ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

হাতিরঝিলের পানি দুর্গন্ধমুক্ত হবে

প্রকাশিত : 08:28 AM, 8 November 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীর হাতিরঝিল লেকের পানি দুর্গন্ধমুক্ত, স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পারের সৌন্দর্য রক্ষায় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বিনোদন এলাকা হাতিরঝিলের দুর্গন্ধময় পানি এবং সৌন্দর্য বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন উদ্যোগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা হবে। এজন্য ব্যবহার করা হবে আধুনিক সাকার মেশিন ও উন্নতমানের কেমিক্যাল। পানিতে শ্যাওলা ও ময়লা-আবর্জনা ভেসে থাকতে দেয়া হবে না। লেকের পানিতে মিশতে দেয়া হবে না পয়ঃবর্জ্য। লেকের সঙ্গে সংযোগ দেয়া সকল স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। কেউ তা না মানলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হাতিরঝিলের লেককে পরিবেশবান্ধব স্বচ্ছ ও পানির আধার হিসেবে তৈরি করতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে রাজউক। এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নে মোট ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পে পানি স্বচ্ছ রাখার জন্য অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। রাজউক কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে থাকলেও মূল উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশ।

জানা গেছে, ময়লা-আবর্জনা, দূষিত পানির স্যুয়ারেজ লাইনের কারণেই হাতিরঝিলের পানি দূষিত হওয়ার মূল কারণ। লেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে প্রচার ও নাগরিক সচেতনতা তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে কোন স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ পেলে বাড়ি বা স্থাপনার মালিকদের আইনানুযায়ী শাস্তি হিসেবে জরিমানার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে নতুন করে লেকের পাশে তৈরি করা বাড়ি বা স্থাপনার কোন স্যুয়ারেজ লাইনের কোন প্রকার সংযোগ লেকের সঙ্গে যোগ করতে দেয়া হবে না। এজন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। এছাড়া বর্তমানে লেকের সঙ্গে সংযোগ থাকা সকল প্রকার সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। এর কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। একই সঙ্গে দূষিত পানি দ্রুত অপসাারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সর্বাবস্থায় চালু রাখা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, যেকোন মূল্যে হাতিরঝিলকে দূষণমুক্ত রাখতে ও আশপাশের এলাকার স্যুয়ারেজ লাইনের ময়লা হাতিরঝিলে প্রবেশ বন্ধ করতে আমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে দূষিত পানি দ্রুত অপসারিত হতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু রাখারও নির্দেশ প্রদান করেছি। রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত হাতিরঝিলের পানিকে কোন মতেই অস্বচ্ছ ও নোংরা ময়লা-আবর্জনায় থাকতে দেয়া যায় না। তাই আমরা হাতিরঝিলের পানিকে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন দুর্গন্ধমুক্ত করতেই এমন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছি। সব সময় হাতিরঝিলের পানি পরিষ্কারে পানির তলদেশে সাকার মেশিন বসানো হবে ও উন্নতমানের কেমিক্যাল মেশানো হবে। ফলে কম সময়েই দূষিত গন্ধযুক্ত পানি দুর্গন্ধমুক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া লেকের সঙ্গে সংযোগ দেয়া সকল স্যুয়ারেজের লাইন বন্ধ করা হবে। অপরদিকে লেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে প্রচার ও নাগরিক সচেতনতা তৈরি করা হবে। অবৈধভাবে লেকে স্যুয়ারেজের লাইনের সংযোগ দিলে বাড়ি বা স্থাপনার মালিকদের আইনানুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে। হাতিরঝিলের সৌন্দর্য রক্ষায় বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা চাই রাজধানীবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার হাতিরঝিলের পানি হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্গন্ধমুক্ত। বর্তমানে এ পানি পরিশোধনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। করোনাভাইরাসের কারণে এসব পানি পরিষ্কারের জন্য সাকার মেশিন ও কেমিক্যালসহ নানা যন্ত্রপাতি আনার কাজ কিছুটা বন্ধ ছিল। বর্তমানে তা আনার প্রক্রিয়া চলছে। আধুনিক মেশিনে পানির নিচে সাকার মেশিন বসানো হবে। একইসঙ্গে ওপরে অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা অত্যন্ত শক্তিশালী কেমিক্যাল দিয়ে পানিতে থাকা দুর্গন্ধ দূর করা হবে।

সচিব বলেন, এক সময় হাতিরঝিলের সঙ্গে নানা প্রকার স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ ছিল। ফলে স্যুয়ারেজের নষ্ট পানি হাতিরঝিলের সঙ্গে এসে মিশে পানি দূষিত হয়ে যেত। এর ফলে হাতিরঝিলে বেড়াতে যাওয়া নাগরিকগণ এমনকি রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনও পানির দুর্গন্ধে টিকতে পারত না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছের সঠিক উদ্দেশ্য যেন কোনক্রমেই ব্যাহত না হয় সে লক্ষ্যে আমরা পুরো হাতিরঝিলের পানিকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন তথা দুর্গন্ধমুক্ত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। নতুন নেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে হারিঝিল হবে সম্পূর্ণ দুর্গন্ধমুক্ত যেখানে পানিতে কোন প্রকার গন্ধই থাকবে না।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ সময় রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা তুলে ধরে রাজউক কর্তৃপক্ষ। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে হাতিরঝিলের পানিকে যে কোন মূল্যে স্বচ্ছ ও দুর্গন্ধমুক্ত করতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি যথাযোগ্য গুণগত মান বজায় রেখে হাতিরঝিলসহ সকল প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় বলা হয়, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিতের জন্য। প্রতিনিয়ত আশপাশের এলাকা থেকে স্যুয়ারেজ লাইনের দূষিত পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিবেশ দূষণ করছে এবং এর পানিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে যত্রতত্র মানুষের অবাধ বিচারণে দুই পারের সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। এতে সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। দূষিত পানি ও আবর্জনা পচা গন্ধে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। যেকোন মূল্যে আশপাশের এলাকার স্যুয়ারেজ লাইনের ময়লা হাতিরঝিলে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। চালু রাখতে হবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যাতে দূষিত পানি দ্রুত অপসারিত হতে পারে। হাতিরঝিলের সৌন্দর্য রক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT