ঢাকা, মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শেষ হয়নি এখনো বহু কিছু বাকি

প্রকাশিত : 05:58 PM, 8 November 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

‘যুক্তরাষ্ট্রের গভীরতম সমস্যাগুলোর অতি সহজ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প’—নিজের সম্পর্কে এই গর্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন নেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমি একাই সব কিছু ঠিকঠাক করে দিতে পারি।’ চার বছর নানা ঘটনা-অঘটনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র চালিয়ে ‘একাই এক শ’ ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য লড়েন। কিন্তু জনগণ তাঁকে আর সে সুযোগ দিল না। দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে ব্যর্থদের কাতারে নাম লেখালেন ট্রাম্প।

ভোটাররা বুঝিয়ে দিলেন, চার বছরে ট্রাম্প কিছু ঠিক তো করতে তো পারেনইনি বরং বহু ক্ষেত্রে ঝামেলা পাকিয়েছেন, লঙ্ঘন করেছেন বহু আইন-রীতি। বিশ্লেষকরাও বলে এসেছিলেন, ১৯৭০-এর দশকের পরে ট্রাম্পের আমলেই সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার ভোট শেষে গণনা শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে জয়ী হিসেবে দাবি করতে থাকেন। দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর ভোটগণনা বন্ধ করার আহ্বান জানান। অভিযোগ তোলেন, বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে যে তারা তাঁর জয় চুরি করার সব চেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটগণনা থামানোর জন্য মামলাও করেছেন কয়েক ডজন। মোটকথা, গণতন্ত্রে শিষ্টাচার বলতে যে বিষয়টি রয়েছে, সেটি ভাঙতে থাকেন তিনি।

ভোটগণনায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে কয়েক দিন ধরে ফল ঝুলে থাকে। শুক্রবারও ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনে পরাজয় তিনি স্বীকার করবেন না। তিনি টুইট করেন, ‘অন্যায়ভাবে প্রেসিডেন্সি দাবি করা বাইডেনের ঠিক হবে না। ওই দাবি আমিও করতে পারি।’ আর এরপর গতকাল শনিবার তিনি চলে যান ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টার্লিংয়ে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে। নির্বাচনের পর এই প্রথম তিনি হোয়াইট হাউস থেকে বের হন।

গতকাল সংবাদমাধ্যমে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার খবর প্রকাশের পরও ট্রাম্প ‘পরাজয় স্বীকার না করার’ অবস্থান ধরে রাখেন। বলেন, ‘জো বাইডেন কেন তাড়াহুড়া করে জয়ী হওয়ার মিথ্যা ঘোষণা দিলেন তা আমরা সবাই বুঝি। নির্বাচন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো বহু কিছু বাকি।’ এর আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নির্বাচনের কারচুপির অভিযোগ করেন। ডাক ভোটকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, অবৈধ ভোটগুলোই তাঁর পরাজয়ের কারণ। ডাকে ভোটগ্রহণ নির্বাচনব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করে দিয়েছে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতির মাঠে নামা ট্রাম্প ২০১৬ সালে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই নানা কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের জন্য আলোচিত ও বিতর্কিত ছিলেন তিনি। গত চার বছরে আমেরিকায় বিভাজন সৃষ্টিকারী নীতি ও বক্তব্যের কারণে তাঁর প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। তাঁকে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ারও কথা উঠেছিল। মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কথা বলতে গিয়ে একবার তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকো থেকে ধর্ষণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন।

এ বছর ভোটের আগে-পরে ট্রাম্প মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় নিজ দল রিপাবলিকান পার্টিতেই বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজের মতো শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা তাঁর পক্ষ নিলেও ওই পর্যায়ের অনেক নেতা তাঁর বিরোধিতাও করছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সিনেটর মিট রমনির মতো প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা। তিনি বলেছেন, ‘ভোট গণনা করা হবে। যদি কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটির তদন্ত হবে এবং শেষ বিচারে আদালতে নিষ্পত্তি হবে। গণতন্ত্রের ওপর আস্থা রাখুন, আমাদের সংবিধান এবং আমেরিকার জনগণের ওপর আস্থা রাখুন।’

এ ছাড়া ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত পোষণকারী মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ল্যারি হোগান সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন খর্ব না হয়।

টেক্সাসের রিপাবলিকান নেতা উইল হার্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যক্রমকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা করছেন এবং কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই আমেরিকানদের বৈধ মতামত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এটা শুধু বিপজ্জনক ও ভুলই নয়, যে ভিত্তির ওপর আমাদের জাতি দাঁড়িয়ে আছে, সেটিকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্য নিয়ে অন্যদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন তাঁর দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প।

পরাজয় যে মানবেন না, সেই হুঁশিয়ারি নির্বাচনের আগেই দিয়েছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের পরও তাঁর অবস্থানের ব্যত্যয় হয়নি। টুইট করে তিনি সে অবস্থান পুনরায় জানান দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর প্রচারশিবিরও বিবৃতি দিয়ে ওই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ট্রাম্পের অশিষ্টাচার শুধু পরাজয় না মানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বাইডেনের উদ্দেশে কটু কথা বলার প্রবণতাও শুরু করেছেন তিনি, যা প্রকাশ পেয়েছে গত শুক্রবারের টুইটে। সূত্র : সিএনএন, বিবিসি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT