কারখানায় দিন-রাত কাজ চলে।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তন চলছিল। তাই বেশি শ্রমিক সেখানে ছিলেন না। এক গ্রুপ কাজ শেষ করে অন্য গ্রুপ ফের কাজ শুরু করবেন- এমন সময় আগুন লাগে। আগুনের পর শ্রমিকরা দ্রুত বের হয়ে যান। দুজন বয়স্ক লোক আটকা পড়েছিলেন, তারাও পরে বের হয়ে আসেন। হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

ভবনটির একপাশ ধসে পড়েছে। বর্তমানে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। চকবাজার থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT