রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সেই ইসরায়েলি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা অ্যাপলের

প্রকাশিত : 09:34 AM, 25 November 2021 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি এনএসও এবং তাদের মূল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। হ্যাকিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে আইফোন ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি চালানোর দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এনএসও কোম্পানির পেগাসাস সফটওয়্যার আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড দুই ধরনের ফোনেই ভাইরাস ঢুকিয়ে হ্যাক করতে পারে। এই প্রযুক্তি দিয়ে ফোন ব্যবহারকারীর মেসেজ, ছবি এবং ইমেইল তারা হাতিয়ে নিতে পারে। ব্যবহারকারীর অজান্তে তার ফোনের মাইক ও ক্যামেরা চালু করে দিতে পারে।

এনএসও গ্রুপের দাবি, তাদের হ্যাকিং প্রযুক্তির লক্ষবস্তু সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা। কিন্তু অভিযোগ আছে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে অধিকার কর্মী, আন্দোলনকারী, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের ফোন হ্যাক করা হচ্ছে।

এনএসও গ্রুপের দাবি, যেসব দেশে মানবাধিকারের রেকর্ড ভালো, তাদের সেনাবাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেই শুধু তারা এই হ্যাকিং প্রযুক্তি সরবরাহ করে থাকে। তবে, এ মাসের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করা হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই সফটওয়্যার বিদেশি কিছু সরকারকে তাদের নিজস্ব সীমানার বাইরে গিয়ে দমনপীড়ন চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। এটি ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি, সাংবাদিক ও আন্দোলনকর্মীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারগুলোর জন্য একটা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থা যেমন মাইক্রোসফট, মেটা প্ল্যাটফর্মস (যার আগের পরিচয় ফেসবুক নামে), গুগলের মালিকানাধীন অ্যালফাবেট এবং সিসকো সিস্টেমের কাছ থেকে এ নিয়ে সমালোচনা আসার পর অ্যাপল এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আদালতে মামলার ঘোষণা দিয়ে এক ব্লগ পোস্টে অ্যাপল জানিয়েছে, অ্যাপল ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে তাদের ওপর গোপন নজরদারি চালানোর জন্য দায়বদ্ধ করতে তারা এনএসও গ্রুপ এবং তাদের মূল প্রতিষ্ঠান ওএসআই টেকনোলজিস-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চায়।

ওই ব্লগ পোস্টে বলা হয়, ‘অ্যাপল ব্যবহারকারীদের যাতে ভবিষ্যতে ক্ষতি ও হয়রানি করা না হয়, তার জন্য এনএসও যাতে অ্যাপলের কোনও সফটওয়্যার বা তাদের সেবা ব্যবস্থা এবং কোনও ডিভাইস ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য অ্যাপল স্থায়ী ইনজাংশানের (নিষেধাজ্ঞা) আবেদন জানিয়েছে।’

উত্তর আমেরিকায় বিবিসির প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদদাতা জেমস ক্লেইটন জানান, অ্যাপল ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে গর্ব করে থাকে। তাদের ডিভাইসগুলো বিক্রির পেছনে এটা একটা বড় বিষয় হিসেবে কাজ করে থাকে। কাজেই যে স্পাইওয়্যার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে তাদের ডিভাইসগুলো হ্যাক করছে বলে অভিযোগ, সেই সংস্থার প্রতি অ্যাপল-এর মতো বিশাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রুষ্ট হবে; এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে কোম্পানিটির আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পেছনে এটিই একমাত্র কারণ নয়।

এনএসও দাবি করে, তাদের কাছ থেকে এই পেগাসাস সফটওয়্যার কিনছে সরকারগুলোও, অ্যাপল যাদের পদক্ষেপকে চিহ্নিত করছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে।

এনএসও-এর দাবি, যেসব সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড ভালো তারা শুধু তাদের সঙ্গেই কাজ করে। বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, এখানে এনএসও বোঝাতে চাইছে সব হ্যাকাররাই মন্দ নয়- যারা পরিচয় গোপন রেখে অন্ধকার দুনিয়ায় বসে হ্যাকিং করে, তাদের সঙ্গে এনএসও-এর তফাত রয়েছে।

ক্লেইটন বলছেন, এখানে অ্যাপল-এর যুক্তি হচ্ছে এদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তাদের বক্তব্য, আপনি যদি চুরি করে কারও ফোনে বা ডিভাইসে আড়ি পাতেন, সেখান থেকে তথ্য ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতে হাতিয়ে নেন, তাহলে সেটাও অপরাধ।

অভিযোগপত্রে কী বলা হয়েছে?

অ্যাপল তাদের অভিযোগ দায়ের করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ডিস্ট্রিক্ট আদালতে। তাতে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এনএসও তাদের সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২১ সালে অ্যাপলের ভোক্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। মোবাইল ফোনে এনএসও-র স্পাইওয়্যার দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ওপর গোপন নজরদারি চালানো হয়েছে। এই স্পাইওয়্যার এমনকি আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে হামলা চালাতে সক্ষম এবং তা করেছে।

অ্যাপল অভিযোগ করেছে যে, এনএসও গোষ্ঠী শতাধিক ভুয়া অ্যাপল আইডি তৈরি করে এসব হামলা চালিয়েছে। অ্যাপলের সার্ভারের ওপর কোনও হামলা চালানো হয়নি, কিন্তু এনএসও অ্যাপল ব্যবহারকারীদের ওপর হামলা চালাতে সংস্থাটির সার্ভারের অপব্যবহার করেছে। সার্ভারকে তাদের নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছে।

অ্যাপলের অভিযোগ, এই স্পাইওয়্যারটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবেও সরাসরি কাজ করেছে এনএসও গ্রুপ। কিন্তু এনএসও বলে আসছে, তারা খদ্দেরদের কাছে শুধু তাদের সফটওয়্যারটি বিক্রি করেছে মাত্র।

অ্যাপল বলছে, এনএসও-র সঙ্গে তারা ক্রমাগত একটি যুদ্ধে নামতে বাধ্য হয়েছে। কারণ তাদের ভাষায় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল-এর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ডিঙিয়ে ডিভাইসে ঢুকতে যেভাবে সমানে তাদের ম্যালওয়্যার বা হ্যাকিং প্রযুক্তিকে উন্নত করেছে, অ্যাপলকে তার সঙ্গে ক্রমাগত পাল্লা দিতে হয়েছে।

আইফোন প্রস্তুতকারী এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই মামলা থেকে আদায় করা ক্ষতিপূরণের অর্থ, সেই সঙ্গে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার সিটিজেন ল্যাব নামে সাইবার নজরদারি বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দান করবে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানই প্রথম এনএসও-র কার্যকলাপ উদঘাটন করে।

এনএসও গ্রুপের দাবি, তাদের তৈরি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

হ্যাকিং সামগ্রী উৎপাদক কোম্পানিটি বলছে, প্রযুক্তির নিরাপদ জগতে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকারীরা ও সন্ত্রাসীরা অবাধে বিচরণ করতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বৈধ অস্ত্র আমরা সরকারগুলোর হাতে তুলে দিয়েছি। এনএসও গ্রুপ সত্য তুলে ধরতে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।’ সূত্র: বিবিসি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT