ঢাকা, বুধবার ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

স্মার্টফোন কিনতে শিক্ষার্থীদের ঋণ দেবে ইউজিসি

প্রকাশিত : 11:06 AM, 5 November 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনাকালে অনলাইন শিক্ষার জন্য স্মার্টফোন কিনতে ৩৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ হাজার ৫০১ অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে বিনা সুদে আট হাজার টাকা করে ঋণ দেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর অথবা পড়ালেখাকালীন চার কিস্তিতে বা এককালীন আসল টাকা শিক্ষার্থীরা পরিশোধ করতে পারবেন। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক বরাদ্দের বিপরীতে অগ্রিম হিসেবে সংশ্লিষ্ট খাতে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হবে।

বুধবার ইউজিসির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রফেসর ড. মোঃ আবু তাহের, সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান, জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিন এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ শাহ আলম প্রমুখ।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে। এটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী হবে। তারা শিক্ষা জীবনের ক্ষতিও পুষিয়ে নিতে পারবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্রুততম সময়ে সফ্টলোন অনুমোদন কমিটি গঠন করে স¥ার্টফোন ক্রয়ে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সুদবিহীন ঋণ দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরাধ জানান। সভায় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কর্তৃক গঠিত ‘সফ্টলোন অনুমোদন কমিটির’ সুপারিশের আলোকে অনধিক আট হাজার টাকা শিক্ষার্থীকে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ সালের মধ্যে বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়। শিক্ষার্থীকে শুধু আসল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর কিংবা অধ্যয়নকালীন চারটি সমান কিস্তিতে বা এককালীন তারা এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে বলে জানান কমিশন চেয়ারম্যান।

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এর আগে গত ৯ আগস্ট দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্মার্টফোন কিনতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা চেয়ে উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছিল ইউজিসি। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ যাচাই-বাছাই করে সর্বমোট ৪১ হাজার ৫০১ অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা কমিশনে পাঠায়। তালিকায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আট হাজার ৫৫৬ জন (১৯.৮৯ শতাংশ) এবং সর্বনিম্ন সংখ্যা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭ জন (৩.৩৬ শতাংশ)।

উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ঋণ সুবিধার বাইরে রয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ নবেম্বর পর্যন্ত ছুটি থাকবে। অনিশ্চিত এই পরিস্থিতিতে গত ২৫ জুন ইউজিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এক সভায় অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর জুলাই থেকে দেশের সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু ক্লাস শুরুর পর শিক্ষকরা দেখতে পান বিভাগভেদে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন না।

মূলত এমন পরিস্থিতিতেই যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস ও ইন্টারনেট খরচের সামর্থ্য নেই, তাদের তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ইউজিসি। এ জন্য যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস কেনার আর্থিক সক্ষমতা নেই, সেসব শিক্ষার্থীর নির্ভুল তালিকা গত ২৫ আগস্টের মধ্যে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলেছিল ইউজিসি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তালিকা পাঠায় ইউজিসিতে। প্রথমে যে তালিকা দেয়া হয়েছিল, তাতে গড়ে প্রায় ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর এই সুবিধা ছিল না বলে জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। পরে অতি প্রয়োজন বিবেচনায় এই হার ১৫ শতাংশের মধ্যে করে তালিকাটি সংশোধন করে দিতে বলে ইউজিসি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সংশোধিত তালিকা পাঠায়।

বুধবার ইউজিসির এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিকা অনুযায়ী আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আট হাজার ৫৫৬ জন অসচ্ছল। মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় এই হার ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৪৩ হাজার। অন্যদিকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থী সবচেয়ে কম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অসচ্ছল শিক্ষার্থীর হার তিন দশমিক ৩৬ শতাংশ।

জানা গেছে, ১৫ শতাংশ বা তার বেশি অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা দিয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনায় অবস্থিত শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া ১০ শতাংশের বেশি এবং ১৫ শতাংশের কম অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা দেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আছে ২০টি। ১০ শতাংশের কম অসচ্ছল শিক্ষার্থীর তালিকা দেয়া হয়েছে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে সারাদেশে ৪৬টি সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT