ঢাকা, বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সড়ক প্রকল্পে আবার বাংলোর প্রস্তাব

প্রকাশিত : 08:10 PM, 28 August 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না কোভিড মাহামারীও। সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ফের বাংলো (আবাসিক) নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবার পরিদর্শন বাংলো নয়, তৈরি করা হবে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর বাসভবন। সম্প্রতি সড়কের দুটি আলাদা প্রকল্পে পৃথক পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব বাতিল করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরও আগে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তাদের বাসভবন বা বাংলো নির্মাণ পরিহারের অনুশাসন দিয়েছিলেন তিনি।

এমন প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন হিলি (স্থলবন্দর)-ডুগডুগি-ঘোড়াঘাট-জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ শীর্ষক প্রকল্পে আবাসিক ভবনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে এক্ষেত্রে খোঁড়া যুক্তি দেখিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের আগেই প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষ করা হয়েছে। তছাড়া বিদ্যমান বাসভবনটি জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় সওজের নিজস্ব জমিতে এই আবাসিক ভবন নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। তাছাড়া প্রকল্পটিতে ১৮টি দিকনির্দেশক সাইনবোর্ডের জন্যও বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, কী ধরনের সাইনবোর্ড বসানো হবে, সঠিক এখনও জানি না। তাই এই খাতে এত বরাদ্দের বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া মানে তো ব্লাঙ্ক চেক দেয়া নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের যে কোনো পর্যায়েই অনিয়ম বা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪৭৮ কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে এটি উপস্থান করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। গত বছরের ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মকর্তাদের বাসভবন বা পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ পরিহারের অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাছাড়া কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্যোগও নিয়েছে সরকার।

এ অবস্থায় ১৮ আগস্ট একনেকে উপস্থাপন করা হয় ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প। এতে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। একই দিনে উপস্থাপন করা হয় ‘খুলনা সড়ক জোনের আওতাধীন মহাসড়কে বিদ্যমান সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন কংক্রিট সেতু বা বেইলি সেতুর স্থলে কংক্রিট সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি। এটিতেও প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পরিদর্শন বাংলো নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। একনেক বৈঠকে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি বাংলোর প্রস্তাব বাতিল করে দেন।

তারপরও নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পটিতে আবাসিক ভবন নির্মাণ (উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর বাসভবন) অঙ্গে ১১৬ দশমিক ১৭ বর্গমিটার এই আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এর আগে যুগান্তরকে বলেন, খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে পরিকল্পনা কমিশন দায় এড়াতে চাচ্ছে। কেননা করোনা মহামারীর মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য যেখানে সরকারপ্রধানের নির্দেশ রয়েছে, সেখানে এমন ব্যয় কেন? একনেকে উপস্থাপনের আগে এ বিষয়টি দেখা উচিত।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT