ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

হেফাজতের তা-ব কি একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ

প্রকাশিত : 07:58 AM, 2 April 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানকে কেন্দ্র করে দেশের কয়েকটি স্থানে মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম নারকীয় তা-ব চালিয়েছে। ২৬ মার্চ ঢাকায় বায়তুল মোকাররম এলাকায় যে সংঘর্ষের সূত্রপাত, ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়ে তা সবচেয়ে ব্যাপক সহিংস রূপ পায়।

হরতালের দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত ভোর ৬টা থেকেই অবস্থান নেয় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা। আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে দলবেঁধে আসে ছাত্ররা। দুপুরের পরে যোগ দেয় তাদের সমর্থকরাও। সকাল ৭টার দিকে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে ঢাকা থেকে কোন গাড়ি এই পথ দিয়ে কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়ে চট্টগ্রাম বা অন্য কোন গন্তব্যে যেতে পারেনি। সারা দিনে এই এলাকায় গাড়ি পোড়ানো হয়েছে ৬টি, ভাংচুর করা হয়েছে ৫০টির বেশি। বাদ যায়নি এ্যাম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী গাড়ি। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে আরও ব্যাপক। ‘সঠিক নিউজ প্রচার হচ্ছে না’ দাবি তুলে সাংবাদিক দেখলেই হামলে পড়েছে হেফাজত কর্মীরা।

পরদিন সোমবারও সারা দিন আগুনে পোড়া গাড়িগুলো সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এর মধ্যে বিআরটিসির বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। আগুনে পোড়া গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা গেছে গাড়ির চালক ও মালিককে।

তবে হরতাল চলাকালে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ধ্বংসের নগরীতে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন অফিস, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন ও জেলা প্রেসক্লাবসহ অসংখ্য স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। মূলত সকাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে তাণ্ডব চালানো শুরু হয়। এ সময় বেছে বেছে শহরের মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রতিষ্ঠানসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

এ হামলার মধ্য দিয়ে মূলত হেফাজতিদের স্বরূপ আবার উন্মোচিত হয়েছে। ২০১৩ সালে ৫ মে ঢাকায় হেফাজতিরা যে তা-ব চালিয়েছিল তার চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তা-ব আরও বেড়েছে। অর্থাৎ সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে এই ক’বছরে হেফজতীদের শক্তি যে আরও বেড়েছে তা এবারের হরতালের মাধ্যমে তারা জানান দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, রেলওয়ে স্টেশন তো কোন অন্যায় করেনি। সেখানে সার্ভার রুমের সব কম্পিউটার পুরিয়ে দেয়া হলো কেন? স্টেশনকে অচল করার জন্য। এটা জনগণের বিরুদ্ধে তাদের জিহাদ। কারণ এদেশের সাধারণ জনগণ মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। এ কারণেই হেফাজতীদের ক্ষোভ জুড়ে পড়েছে জনগণের সম্পত্তির ওপর।

একাত্তরে পাকিস্তানী বাহিনী ও তার দোসররা যেভাবে বেছে বেছে এদেশের সুশীল সমাজ, মুক্তবুদ্ধির চার্চা কেন্দ্র ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় এবারের হেফাজতীরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এটি যে সেই পরাজিত শক্তির আক্রমণ তা হামলার স্বরূপ দেখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই মার্চেই ’৭১ এর পরাজিত শক্তির দোসররা তাদের পূর্ব পুরুষদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।

১৯৯৯ সালেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হামলা হয়েছে। ২০০৪ সালে হামলা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হামলা হয়েছে। একই বছর ৩০ অক্টোবর জেলার নাসিরনগরে হামলা হয়। প্রতিটি হামলার ঘটনার ধরন ছিল একই। কিন্তু কোনটির বিচার হয়নি। এ কারণে ২০২১ সালে আবারও একই কায়দায় আরও সহিংস হামলা হয়েছে। আগের ঘটনাগুলোর যদি বিচার হতো তাহলে এবারের হামলা হয় তো এতটা সহিংস রূপ ধারণ করত না।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন একের পর এ ধরনের হামলা চলছিল তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর সদস্যরা ছিল নিষ্ক্রিয়। একই অবস্থা দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। পুরো শহর যখন ছিল হেফাজতীদের দখলে, তখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাউকে দেখা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু নিষ্ক্রিয়ই ছিল না, বরং সদর থানা থেকে মাইকিং করে হেফাজতের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘আমাদের ওপর হামলা চালাবেন না। আমরা আমাদের কাজ করছি, আপনারা আপনাদের কাজ করুন।’

আশ্চর্যের বিষয় হলো, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচীকে ঘিরে সংঘটিত নাশকতা ও তা-বের ঘটনায় বিভিন্ন জেলায় দায়ের করা পুলিশের মামলায় হেফাজতের কোন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় ঘটনার বর্ণনা থাকলেও আসামি সব অজ্ঞাত। চট্টগ্রামের হাটহাজারী, পটিয়ায় গত ২৬ মার্চ জুমার নামাজের পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। থানা ও ভূমি অফিসে হামলার ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় ৬টি ও পটিয়ায় একটি মোট সাতটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় দেড় হাজার আসামি করা হলেও কোন মামলায় কোন হেফাজতী নেতা বা কর্মীর নাম নেই। পুলিশ বলছে, তদন্তে সম্পৃক্ততা পেলে হেফাজত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অথচ শত শত মানুষ দেখেছে, দাড়ি-টুপি পরা হেফাজত কর্মীরা দিনের আলোয় থানায় হামলা চালিয়েছে।

২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হেফাজত নেতাকর্মীরা আন্দোলনের নামে অর্ধশত স্থাপনা ভাংচুর ও পুড়িয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২টি মামলা করা হয়েছে। মামলায় নাম পরিচয়হীন সাড়ে ৬ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু কোন মামলায় হেফাজতের কাউকেও আসামি করা হয়নি। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় গত ২৬ মার্চের সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলাতে তিন চার হাজার অজ্ঞাত আসামি করা হলেও সেখানেও হেফাজতের কারও নাম নেই।

দেশব্যাপী এই নারকীয় হামলায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। পুলিশ বলছে, ঘটনা তদন্ত করে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদেরই আসামি করা হবে। বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। পুলিশ বরং হেফাজতের আড়ালে জামায়াত-বিএনপির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বেশি ব্যস্ত। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, হরতালে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৭টি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, হেফাজতের নামে এসব হামলা জামায়াত ও বিএনপি করেছে।’

গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুড়িয়ে দেয়া স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের যে কথা বলেছেন তা মূলত হেফাজতীদের আড়াল করার চেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি দায়সারাভাবে বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ অথচ তিনি নিজের মুখে হেফাজতের নাম উচ্চারণ করেননি। শুধু পুলিশ কেন সরকারের মন্ত্রীদেরও একই লাইনে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। অথচ সব মানুষ মিডিয়া দেখেছে, দাড়ি-টুপিওয়ালা ছেলেরা লাঠি তলোয়ার হাতে নিয়ে এসব হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত যুক্ত হয়ে হামলা জোরালো করেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কর্মসূচীটি তো ছিল হেফাজতের। ফলে সব দায়-দায়িত্ব হেফাজতকেই বহন করতে হবে। সরকারের উচিত হবে, আগে হেফাজতকে ধরুন, সঙ্গে তাদের সহযোগীদের ধরুন। কিন্তু হেফাজতকে আড়াল করে বাঁচিয়ে দিয়ে শুধু বিএনপি ও জামায়াতকে ধরলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হবে।

পুলিশের এসব বক্তব্যে হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সেই সমঝোতার বিষয়টিই আবার সামনে উঠে এসেছে। তখন সমঝোতা করে সরকার তাদের ভাল পথে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা কি সরকারের পথে এসেছে। বাবু নগরীরা তো সেই ২০১৩ সালের মতোই উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা বঙ্গবন্ধুৃর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার মতো আস্পর্ধা দেখিয়েছে। জোট সরকারের আমলে জামায়াত নেতা যে স্টাইলে বক্তব্য দিয়েছে, সেই একই স্টাইলে বক্তব্য দিচ্ছে হেফাজতের নেতারা।

তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে গেলে আদালত তা গ্রহণ করেনি। এতে তারা তো আরও প্রশ্নয় পেয়েছে। এত প্রশ্রয় দিয়ে তাদের কোথায় নিয়ে যেতে চাইছে? দুদিন পর তো তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশও চেয়ে বসবে? সেটা না পেলে তারা তখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গিয়ে যোগ দেবে, এখন যেটা তারা পরোক্ষভাবে আছে। তখন পরিণতি যে আরও ভয়াবহ তবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভুলে গেলে চলবে না এই হেফাজতীরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের সরাসরি বিরোধীতাকারী জামায়াতে ইসলামীর সৃষ্টি। পাক বাহিনীর সহায়তায় রাজাকার আলবদর আল শামসের মতো প্যারা মিলিটারি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস গোটা দেশে তা-ব চালিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কয়েক বছর গর্তে মাথা লুকিয়ে রাখলেও, ১৯৭৫ পরবর্তী অপরাজনীতির সুযোগে পুনর্জন্ম লাভ করে। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সহযোগিতায় ধর্মের নামে আবারও শুরু করে রাজনীতির খেলা। ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধীদের ২০০১ সালে সরকারের মন্ত্রী বনে যেতে দেখা যায়। খালেদা জিয়া তাদের গাড়িতে শহীদের রক্তে স্রোত পতাকা তুলে দেন। ২০১৩ সালে যোদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়। সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে ওই মন্ত্রীদেরসহ জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া। বিচারকার্য চলাকালীনও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সারাদেশে হরতাল অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক সম্পদ ধ্বংস করে।

তবে ওই সময় ২০১৩ সালে বিকল্প হিসেবে এরা মাঠে নামায় হেফাজতে ইসলামকে। কওমী মাদ্রাসার সঙ্গে জামায়াতীদের মতবিরোধ থাকলেও, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার প্রশ্নে উভয়ই এক অবস্থানে। সে জায়গা থেকে গাটছড়া বাঁধে তারা। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চলা শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। ৫ মে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহা তা-ব চালায় তারা। সে সময় শাপলা চত্বর থেকে সংগঠিত সকল অপরাধ কবুল করে হেফাজতকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয় বিএনপিও। উগ্রবাদীদের সমর্থনে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে দলটি। শেষতক স্বপ্ন সফল হয়নি।

এ ঘটনায় হেফাজতে ইসলামকে সুযোগ দেয় সরকার। গড়ে ওঠে এক ধরনের সখ্য। সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণেরও প্রমাণ পাওয়া যায়। সমঝোতার অংশ হিসেবে কওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর সমমানের স্বীকৃতি দেয়া হয়। হেফাজতের পশ্চাৎপদ নেতাদের কথায় স্কুলের পাঠ্যপুস্তকেও আনা হয় পরিবর্তন। এত কিছুর পরও বিএনপি-জামায়াত ঘেঁষা কট্টর অংশটি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। কারণ তারা তাদের আদর্শ-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হতে পারে না। তাইতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী সে মার্চকেই গ্রহণ করেছে পরাজয়ের মাস হিসেবে। তাদের এসব কর্মকা- একাত্তরের মৌল চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান ছাড়া অন্য কিছু নয়।

এখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তারা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে মাত্র। এর আড়ালে তারা প্রকাশ্যভাবে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকেই চ্যালেঞ্জ করেছে। এটাকে বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শক্তির দিক দিয়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশ কিছুই না তা বাবু নগরীরা ভাল করেই জানে। আর বাবু নগরীদের ভয়ে নরেন্দ্র মোদিরা ভীত নয় সেটাও তারা জানে। এখানে মোদি একটি উপলক্ষ মাত্র। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো পাকিস্তানী আদলে সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ’৭১ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ। বাংলাদেশকে একটি অন্ধকার তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করা। তাই এটাকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। কঠোর হস্তে তাদেরকে এখনই দমন করতে হবে। সমঝোতা করে তাদের যেভাবেই খুশি করার চেষ্টা হোক না কেন, তারা কিন্তু তাদের রাজনৈতিক দর্শন থেকে সরবে না। তারা যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। এবং ধীরে ধীরে লক্ষ্যে পৌঁছার দিকে এগিয়ে যাবে।

কাওসার রহমান
লেখক : সাংবাদিক
৩১.০৩.২১

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT