ঢাকা, রবিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম

সমঝোতার ভিত্তিতে চীন-রাশিয়া দেশে দেশে ভ্যাকসিন বেচছে

প্রকাশিত : 11:05 AM, 19 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

করোনা ভ্যাকসিনের বাজারজাতকরণে ভিন্ন পথে হাঁটছে রাশিয়া এবং চীন। দুটি দেশই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তৃতীয় কোন দেশে করোনা ভ্যাকসিন রফতানি করছে। ইতোমধ্যে চীন থেকে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ইন্দোনেশিয়া পৌঁছেছে। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে তাদের ভ্যাকসিন কেনার জন্য বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে।

মার্কিন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন প্রয়োগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে, কানাডার পর সৌদি আরবেও কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মেক্সিকো, চিলিসহ যারা ফাইজারের কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনেছিল তারাও এই ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে মর্ডানার করোনা ভ্যাকসিনও যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। মার্কিন দুই প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন নিয়ে যতটা মাতামাতি হচ্ছে তার ধারে কাছেও নেই চীন এবং রাশিয়ার ভ্যাকসিন। কিন্তু এই দুই দেশও সবার আগে ভ্যাকসিনের জরুরী ব্যবহার অনুমোদন করেছে। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই অনুমোদন দেয়াতে এই দুই দেশের ভ্যাকসিন নিয়ে অনাস্থা রয়েছে। তবে যেসব দেশে চীন এবং রাশিয়া তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চালিয়েছিল সেই দেশগুলো ভ্যাকসিন কেনায় আগ্রহী হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন মার্কিন দুই প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিনের সংরক্ষণ তাপমাত্রা মাইনাস ৭০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। এই তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা সৃষ্টি করাই একটি চ্যালেঞ্জ। যদিও ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীরা বলছে তারা নিজেরাই সংরক্ষণাগার তৈরি করে দিচ্ছে। তবে এর পরেও দীর্ঘ সময় তাপমাত্রা ঠিক রেখে সংরক্ষণ করাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভ্যাকসিন বিক্রেতারা নিম্নতাপমাত্রায় সংরক্ষণাগারের জন্য এখন টুনা মাছ প্রক্রিয়াকরণ কারখানার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সাগর থেকে টুনা মাছ আহরণের পর তা দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৬০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখতে হয়। তবে এই তাপমাত্রায় বিপুল সংখ্যায় ভ্যাকসিন পৌঁছানোকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঠিক এই জায়গাটিকে কাজে লাগাচ্ছে চীন এবং রাশিয়া। দুটি দেশের করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা যায় দুই থেকে আট ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়। ফলে অধিকাংশ দেশই খুব সহজে এখান থেকে ভ্যাকসিন নিতে পারবে বলে ধারণা করছে তারা।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন বলছে, চীনের সিনোভ্যাকের ১২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছে ইন্দোনেশিয়া। আগামী জানুয়ারিতে আরও ১৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ইন্দোনেশিয়াতে পৌঁছাবে বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলছে সিনোভ্যাক শুধু ভ্যাকসিনই বিক্রি করছে না তারা ইন্দোনেশিয়াতে ৪৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এই ভ্যাকসিনগুলো ইন্দোনেশিয়াতেই উৎপাদন করবে। চীনা সংবাদ মাধ্যমগুলো দাবি করছে তুরস্ক এবং ব্রাজিলও তাদের কাছে ভ্যাকসিন কিনেছে। তবে দেশ দুটি তাদের দেশে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। রাশিয়ার তৈরি স্পুটেনিক ভি ভ্যাকসিনের উৎপাদনকারীরা দাবি করছে তাদের ভ্যাকসিনটি ৯১ দশমিক চার ভাগ কার্যকর। মার্কিন দুই প্রতিষ্ঠানের মতোই কার্যকর এই ভ্যাকসিনটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুমুল আলোচনা নেই। তবে রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) এর তরফ থকে তাদের ভ্যাকসিন নিয়ে বিভিন্ন দেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। তবে এখনও নিজেদের দেশের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে তারা ভ্যাকসিন সরবরাহ করেনি। তবে কয়েকটি দেশে তারা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা চালিয়েছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা স্পুটেনিক এক প্রতিবেদনে বলছে বিশ্বর ৫০ দেশ ইতোমধ্যে এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে। খুব শীঘ্রই ইউক্রেনে স্পুটেনিক ভি ভ্যাকসিনের উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে আরডিআইএফ। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বের ওষুধ প্রশাসনগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শক্তিশালী এই দুই প্রশাসনের অনুমোদন না পেলেও ভ্যাকসিনের কার্যকরিতার প্রমাণ থাকাতে বিভিন্ন দেশ চীন ও রাশিয়ার ভ্যাকসিনের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT