ঢাকা, বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

সনাতন-ধর্মাবলম্বীদের-ধর্

প্রকাশিত : 09:24 PM, 15 October 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

সহকর্মী নারীদের ধর্ষণ, নারী লাঞ্চনা, ত্রানের টাকা লুটপাট, ফাঁয়দা লেটার রাজনীতি, আর শীর্ষ কয়েক নেতার স্বেচ্ছাচারিতায় ভেঙ্গে গেল বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কোটা সংস্কার ও সড়ক আন্দোলননে আলোচিত এ সংগঠন থেকে অপকর্মের জন্য শীর্ষ তিন নেতা নূরুল হক নূর, রাশেদ খান, ফারুক হোসেনকে অবাঞ্চিত করে ২২ সদস্যের নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহকর্মীর ধর্ষণ মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা।

নারী ধর্ষণ, নারী লাঞ্চনা, ত্রানের টাকা লুটপাট, ফাঁয়দা লেটার রাজনীতি নিয়ে শীর্ষ কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভের খবর কদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো। ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরসহ ছয় নেতার বিরুদ্ধে এক সহকর্মীকে ধর্ষণ ও ধর্ষনে সহযোগীতার মামলার পর বিরোধ আরো চাঙ্গা হয়। এর জেরেই আসলো ভাঙ্গন ও নতুন কমিটির ঘোষণা। সংবাদ সম্মেলন করে ২২ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করে বলা হয়েছে, নুর স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন, সংগঠনের আর্থিক বিষয়ে অস্বচ্ছতা তৈরি করেছেন। নানা সময় প্রশ্ন করেও জবাব মেলেনি। তাই তারা এই পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ধর্ষণের শত অপরাধ করেও ফাঁয়দা লোটার রাজনীতি করছেন নূর ও তার সহযোগী অপরাধীরা। সংগঠনপির আগের নাম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামেই নেতৃবৃন্দ এবার নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন। নূর রাশেদদের সংগঠনের পরিচিত মূখ ও যুগ্ম আহবায়ক এ পি এম সুহেল হয়েছেন নতুন কমিটির আহবায়ক। নূর রাশেদদের সংগঠনের আরেক পরিচিত মূখ ও যুগ্ম আহবায়ক এবং ঢাকা কলেজের আহবায়ক ইসমাইল সম্্রাট হয়েছেন নতুন কমিটির সদস্য সচিব। এছাড়া সাবেক দুই যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু ও মুজাম্মেল মিয়াজি নতুন কমিটির উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন।

কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হয়েছেন মোঃ আমিনুর রহমান (প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক খুলনা বিভাগ, যুগ্ম আহবায়ক কেন্দ্রীয় কমিটি) জালাল আহমেদ (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আব্দুর রহিম ( প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক সিলেট বিভাগ)। মোঃ আমিনুল হক রুবেল (সাংগঠনিক সম্পাদক সুনামগঞ্জ জেলা এমসি কলেজ)। রিয়াদ হোসেন (যুগ্ম আহবায়ক সরকারি বাংলা কলেজ), মোঃ সেলিম (যুগ্ম আহবায়ক ঢাকা কলেজ), শাকিল আদনান (যুগ্ন আহবায়ক তিতুমীর কলেজ), নাদিম খান নিলয় (সদস্য ঢাকা মহানগর), পৃথু হামিদ (সদস্য ঢাকা মহানগর), একেএম রাজন হোসাইন (সদস্য ঢাকা মহানগর), মোঃ সাইফুল ইসলাম (সদস্য ঢাকা মহানগর), সাজ্জাদুর রহমান রাফি( সদস্য ঢাকা মহানগর), আফরান নাহিদ নিশো (সদস্য ঢাকা মহানগর), জাহিদুল ইসলাম নোমান (যুগ্ম আহবায়ক ঢাকা কলেজ) আর যুগ্মসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন সৈয়দ সামিউল ইসলাম (সদস্য, ঢাকা মহানগর)। সদস্য হিসেবে আছেন আগের কমিটির মিজানুর রহমান মুশফিক, মোঃ সিয়াম, মোঃ জুনায়েদ।

নতুন সংগঠকদের ঘোষণা দিয়ে আহবায়ক এ পি এম সুহেল বলেছেন, ‘মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস নিয়ে নোংরা রাজনীতি, নুর-রাশেদদের আর্থিক অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা, সহযোদ্ধাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অবমূল্যায়ন করা এবং সম্প্রতি এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর করা ধর্ষণের মামলাকে নোংরা রাজনীতিকিকরণের অপচেষ্টার’ প্রতিবাদে কমিটিতে এই ‘সংস্কার’ করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের অনুষ্ঠানে সংগঠনের নাম সংক্ষিপ্ত করা হয়, যার বিরোধিতা করেছিলাম আমরা অনেকেই।

ডাকসু’র মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাড়হুড়ো করে রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে তিনটি অঙ্গ সংগঠন তৈরি করা হয় ছাত্র অধিকার পরিষদ এর উদ্যোগে। যেখানে এসব সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত অজানা আমাদের কাছে। এর ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয় ও এর বিরোধিতা করেন সংগঠনের তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

কিন্তু একক সিদ্ধান্তে রাজনীতি করার প্রক্রিয় শুরু হয়। যা একপ্রকার স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সেই সঙ্গে চরম বিরোধ সৃষ্টি করে সংগঠনের অভ্যন্তরে। বিভিন্ন কারণে তরুণদের রাজনীতি বিমুখতায় তারুণ্যনির্ভর এ দলের আত্মপ্রকাশ সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু গণমানুষের কথা বলে সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে, মুখের আড়ালে মুখোশ পরে আছে ভয়ঙ্কর কিছু সত্য, যা সংগঠনের প্রায় সবাই জানে, কিন্তু প্রকাশ করতে চায় না। এমনকি প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে নূর যে সংগঠন বানিয়েছে তার একমাত্র উদ্দেশ্য, আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের কষ্টর্জিত টাকা লোপাট করা।

সদস্য সচিব ইসমাইল স¤্রাট ন বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতিমুক্ত সামাজিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা। ছাত্র অধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত অজানা আমাদের কাছে। এর ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়। সংগঠনের স্বার্থে এবং তাদেরকে শোধরানোর সুযোগসহ নানা বিষয় চিন্তা করে তারা এতদিন চুপ ছিলেন। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় সকল কিছু বিবেচনা করে নুর-রাশেদদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলমান সকল অনিযয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে একটি বৈষম্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে এবং সারা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে আমাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলাম।

স¤্রাট আরো বলেন, গুটিকয়েক নেতার অহমিকা, অহঙ্কার, একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে সাংগঠনিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে আমাদের হাজারও মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সংগঠন। এরই ফলশ্রুতিতে একে একে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাস্কর এবং দুঃখজনক। এদের অসাংগঠনিক মনোভাবের বিরুদ্ধে কথা বললে শিবির, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, গোয়েন্দাদের এজেন্টসহ অন্যান্য ট্যাগ দেয়া, মানসিক রোগী বানিয়ে দেয়া সাময়িক অব্যাহতির নামে হেনস্তা করাসহ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয় এরা। যেহেতু মানুষ এদের অন্ধভাবে বিশ্বাস করে, এরা এটাকেই নোংরাভাবে ব্যবহার করে। নতুন কমিটি তৈরি করার ক্ষেত্রে সদ্য আসা নতুন সদস্যদের উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে পুরাতনদের অবমূল্যায়ন করা তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটের চাপা ক্ষোভ ছিল। যার ফলে সংগঠনের ভেতরে ২১টি ইউনিট বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।

এমতাবস্থায় সবকিছু বিবেচনা করে নুর, রাশেদদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলমান সব অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে একটি বৈষম্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধির বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে সাথে নিয়ে আমাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলাম।

এদিকে জানা গেছে, সংগঠনের এমন আকষ্মিক ধাক্কায় কোনঠাসা নূর ও তার কয়েক সহযোগী। নূর ও রাশেদ ছাড়া তেমন কোন নেতা প্রকাশ্যে নেই। নতুন কমিটি ঘোষণাকে অবশ্য হাতে লেখা এক বিবৃতিতে আশেদ ঘটনাকে সরকারের ষড়যন্ত্র অংশ বলে দাবি করেছেন। দুই নেতাই বলেছেন, ‘আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফত জানতে পেরেছি যে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় বহিস্কৃত এপিএম সুহেল বিভিন্ন সংগঠনের কয়েকজনকে নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের পূর্ববর্তী নাম ব্যবহার করে একটি কমিটি ঘোষণা করেছে। সেখানে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, ঈসমাইল সম্রাট এবং ৩৫ আন্দোলনের একাংশের মুজাম্মেল মিয়াজিসহ কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা গেছে।

অতীতে আমাদের কিছু সার্বজনীন আন্দোলনে তাদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলেও, তাদের কেউ আমাদের সংগঠনের সাথে যুক্ত নন। আমরা মনে করি, তাদের এই কর্মকান্ড আমাদের পথচলাকে ব্যাহত করতে সরকারের দমন-পীড়ন এবং চলমান ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ মাত্র।’

তবে তাদের এ বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। আহবায়ন সুহেল বলেছেন, আসলে এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ফোন কল ও ম্যাসেজের মাধ্যমে হুমকি ধামকি দেয়া হয়। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেও এমনটা করা হয়েছে। অন্যায় নিয়ে কিছু বললেই এসব ট্যাগ দেয়া হতো তাদের (নূর-রাশেদের) পক্ষ থেকে। এখনো তাই করছে তারা। এটা নুতন কিছু না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT