ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিশিরে ধোয়া চরণ, শীতের আগে শীত শীত অনুভূতি

প্রকাশিত : 08:26 AM, 8 November 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

সবুজ পাতার খামের ভেতর/হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে/কোন্ পাথারের ওপার থেকে/আনল ডেকে হেমন্তকে…। প্রকৃতির রুটিন আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরও আগেই এসেছিল হেমন্ত। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে দুই মাস পর পর রূপ বদলায় প্রকৃতি। সে ধারাবাহিকতায় কার্তিকের প্রথম দিন বাংলায় পা রেখেছিল হেমন্তলক্ষ্মী। প্রথম ক’দিন এই পরিবর্তন তেমন টের পাওয়া যায়নি। তবে এখন ঋতুটি বেশ সক্রিয়। নিজের প্রকৃত রূপ নিয়ে সামনে এসেছে। নামতে শুরু করেছে তাপমাত্রার পারদ।

শহর ঢাকাকে যান্ত্রিক নগরী বলা হয়। এ শহরে অধিকাংশ সময়ই গরমাগরম অবস্থা চলে। কিন্তু এখন হেমন্তের প্রভাবে বেশ ঠাণ্ডা প্রকৃতি। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস আছে যাদের তারা নিশ্চয়ই দেখছেন, এখন শিশির ভেজা ভোর। সবুজ ঘাসের ডগায় জমা হওয়া শিশির প্রতিদিন চরন ধুয়ে দিচ্ছে পথিকের। গাছের পাতা, ফুলের পাপড়ি চুইয়ে পড়া শিশির মাটি ভিজিয়ে দিচ্ছে। নরম মাটিতে খালি পায়ে হাঁটলে অদ্ভুত সতেজ অনুভূতি হয়। রোদও উঠছে নিয়ম করে। দিনের প্রথম ভাগে সূর্যরশ্মি এসে শিশিরের গায়ে পড়তেই মুক্তোদানার মতো চিকচিক করে উঠছে। সেদিকে তাকিয়ে কবি গুরুর বিখ্যাত পঙ্ক্তি মনে পড়ে যায়: ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/একটি ধানের শিষের উপরে/একটি শিশিরবিন্দু।’

হেমন্তের আরেক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে কুয়াশা। সে কথা জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা-/হিমের ঘন ঘোমটাখানি ধুমল রঙে আঁকা।/সন্ধ্যাপ্রদীপ তোমার হাতে মলিন হেরি কুয়াশাতে,/কণ্ঠে তোমার বাণী যেন করুণ বাষ্পে মাখা…। একই অনুভূতি থেকে জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন, ‘পা-লিপি কাছে রেখে ধূসর দ্বীপের কাছে আমি/নিস্তব্ধ ছিলাম ব’সে;/শিশির পড়িতেছিল ধীরে-ধীরে খ’সে;/নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি/উড়ে গেলো কুয়াশায়,-কুয়াশার থেকে দূর-কুয়াশায় আরো…।

অবশ্য এখনও অত ঘন হয়নি কুয়াশা। মূলত গ্রামাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে। ঢাকায়ও অল্পস্বল্প দেখা যায়। এখন শহরের কোন শূন্য প্রান্তরে দাঁড়ালে হাল্কা কুয়াশা ঠিক চোখে পড়বে। আগ্রহীরা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে ঘুরে আসতে পারেন। একটু বেশি রাতে গেলে কুয়াশার একদমই মিস হবে না।

এদিকে, রাতে ঝরতে থাকা শিশির আর কুয়াশার আবরণেই বিস্তার ঘটছে শীতের। কম বেশি ঠাণ্ডা অনুভ’ূত হচ্ছে। শীতের বাহন বলা হয় হেমন্তকে। হেমন্ত ঠিক সে কাজটিই করে চলেছে। ডেকে আনছে শীতকে। এখন থেকে যত দিন যাবে ততই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমতে থাকবে। পার্থক্য যত কমবে ততই বাড়বে শীত। এরই মাঝে প্রাক শীতের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র।

আবহাওয়া অফিসের তাপমাত্রা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েকদিনের ব্যবধানে রজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রী পর্যন্ত নেমে এসেছে। বিশেষ করে শনিবার সন্ধ্যানাগাদ সব বিভাগের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চলে আসে ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে। এমনকি দেশে দক্ষিণের জেলাগুলোতে আগের মতো গরমের ভাব নেই। সেখানেও তাপমাত্রা কমেছে।

বরাবরের মতো এবারও সবার আগে শীত জেঁকে বসেছে উত্তরবঙ্গে। জানা যাচ্ছে, হিমালয়ের অনেক কাছাকাছি হওয়ায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তীব্রতা বাড়ছে শীতের। গত প্রায় চার দিন ধরে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশাছন্ন হয়ে পড়ছে গোটা এলাকা। এছাড়াও বইছে পাহাড়ী ঠাণ্ডা হাওয়া। শনিবার সেখানে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ছিল ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। রাজশাহী, রংপুর এলাকায়ও শীতের আমেজ।

শহর ঢাকাতেও শীত শীত ব্যাপার চলছে। অনেকেই মোটা কাপড় গায়ে দিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। গায়ের ত্বকও হঠাৎ করেই শুকোতে শুরু করেছে। ঠোঁট টানছে খুব। সকালে যে রোদ সেটিও শীতের সকালের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। মিষ্টি রোদে উষ্ণতা খুঁজছে নগরবাসী।

অবশ্য প্রকৃত শীতের এখনও অনেক বাকি। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলছেন, এখন কিছুটা ঠাণ্ডা অনুভূত হলেও, শীত শুরু হয়নি। তার ব্যাখ্যা- বৃষ্টি হওয়ার কারণে সূর্যের আলো একটু সরে গেছে। তাই কিছুটা ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা আবার বাড়বে। হলেও ঢাকায় শীত শুরু হবে ২০ নবেম্বরের পর। আর শীত জাঁকিয়ে বসবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। তার আগ পর্যন্ত শুধু শীত শীত। এই শীত শীত সময়ে কিছু অসুখবিসুখ হচ্ছে বটে, উপভোগ করারও অনেক কিছু তাকে। একটু সতর্ক হোন। উপভোগ করুন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT