ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ নিরাময়ে সহযোগী, তরুণদের পছন্দ

প্রকাশিত : 09:50 PM, 27 August 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাইসাইকেল বা বাইক। পায়ে চালিত (প্যাডেল) দ্বিচক্র যান। মোটর চালিত যান্ত্রিক যানে বাই সাইকেলের কদর কমেই গিয়েছিল। এই শতকের মধ্যভাগে বিজ্ঞানীরা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এবং রোগ নিরাময়ে সহযোগী হিসেবে বাইসাইকেলের ভূমিকা তুলে ধরেন। যানজট নিয়ন্ত্রণে সড়কে বাইসাইকেলের আলাদা লেন বানিয়ে দেয়। ২০২০ সালে বিশে^র অতিমারি (প্যানডেমিক) করোনা থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক দূরত্ব বজায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যয়ামের জন্য বাইসাইকেলের বহুমুখী গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এবং বিবর্তনের পালায় বাইসাইকলে ফিরে এসেছে কারিগরি শৈলীতে আধুনিকায়ন হয়ে। শিশু কিশোর তরুণদের কাছে খুব প্রিয়। বয়স্করা এগিয়ে। সড়ক দুর্ঘটনা ও দূষণ রক্ষায় বাইসাইকেল বড় ভূমিকা নিয়েছে।

ইতোমধ্যে দেশে কয়েকটি সংগঠন সড়কে নির্বিঘ্নে বাইসাইকেল চলাচলের আলাদা লেন দাবি করেছে। শহর গ্রামে নারী পুরুষ বাইসাইকেল চলাচল করছে। মেয়েরা সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের ছেলেবেলাতেই বাইসাইকেলে চালনায় অভ্যস্ত করে তুলছে। বেবি বাইসাইকেল তৈরি হয়েছে। উন্নতমানের বাইসাইকেল এখন দেশেই তৈরি হয়ে বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশে রফতানি হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং শরীর ঠিক রাখতে বাইসাইকেলের ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অফিসের অনেক কর্মকর্তা নারী ও পুরুষ গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে সাইকেলে চলাচল করছেন। সুইডেনে কয়েক নারী মন্ত্রী সাইকেলে চলাফেরা করেন।

সাইকেলের আবিষ্কার ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে। নিকট অতীতে বাইসাইকেল ছিল সড়ক যোগাযোগে জনপ্রিয় বাহন। গ্রামের মেঠোপথ, শহরের পাকা সড়কে চলত সাইকেল। সেদিনের বাইসাইকেলগুলোর নাম ছিল বিএসএ, রেলি, হিরো ইত্যাদি। সেদিনের সাইকেলের উচ্চতা ছিল বেশি। হ্যান্ডেল বা স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে ব্রেক, বেল। স্পোকের সঙ্গে বেশি ব্যাসার্ধের চাকায় টায়ারের ভেতরে টিউব থাকত। এই টায়ারে বোতলের আকৃতির ডায়নামা এটে সামনে বাতি জ্বলানো হতো। পিছনে কেরিয়ার। চাকা ঘোরাবার জন্য প্যাডেলের সঙ্গে চেন। ছোট্ট একটু বসার জায়গা।

কালের বিবর্তনে সাইকেল প্রযুক্তিতে এগিয়েছে। পুরাতন আমলের সাইকেলের পরিচিতি ক্লাসিক। বগুড়ার সাইকেলের শো-রুমগুলোতে কারিগরি উন্নত শৈলীর অনেক সাইকেল এসেছে। কোনটির নাম মাউন্টেইন বাইক। এই সাইকেলে পাহাড়েও ওঠা যায়। চেনের সঙ্গে বিশেষ পদ্ধতিতে ৮ থেকে ১১টি গিয়ার বসানো হয়েছে। প্যাডেল কম করে গতি বাড়ানো যায়। সঙ্গে আছে ঝাঁকুনি কমানোর শক এ্যাবজরভার। ব্রেকও আধুুনিক হয়েছে। স্টিল বডি, মিক্সড বডি ও এ্যালুমিনিয়াম বডির সাইকেল মেলে। হাল্কা সাইকেল কয়েক ভাঁজ করে (ফোন্ডিং) ব্যাকপ্যাকে ভরে বহন করা যায়। উন্নত বাইসাইকেলের টায়ারও মোটা। গিয়ারে দ্রুত চলার উপযোগী করে এই টায়ার বানানো হয়েছে।

বড় মাঝারি ছোট ১২, ১৪, ১৮, ২০, ২৪ ও ২৬ ইঞ্চি মাপের সাইকেল মেলে। দাম ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। টঙ্গী, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম হবিগঞ্জে উন্নতমানের সাইকেল তৈরি হচ্ছে। বাইসাইকেল আমদানি করতে হয় না। বিদেশী সাইকেলের চেয়ে বাংলাদেশের তৈরি বাইসাইকেল অনেক উন্নতমানের।

যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গাড়ির ব্যবহার সীমিত, হাঁটা ও বাইসাইকেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নগর কেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থায় অতি দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশে যানজটের স্থবিরে পড়া রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহর ও নগরগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে পারে ছোট্ট কয়েকটি পদক্ষেপ। স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এক আলোচনায় এই বিষযগুলো উত্থাপিত হয়েছে। বলা হয় এই ব্যবস্থায় জ্বালানির নির্ভরতা কমবে। দুর্ঘটনা অনেক কমবে। রোগ বালাই কমে গিয়ে মানুষ সুস্থ থাকবে।

নগরীর যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বল্প দূরের পথে হাঁটা, মধ্যম দূরের পথে বাইসাইকেল এবং বেশি দূরের পথে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারে সমস্যা অনেক কমানো যায়। শহরে মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ রাস্তা থাকা বাঞ্ছনীয়। দেশের কোন শহরেই এই পরিমাণ রাস্তা নেই। প্রতিটি শহরে স্বল্প প্রশস্তের রাস্তার ধারে বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। মহানগরী ঢাকায় যানবাহন বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। ফুটপাথ দখল হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা পারাপারেও নিরাপত্তা নেই। উন্নত দেশ নগর যাতায়াত ব্যবস্থাকে গতিশীল করেছে হাঁটা ও বাইসাইকেলের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। রাস্তায় হাঁটার জন্য একজন মানুষের জায়গা লাগে মাত্র ৭০ বর্গ সেন্টিমিটার। সুস্থ একজন মানুষ ঘণ্টায় গড়ে ৫ কিলোমিটার হাঁটতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (হু) জরিপে বলা হয়েছে মানুষ হাঁটা শেখার পর থেকে যত হাঁটে ততই সে সুস্থ। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন প্রত্যেক মানুষের গড়ে প্রতিদিন ৪৫ মিনিট হাঁটা দরকার। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাঁটা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে সাইকেলে চলাচল করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

হাঁটার অভ্যাস এবং বাইসাইকেল ব্যবহারে মানুষ সুস্থ থাকে বেশি। হিসাবে দেখা গেছে সুস্থ মানুষ বাইসাইকেলে চড়ে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার যেতে পারেন। বাইসাইকেল রাস্তায় সামান্য জায়গা নেয়। উন্নত কয়েকটি দেশের রিপোর্টে জানা যায়, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ডের নগরীর সড়কে বাইসাইকেল চলাচল করে ৮৩ শতাংশ। দেশগুলোর মাথাপিছু আয় অনেক বেশি। ওইসব দেশের নগরীতে ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে বাইসাইকেলকে আগে ছেড়ে দেয়া হয়। কোপেনহেগেনও বাইসাইকেলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। সে দেশের রাস্তায় বর্তমানে ৭০ শতাংশ বাইসাইকেল চলে। বয়স্ক ও মধ্যবয়সীরাও বাইসাইকেলে চড়ে স্বল্পদূরের গন্তব্যে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা যৌক্তিক কারণেই বেশি। প্রতিদিন কর্মস্থলে দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রে নগরীর সড়কে বাইসাইকেল লেন ও হাঁটার লেন আছে। এদিকে দেশে করোনাকালে সাইকেল বিক্রির হার বেড়েছে। বগুড়ার একটি শোরুম কর্তৃপক্ষ জানালেন চলতি জুন মাস থেকে সাইকেল বিক্রি পূর্বের তুলনায় গড়ে ২০ শতাংশ বেড়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT