ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে ভ্যাকসিন

প্রকাশিত : 09:55 AM, 27 December 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব এমন দুটি ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে জাপান এবং ভারতের দুটি কোম্পানি। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংরক্ষণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যখন বড় অন্তরায় হয়ে উঠেছে তখন দেশ দুটির এই উদ্যোগের খবর প্রশংসিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন দুটির দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার পর দাবি করা হয়েছে মানুষের জন্য এটি নিরাপদ। যদিও তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে ব্যাপকভাবে মানুষের শরীরে প্রয়োগের অনুমোদন পাওয়া সম্ভব নয়। জাপানের ভ্যাকসিনটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বছরের উপরে আর ভারতেরটি তিন মাস সংরক্ষণ করা যাবে।

এখন বিশে^র বিভিন্ন দেশে মার্কিন কোম্পানি ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে। মার্কিন আরেক কোম্পানি মডার্নার ভ্যাকসিনও সম্প্রতি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসন। দুটি ভ্যাকসিনই সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৭০ ডিগ্রী তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। হিমাঙ্কের এত নিচের তাপমাত্রার সংরক্ষণাগার নির্মাণ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ভ্যাকসিন দুটি আন্তঃমহাদেশীয় পরিবহন এবং প্রয়োগ পর্যায়ে সংরক্ষণ করাও কঠিন বিষয়। চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্যের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্যও দুই থেকে আট ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার প্রয়োজন হবে। ফলে এসব ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেটর প্রয়োজন হবে। এতেও পৃথিবীর একেবারে প্রান্তিক মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে বেগ পেতে হবে। স্বাভাবিক রুম টেম্পারাচারে যদি ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা যায় তাহলে ভ্যাকসিন বিতরণে একটি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এখন সারাবিশ^ই করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। সঙ্গত কারণে এমন ভ্যাকসিন প্রয়োজন, সহজলভ্যতার সঙ্গে পরিবহন এবং সংরক্ষণ।

সঙ্গত কারণে, সাধারণ ওষুধের মতো স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব এমন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণের অপেক্ষায় গোটা বিশ^। এমন ভ্যাকসিন কার্যকর প্রমাণ হলেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের একেবারে হাতের নাগালে চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের ভ্যাকসিন ট্রাকার বলছে, জাপানের ওসাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে দেশটির গবেষণা এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি তাকারা বায়ো অএ০৩০২-ঈঙঠওউ১৯ নামের ভ্যাকসিনটি আবিষ্কার করেছে। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনটির প্রথম ধাপের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করেও এটির নিরাপত্তা দেখা হয়েছে। এখন বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিনটির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামী বছরের প্রথম দিকেই ভ্যাকসিনটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাকারা বায়োর।

অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষার পর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা একই সঙ্গে করা হয়। ভ্যাকসিনের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে করার জন্যই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এতে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা সাধারণত ৫০ জনের নিচে স্বেচ্ছাসেবক থাকে। আর তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় কয়েক হাজার মানুষের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। এতে করে দ্বিতীয় ধাপের পর্যালোচনাটি দ্রুতই সেরে ফেলা যায়। পাশাপাশি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাও চলতে থাকে। এতে সময়ের অপচয় হয় না।

সম্প্রতি শুরু হওয়া এই ডিএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিনটির দুটি ডোজ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রহণ করতে হবে। গত ৩০ জুন ভ্যাকসিনটির প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করে। ওই ট্রায়ালের ফল বিশ্লেষণ করে ডিসেম্বর থেকেই দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ভ্যাকসিনটি এক বছরের উপরে সংরক্ষণ করা যাবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী ডিএনএ ভিত্তিক তুঈড়ঠ-উ নামের ভ্যাকসিনটি তৈরি করছে ভারতের আহমদাবাদের জাইডাস ক্যাডিলা। ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া দুদিন আগের এক খবরে বলছেÑ জাইডাস তাদের ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরুর জন্য সরকারের অনুমোদন চেয়েছেন। ইতোমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাইডাস ক্যাডিলার পরীক্ষাগার পরিদর্শন করেছে।

চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে ভ্যাকসিনটির তিনটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। ডিএনএ ভিত্তিক ভ্যাকসিনটির দামও নির্ধারণ করে ফেলেছে জাইডাস। ভ্যাকসিনটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। আগামী বছরের মার্চ থেকে ভ্যাকসিনটি সর্বসাধারণের মধ্যে উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জাইডাস ক্যাডিলা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT