সোমবার ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পদ্মায়

প্রকাশিত : 09:27 AM, 4 May 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউনে নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ। সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে কিছু অসাধু স্পিডবোটচালক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অবৈধভাবে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে যাত্রী পারাপার করছিলেন। গাদাগাদি করে যাত্রী নিয়ে দিচ্ছেন পদ্মা পাড়ি। গতকাল সোমবারও অবৈধভাবে ৩১ যাত্রী নিয়ে পদ্মা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে একটি স্পিডবোট, মারা যায় ২৬ যাত্রী।

নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিসটি একরকম ভীতিকর নৌযানে রূপ নিয়েছে। দ্রুতগতির এ নৌযানগুলোর নেই কোনো রেজিস্ট্রেশন। কোনো স্পিডবোটে নেই নেভিগেশন আলোকবাতি। লাইফ জ্যাকেটও থাকে না। চালকদের নেই ন্যূনতম প্রশিক্ষণ সনদ। রাতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই ভয়ংকর যান। লকডাউনের শুরু থেকেই নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্পিডবোট চলছে নিয়মিত। বিশেষ করে শিমুলিয়া ঘাট থেকে রীতিমতো প্রকাশ্যে টিকিট কেটে চলে স্পিডবোট।
শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আশরাফ হোসেন এবং বাংলাবাজার ঘাটের ইজারাদার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াকুব বেপারি। প্রত্যেক যাত্রীকে লাইফ জ্যাকেট পরানো বাধ্যতামূলক থাকলেও গতকাল ভোরে মারা যাওয়া ২৬ যাত্রীর কারোই পরনে লাইফ জ্যাকেট ছিল না।

শিবচর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসার পরই চালক খুব বেপরোয়াভাবে স্পিডবোট চালাচ্ছিলেন। আমরা আস্তে চালাতে বললেও চালক শোনেননি। হঠাৎ বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় আমিন মিয়া বলেন, লকডাউনের কারণে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকার কথা। কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে সব স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, কিন্তু শিমুলিয়া ঘাট থেকে কিছু অদক্ষ চালক স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার অব্যাহত রেখেছেন। চালক অদক্ষ থাকার কারণেই পারে নোঙর করে রাখা বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এত বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

এ ব্যাপারে শিমুলিয়া বন্দরের অতিরিক্ত বন্দর কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক (নৌ নিটা) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘লকডাউনে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবোট চালাচল বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু অসাধু স্পিডবোটচালক ঘাটের কাছের চর থেকে গোপনে যাত্রী তুলে পার করছে। আর ফেরিতে দেরির কারণে ঘাটে আটকে পরা যাত্রীরা এসব চর থেকে গোপনে স্পিডবোটে উঠে পদ্মা নদী পার হচ্ছে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া এসব স্পিডবোটের কোনো রেজিস্ট্রেশন না থাকায় এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি এগুলোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকত তবে ঘাটের কাছের চর থেকে যাত্রী নিলেও তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হতো।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT