ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শোকজেরও তোয়াক্কা করছে না আরামিট সিমেন্ট

প্রকাশিত : 09:34 AM, 8 March 2021 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি আরামিট সিমেন্ট ডিএসই’র শোকজকে তোয়াক্কা করছে। কোম্পানিটির অস্বাভাবিক শেয়ারের দর বাড়ার কারন না থাকলে হু হু করে বাড়ছে। গত এক মাসের ব্যবধানে শেয়ারের দাম বাড়ছে প্রায় দ্বিগুন। গত ২ মার্চ কোম্পানিটিকে শেয়ারের দর বাড়ার কারন জানতে চাইলে ডিএসইকে গৎবাঁধা উত্তর দিচ্ছে দর বাড়ার কারন নেই। এরপর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে কোম্পানিটি শেয়ারের দর বাড়ার সব্বোর্চ অবস্থান করছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে আরামিট সিমেন্টের শেয়ার নিয়ে ইনসাইডার ট্রেডিং বা সুবিধাভোগী লেনদেনের ঘটনারও কিছু তথ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা তদন্ত করলে আসল রহস্য বেড়িয়ে যাবে। এছাড়া মুল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া শেয়ারের দর বাড়া বাজারের জন্য অশনি সংকেত। এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নজরদারীতে দাপট কমছে না এ ঝুঁকিপুর্ণ কোম্পানির।

এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এক ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন বাজার নিয়ে বারবার কারা খেলছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য কি এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার খতিয়ে দেখা উচিত। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীল করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সব ধরনের বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা যার যতটুকু সাধ্য তা নিয়ে চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে অ্যারামিট সিমেন্টকে চিঠি দেয় ডিএসই। ওই চিঠির জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ গত ২ মার্চ জানিয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই অ্যারামিট সিমেন্টের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ার ২০.২০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। এরপর কোম্পানির শেয়ারের দাম টানা বেড়ে বৃহস্পতিবার ২৬.২০ টাকায় লেনদেন হয়। রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ার সর্বোচ্চ ২৮.৫০ টাকায় লেনদেন হতে দেখা গেছে। ১৯৯৮ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আরামিট সিমেন্ট বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে অধ্যাপক আবু আহম্মেদ বলেন, আরামিট সিমেন্ট মত দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম ১ মাসে প্রায় দ্বিগুন হওয়া স্বাভাবিক লক্ষণ নয়। এর পেছনে কারসাজি জড়িত। এ ধরনের দুর্বল কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এছাড়া কোম্পানিটি বছরের পর বছর কোনো লভ্যাংশ দেয় না। হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই দাম বাড়ছে। আবার কয়েক দিন পর বড় দরপতন হয়। আরামিট সিমেন্ট কারসাজি কিনা বিএসইসি তদন্ত করা উচিত।

এদিকে গত এক মাসে আরামিট সিমেন্টর শেয়ারের দাম প্রায় দ্বিগুনের কাছাকাছি। তবে গত সপ্তাহে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে পচা ‘ জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট। কথা হলো শেয়ারের এমন দাম হলেও ১৯৯৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভালো না। ২০১৬ সালে বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটি এরপর আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

ফলে শেয়ারবাজারের পচা ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হয়েছে কোম্পানিটির। চলমান হিসাব বছরেও কোম্পানিটি খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। ২০২০ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৯ পয়সা মুনাফা দেখালেও, ছয় মাসের (২০২০ সালের জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাবে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২৩ পয়সা লোকসানে রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT