ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সরকারী চাকুরে বরাদ্দকৃত বাসায় না থাকলে বাড়িভাড়া বাদ

প্রকাশিত : 10:28 AM, 23 December 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

সরকারী যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে সরকারী বাসা বরাদ্দ রয়েছে, সেটা ব্যবহার করতে হবে। বরাদ্দকৃত বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ যে সরকারী বরাদ্দ আছে তা পাবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যাদের নামে সরকারী বাসা বরাদ্দ হবে, তাদের সেই বাসাতেই থাকতে হবে। প্রত্যেকটা উপজেলায়ও একটি করে মাস্টারপ্ল্যান করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি করে মাস্টারপ্ল্যান করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় তিন হাজার ৩০৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে এক হাজার ২৪৫ কোটি ৩০ লাখ, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০ কোটি ৯৮ লাখ ও বিদেশী ঋণ দুই হাজার ৪২ কোটি আট লাখ টাকা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী/সচিবরা শেরেবাংলানগর থেকে একনেক সভায় অংশ নেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাসহ বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, সরকারী কোয়ার্টার বা বাসা যেগুলো সরকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বানানো হয়েছে কিন্তু সেগুলোতে তারা থাকেন না। কারণ হিসেবে আইডেন্টিফাই হয়েছে সরকারী বেতন বৃদ্ধির ফলে এখন যে হাউস রেন্ট (বাড়ি ভাড়া) পাওয়া যায়, সেটার চেয়ে কম পয়সায় বাইরে বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এই জন্য বাসাগুলো তৈরি থাকে কিন্তু অব্যবহৃত থাকে এবং নষ্ট হয়। ফলে একটা নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন যে যাদের নামে বাসা বরাদ্দ হবে বিশেষ করে নির্ধারিত বাসা সেগুলোতে তাদের থাকতেই হবে। যদি তারা (সরকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা/কর্মচারী) না থাকেন তবে বাড়ি ভাড়া বাবদ যে ভাতা পান, তা পাবেন না। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্দেশনার কথা জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোন রেট সিডিউল বা ক্রয় প্রাক্কলন না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এলজিইডি, ওয়াপদা ও সড়ক বিভাগ তাদের রেট সিডিউল পরিবর্তন করে। অনেকবারই এরকম পরিবর্তন করার কারণে প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। এমন প্রসঙ্গ তুলে তিনি এই নির্দেশনা দেন। কোন প্রকল্পের প্রস্তাব এলে সিডিউল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কি না, তা খতিয়ে দেখতে পরিকল্পনা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যত্রতত্র বিল্ডিং করতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্যাম্পাসের যেখানে সেখানে যেন অপরিকল্পিতভাবে ভবন তৈরি না করে বা খেলার মাঠ নষ্ট না করে। এজন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকটা উপজেলায়ও একটি করে মাস্টারপ্ল্যান করতে বলেন। কারণ যেহেতু আমরা প্রত্যেকটা উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামসহ অনেক স্থাপনা তৈরি করছি। তাই ওই মাস্টারপ্ল্যানে কোথায় কী হবে, তা যেন সন্নিবেশিত থাকে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মান নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যেখানে ভূ-পৃষ্ঠের উৎস থেকে পানি পাওয়া সম্ভব সেখানে সেই পানি ব্যবহার করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন প্রকল্পটি সংশোধিত অনুমোদনকালে প্রিপেইড মিটার নিয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব এলাকায় যেন প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হয়, বিশেষ করে শিল্প এলাকায় যেন দ্রুত প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় নরসিংদী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৫ কোটি টাকা। শিল্পাঞ্চলসহ পুরো নরসিংদী জেলায় ভারি যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্ত করে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমিয়ে আনতে ‘নরসিংদী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় জেলায় ১৪টি মার্কেটও নির্মাণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের সারাংশ তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মোঃ জাকির হোসেন আকন্দ। তিনি বলেন, নরসিংদী এলাকার সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প এবং কৃষি ও অকৃষি অর্থনীতির সঞ্চালনের জন্য এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। নরসিংদী হচ্ছে একটি শিল্প প্রধান জেলা। কিন্তু ওই জেলার অবকাঠামো শিল্প পণ্য নিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত নয়। তাই ওই জেলার উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকার সড়ক উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীণ জনগণের জন্য গ্রাম বাজার, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সুবধিা বৃদ্ধি করে শহরের সুবিধা গ্রামাঞ্চলে সৃষ্টি করার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদের সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্প হলো- রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প; প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে এর ব্যয় ২৫৯ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। সংশোধনীর মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় হচ্ছে ৫৯৯ কোটি টাকা।

খুলনা জেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পটি প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৭ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৯৬ কোটি টকা। এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি থেকে ১ হাজার ৮৩২ কোটি টাকার ঋণ পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেন। ব্রিফিংয়ে সচিব বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩০টি জেলার মোট ৯৮টি উপজেলায় বসবাসকারী প্রায় সাড়ে ৪ মিলিয়ন বা ৪০ লাখ লোক তাদের বাসভবনে নিরাপদে পরিচালিত ওয়াশ সুবিধা পাবেন। আরও প্রায় ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ লোক বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকসহ জনসমাগমপূর্ণ স্থানে নিরাপদে পরিচালিত স্যানিটেশন সুবিধাগুলো পাবেন। এছাড়া প্রায় ২৫ লাখ লোক কাউন্টার পার্টের (পিকেএসএফ) তহবিলের মাধ্যমে নিরাপদে পরিচালিত ওয়াশ সুবিধাগুলো পাবেন।

এছাড়াও প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন প্রকল্পটি দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করা হয়েছে। এবার প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৭৫৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ৬৫১ কোটি টাকা। সচিব আসাদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে সব গ্যাস সংযোগে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

একনেক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT