ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সরবরাহ বেড়েছে শীতকালীন সবজির, দাম সামান্য কমেছে

প্রকাশিত : 08:18 PM, 13 November 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ বাড়ায় শীতকালীন সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবে বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত দাম আরও কমা উচিত বলে মনে করেন ভোক্তারা। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ যেভাবে বাড়ছে তাতে আশা করা যায়, শীঘ্রই সবজির দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আলু এখনো ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন ও মশুর ডালের দাম বাড়লেও কমেছে ডিম এবং আদার দাম। চাল ও আটার দাম স্থিতিশলী রয়েছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। কিছুটা কমে দেশী পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। ইলিশ মাছের সরবরাহ বাড়লেও দেশী মাছের দাম চড়া। ব্রয়লার মুরগিসহ মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার রাজধারীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, মুগদা বড় বাজার, খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট এবং মালিবাগ রেলগেট বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে সবধরনের শাক-সবজির সরবরাহ বাড়ায় পাইকারিতে গড়ে ১০-১৫ শতাংশ করে দাম কমেছে বলে ধারণা করছেন পাইকার ও আড়তদার ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে শিম বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা এবং তার আগের সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। এছাড়া দেশি টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকায়, মুলা ৩০ টাকায়, ঝিঙা, ধুন্দুল ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এসব পণ্যে কেজিতে কমেছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা করে। তবে এখনও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, ফুল কপি, বাঁধা কপি, কচুমুখী, শসা ও গাজর। পেঁপে ৪০, ঢেঁড়শ ৫০, গাজর ৮০-৯০ টাকা কেজি, ছোট আকারের কপি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক মাসে সবজির দাম যেভাবে বেড়ে গেছে তাতে এই দামেও ক্রেতারা খুশি নয়। ক্রেতাদের মতে, সবজির দাম আরও কমা উচিত। পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজার থেকে সবজি কিনছিলেন ওয়ারীর বাসিন্দা হান্নান সেক। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই সবজির দাম চড়া। তবে এখন শীতকালীন সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। দাম সামান্য কমলেও দ্রুত আরও কমা উচিত। এত দাম দিয়ে সাধারণ মানুষ সবজি খেতে পারবে না। এছাড়া শুক্রবার খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট কাঁচাবাজারে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে শিম, করলা। মুলার দাম প্রতিকেজি ৫০ টাকা। অন্যান্য সবজির দামও ছিল অপরিবর্তিত। তবে বিভিন্ন স্থানে এদিন ভ্যানে প্রতিকেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে শিম।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের শুরুতে বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জসহ অধিকাংশ জেলার সবজির বীজতলা। এরপর থেকেই সব ধরনের সবজির দাম বাড়তে শুরু করে। বিক্রেতরা বলছেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন স্থানে অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে আরও এক দফায় সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এসব কারণে এবছর দীর্ঘ সময় ধরে সবজির দাম বাড়তি ছিল। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ঢাকায় সবজি আসা বেড়েছে অন্তত ২০ শতাংশ। ফলে দামও ধীরে ধীরে কমছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে হয়। এছাড়া বাজাওে পেঁয়াজ ও আলুর দাম অপরিবর্তিত থাকলেও রসুন ও আদার দাম খানিকটা কমে এসেছে। চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৮০-৯০ টাকায়, আদা ৯০-১১০ টাকায়।

এছাড়া বাজারে চাল ও আটার দাম অপরিরর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৫৪-৬২, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৪৮-৫৬ এবং মোটা চায়না ইরি ও স্বর্না ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। নতুন ধান কাটা শুরু হওয়ায় শীঘ্রই চালের দাম কমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বেড়ে খোলা সয়াবিন প্রতিলিটার ৯৫-৯৮ এবং পাঁচ লিটারের বোতল ৫১০-৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি মশুর ডাল ৭০-১২০ টাকা এবং প্রতিহালী ডিম ৩৩-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩০, মুরগি দেশী প্রতিপিছ ৪০০-৫৬০ এবং প্রতিকেজি খাসি ৭৫০-৮৫০ এবং প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫৫০-৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ বাড়লেও দেশী মাছের দাম কমছে না। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT