ঢাকা, রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সরবরাহ সংকটের অজুহাত নিত্যপণ্যের মতো ফল ফুলের দামও চড়া

প্রকাশিত : 09:32 AM, 14 September 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানীতে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যেই নয় ফুল ও ফলের দামেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের ফল ও ফুল বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে। এতে ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। বিত্তবান ও অনেক মধ্যবিত্ত দামের সঙ্গে চাহিদার সমন্বয় করলেও খেটে খাওয়া মানুষ এসব পণ্য কেনার চিন্তাই করতে পারছে না।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ও ফল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে রোববার জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩২০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৫০-১৮০ টাকা। প্রতি কেজি সবুজ আপেল ৩০০ টাকা, এক মাস আগে ছিল ২২০ টাকা। লাল আপেল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, ১৫ দিন আগে ১৮০ ও এক মাস আগে ১৬০-১৭০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি বড় আকারের কমলা ৩০০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা। প্রতি কেজি ডালিম ৩৮০-৪০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৩০০ টাকা।

রাজধানীর সর্ববৃহৎ পাইকারি ফলের বাজার বাদামতলী ঘুরে আড়তদারদের সঙ্গে রোববার কথা বলে জানা গেছে, প্রতি ঝুড়ি (১৫ কেজি) মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল দুই হাজার টাকা। প্রতি ঝুড়ি (১৫ কেজি) আপেল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৬০০ টাকা, এক মাস আগে ছিল দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

পাশাপাশি আফ্রিকান আপেল প্রতি ঝুড়ি (১৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা। ১০ কেজি ওজনের প্রতি ঝুড়ি ছোট আকারের কমলা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল দুই হাজার টাকা।

দাম বাড়ার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির ঈদের পর থেকে সব ধরনের ফলের দাম বাড়ছে। বাজারে এই মুহূর্তে বড় কমলা একেবারেই নেই। যা আছে তা ছোট আকারের। ফল মূলত আফ্রিকা, চায়না, মিশরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। করোনার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে সব ধরনের ফল আসতে একটু দেরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে আসার পর বন্দরগুলো থেকে কন্টেইনার ছাড় করতে বিলম্ব হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন পাঁচ কন্টেইনার ছাড় করা হতো, সেখানে এখন এক কন্টেইনার ছাড় হচ্ছে। আর বাকিগুলো সেখানেই ফ্রিজার করে রাখতে হচ্ছে। যে কারণে ব্যয় বাড়ছে। ফলে দামও বেড়ে যাচ্ছে। তবে দুই এক মাসের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে।

তবে রাজধানীর খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ও পাইকারি আড়তে ফলের কোনো সংকট দেখা যায়নি। আড়তগুলোতে ঝুড়িতে ঝুড়িতে সাজানো আছে ফল। খুচরা বিক্রেতারা চাহিদামতো ফল আনতে পারছেন। পাশাপাশি খুচরা দোকানেও ফলের সরবরাহ সংকট নেই। বাজার ও এলাকার দোকানে বিভিন্ন ধরনের ফল থরে থরে সাজানো আছে। বিক্রেতারাও হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করছেন, তবে বাড়তি দরে।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খুচরা ফল বিক্রেতা মো. জামিল বলেন, আড়তে ফলের কোনো সংকট নাই। তারা সংকটের অজুহাত দিয়ে কয়েক মাস ধরে বেশি দরে বিক্রি করছে। ফলে বাড়তি দরে এনে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর ফুলের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দরে। রাজধানীর শাহাবাগে ফুলের আড়ত ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার এক আঁটি (১০০ পিস) রজনিগন্ধার স্টিক বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৪০০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৩০০ টাকা। মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে এক হাজার ১০০ টাকা। একশ পিস গোলাপ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়, এক মাস আগে ছিল ৭০০ টাকা। একশ পিস গ্লাডিওলাস দুই হাজার ৫০০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হেয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়। মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০০ টাকা।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাহবাগের অনন্যা পুষ্প বিতানের মালিক লোকমান হোসেন বলেন, করোনাকালে ফুল চাষিরা ক্ষেতে পরিচর্যা কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষেত ভেঙে নতুন করে নিড়ানি দিয়ে শীতকে কেন্দ্র করে ফুলের চাষ শুরু করে। যে কারণে অভ্যন্তরীণভাবে ফুলের সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকে যেসব ফুল এখন দেশে আসে তা বিমানে আনতে হয়। যে কারণে ব্যয় বেশি হয়। ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে রাজধানীর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, করোনাকালে কয়েকটি দিবসে দেশের বড় বড় ফুল ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেননি। তাই লকডাউন উঠিয়ে দেওয়ার পর কিছু কিছু স্থানে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। ফুলের বাজার চাঙা হতে শুরু করেছে। যে কারণে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি দামে বিক্রি করছে। পাইকারদের কাছ থেকে বাড়তি দরে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, প্রতিদিন অধিদপ্তরের একাধিক টিম নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে। সে সময় ফলের বাজার তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফুলের বাজারেও আমরা তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করব। অনিয়ম পেলে দায়ীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT