ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সিডনির মেলব্যাগ ॥ শেখ হাসিনাই ভরসা

প্রকাশিত : 09:30 AM, 15 September 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দেশে একদিকে যেমন উন্নয়ন আরেক দিকে দেখছি সমস্যাও বাড়ছে। করোনা বা কোভিড পুরো দুনিয়াকে বদলে দিলেও মানুষের চরিত্র বদলাতে পারেনি। আমরা ধরে নিয়েছিলাম মানুষ এবার অন্তত সাবধান হবে। তাদের মনে ভয় ঢুকবে এই ভেবে যে, মানুষ আসলে কতটা অসহায়। দুনিয়ার তাবত গবেষণা আর মেধাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মহামারী সমানে তার থাবা বিস্তার করে চলেছে। এক দেশ শেষ হলে আরেক দেশ। আবার ফিরে আসছে পুরনো দেশেও। এই কঠিন সময় অতিক্রম করা সহজ কাজ না। আমেরিকা চীন থেকে ভারত রাশিয়া ছোট দেশ নেপাল সবার এখন খারাপ অবস্থা। তারপরও কিন্তু মারামারীতে হানাহানি কমেনি। কিছু কিছু দেশ ও সমাজ ভীত বলে তাদের দেশে অপরাধের সংখ্যা কমেছে, কিন্তু চলে যায়নি।

কিছুদিন আগে সিডনিতে ভারতের দুই প্রতিবেশী রাজ্যের যুবারা প্রকাশ্যে সামাজিক মিডিয়ায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফাইটিং করার কারণে তাদের বেশ কজনকে এই দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে সরকার। ঘটনা সিরিয়াস না হলে এমন শাস্তি হয়? এর ভেতরে এটাই প্রমাণিত মানুষের ভেতর যে অসুর সে আসলে কিছুই মানে না। আমাদের দেশেই দেখুন, একের পর এক সর্বনাশা ঘটনা ঘটে চলেছে। সবচেয়ে ট্রাজ্যিক হলো মসজিদে যাওয়া মানুষগুলোর দগ্ধ হয়ে জীবন দেয়া। তিতাস গ্যাসের যে দায়িত্ব বা দায় সেটা তারা অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু কথা হলো কিভাবে এই বিষয়টা এতদিন চলল। কেন কারও কোন মাথাব্যথা ছিল না? আজ যখন কিছু মানুষ দুনিয়া থেকে চলে গেলেন, তাদের পরিবার যখন আহাজারি আর সর্বশান্ত তখন এসব কথা বলে বা একে ওকে দোষী করে কি লাভ? এটি যদি দুর্ঘটনা মনে করিও খেয়াল করুন আরও কি কি হচ্ছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নামে যেসব অপকর্ম তার একটা বিহিত না হলে সরকারের ইমেজ যে ধ্বংস হয়ে যাবে, তাতে তর্কের অবকাশ নাই। আমি তো দেখছি শেখ হাসিনা দশ কদম এগিয়ে দিলে বাকিরা তা বিশ পা পেছনে টেনে নিয়ে যায়। সব কি সাধারণ ঘটনা? মনে হয় এর পেছনে আছে গভীর ষড়যন্ত্র। ইতোমধ্যে ভারত ও চীন বিষয়ে নানা মতবাদ আর পার্থক্য জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। এটা সবাই জানি মানি যে, একবারের দুশমন চিরকালের দুশমন নাও হতে পারে। কিন্তু তাকে বন্ধু হিসেবে নেয়ার আগে যেসব সতর্কতা আর সাবধানতা মানা দরকার সেগুলো কি মানা হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আর তাঁকে যারা পরামর্শ দেন তাঁদের কাজ যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় তো এমন বিতর্ক ওঠার কথা না। বিশেষত করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে দেখছি দুই ধরনের মতামত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালেও তিনি বলছেন এক কথা। আর সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো চুক্তি করেছে ভারতের সঙ্গে। দলের ভেতর বা শীর্ষ মহলে এমন স্ববিরোধী মতভেদ থাকলে অন্যরা তো সুযোগ নেবেই।

যে বিষয়টি এখন ঢালাও আর খেয়াল খুশির শিকার তা হলো রাজনীতি করা বা দলে নাম লেখানো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা ও সাহসে দেশে আওয়ামী প্রায় একক রাজনীতি আছে বলে তার সুযোগে দুষ্টু লোকেরা দলে ঢুকে যা খুশি তা করলে সময় কি ছেড়ে কথা বলবে? বঙ্গবন্ধুর আমলেও এমন হয়েছি। বাংলার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত তাঁকে হেয় করার চক্রান্তে দলে ঢুকে পড়া হায়েনা আর মীরজাফরেরা কি করেছিল তা আর নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। সে রক্তাক্ত ইতিহাস থেকে বের হয়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে। এবার যদি আবার তেমন কিছু ঘটে যায় তাহলে কবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে, আদৌ হবে কি-না তা সময়ও বলতে পারে না। চারদিকে একটা খাই খাই ভাব বিরাজমান। এই খাই খাই ভাবের পেছনে কারা বা দলের কোন শ্রেণীর নেতাকর্মীরা, তা কিন্তু গডফাদাররা ভালই জানে। ফলে সেখানে হাত দিলেই সমাধান সহজ হবে। আজ দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগের চেনা পরিচিত দুশমনেরা দলে ঠুকে এই দিবস সেই দিবস আর নানা অজুহাতে মাতম করছে। প্রধানমন্ত্রীর অগোচরে বিদেশে শাখা খুলে বড় নেতাদের কৃপাধন্য হয়ে ফায়দা লুটছে। এগুলো কোন শুভ ইঙ্গিত বহন করে না। আরও একটা বিষয় হলো, করোনার সময় এমন উৎপাত মানুষকে বিষিয়ে তুলছে। মানুষ যেখানে জানমালের নিরাপত্তা আর ভয়ে মরছে সেখানে রোজ এমন ঘটনার জন্ম ভাল কিছু না।

আওয়ামী লীগের ভেতরেই তার দুশমন আছে। আপাত নিরীহ বিএনপি-জামায়াত সময় সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে। তারা কিন্তু দেরিতে হলেও সঠিক পথে থাকার চেষ্টা করছে। উপনির্বাচনগুলোতে অংশ নেয়ার ভেতর দিয়ে একদিকে যেমন রাজনীতিতে থাকা, আরেক দিকে জনমত বা তাদের সমর্থন টেস্ট করার চেষ্টায় আছে তারা। এটাও সত্য আমরা বাঙালীরা সবসময় বিরোধী আর লুপ্ত প্রায় কিছুকে ভালবাসি। একমাত্র উন্নয়ন আর সরকারের সঙ্গে বিশ্বনেতাদের যোগ এবং দূরদর্শিতার কারণে তারা সুবিধা করতে পারছে না। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখার কথা ভুলে গেছে সরকারী দল। অনেক বছর গদিতে থাকলে যা হয়।

প্রায় প্রতিদিন সংবাদ শিরোনামে নেগেটিভ খবরে আসছে দলের নব্য নেতাকর্মীরা। মানুষ ক্লান্ত হতে হতে এখন বিরক্ত। এসব উটকো লোকদের অনুপ্রবেশকারী কিংবা বহিরাগত বললে কি সমস্যার সমাধান হয়? জানতে হবে, খুঁজে বের করতে হবে এদের উৎস আর গডফাদারদের। সোজা কথা হানিমুন পিরিয়ড কবে শেষ হলেও সরকারী দল তা টের পাচ্ছে না। মাথার ওপর প্রধানমন্ত্রীর শক্ত ছায়া আর দলের সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য এটা বুঝতে না পারলেও কিন্তু তলে তলে আশঙ্কা দানা বাঁধছে। বাংলাদেশের ওপর যখন আন্তর্জাতিক মুরব্বিরা সদয় বা সহানুভূতিশীল হয়, আমাদের কিন্তু ভয় জাগে।

অতীতে বহুবার আমরা দেখেছি এরা যাদের বন্ধু তাদের কোন শত্রুর প্রয়োজন পড়ে না। এদের খপ্পর থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। কারণ বাংলাদেশ যা কিছু পেয়েছে বা অর্জন করেছে তা তার প্রাপ্য। সে সম্পদ বা মেধা কারও দয়ার দান না। তাই আমাদের দেখভাল আমাদেরই করতে হবে। ঘরে বাইরে বিপদের কমতি নেই। এই সময় প্রকৃত বন্ধু ও মিত্রের সঙ্গে থাকা দলে তাদের জায়গা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যত সুখকর হবে না। বাংলাদেশ ভাল থাকলেই আমরা দেশে-বিদেশে সবাই ভাল থাকব। এখনও শেখ হাসিনাই আমাদের শেষ ভরসা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT