ঢাকা, মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে অবশেষে ফেরি চলাচল শুরু

প্রকাশিত : 02:46 PM, 12 September 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

৮দিন বন্ধ থাকার পর কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথে নবম দিনে বিকেল থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা থেকে নাব্য সঙ্কটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চ্যানেল সক্রিয় করতে ড্রেজার কর্তৃপক্ষের আপ্রাণ চেষ্টায় ড্রেজিং প্রায় শেষের পথে। শুক্রবার বিকেলে শিমুলিয়া ঘাট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩টি ফেরি ছাড়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে ৩টি ফেরি লোড করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও ফেরি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান শিমুলিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিকেলে যে ফেরি ছাড়া হয়েছে, তা ঠিকঠাক মতো কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পৌঁছলে শনিবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। ড্রেজিং কার্যক্রম চললেও কাজের অগ্রগতি দেখছে না ঘাটে আটকেপড়া যাত্রী ও চালকরা। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অচলবস্থা দেখা দিয়েছে দেশের ব্যস্ততম কাঁঠালবাড়ি শিমুলিয়া নৌপথে। এদিকে শুক্রবার বিকেলে পরীক্ষামূলকভাবে বীর শ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পৌঁছে। এর আগে ফেরিটি লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে আটকে যায়। আধাঘণ্টা পর ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। এরপর ফেরি ক্যামেলিয়া সফলভাবে পার হয়ে যায়। ৬টার আগে কে-টাইপ ফেরি কাকলি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ত্যাগ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ দিন ধরে ঘাটেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবহন ও ট্রাক চালকরা। অনেকের পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছে। ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটে জনমানুষ শূন্য হয়ে যাওয়ায় ঘাট এলাকার খাবার হোটেলগুলোর প্রায় বন্ধ। এতে খাবার সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে আটকে পড়া পরিবহন চালক ও হেল্পারদের। ¯্রােতের কারণে ভেসে আসা ময়লা আবর্জনা আটকে ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ড্রেজিংয়ে কর্মরত কর্মকর্তারা। পদ্মা নদীতে নাব্য সঙ্কট, তীব্র ¯্রােত ও পদ্মাসেতুর নিরাপত্তাজনিত কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। মূলত নাব্য সঙ্গটের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয় যাত্রী ও চালকদের। কাঁঠালবাড়ি ঘাটে কোন যানজট নেই। ফেরি চলাচলের খবর শুনে মানুষের মাঝে চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। লঞ্চ ও স্পীডবোট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটে যাত্রী চাপ তেমন নেই। বর্তমানে ৮৭টি লঞ্চ ও দেড় শতাধিক স্পিডবোট পদ্মায় চলাচল করছে। এই রুটে অচলবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় দৌলদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে চাপ বেড়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, পদ্মা সেতুর ২৫নং পিলারের কাছে চায়না ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ করা হয়। বেশ কিছু পলি জমে নৌপথের এক পাশ ভরাট হয়ে গেছে। চায়না ড্রেজারের পাইপ সরানোর কাজ চলছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিআইডব্লিউটিসি’র (শিমুলিয়া) মেরিন অফিসার আহমেদ আলী বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাট থেকে এখন ২টি ফেরি পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া হবে। এ জন্য দুটি ফেরি লোড করা হচ্ছে। কোন সমস্যা না হলে আরও ফেরি ছাড়া হবে। তবে রাতে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।’

মানিকগঞ্জ ॥ ১৩ দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল থেকে পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া নৌপথের মূল চ্যানেলে ফেরি চলাচল শুরু করেছে। নাব্য সঙ্কট সঠিক রাখার জন্য ৩০ আগস্ট থেকে পাটুরিয়া ঘাটের মূল চ্যানেলে ড্রেজিং শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতেই ওই চ্যানেলের নাব্য সঠিক করে তুলতে ৪ ড্রেজার দিয়ে টানা ১২ দিন কাজ করা হয়। তবে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু করতে না পারলে পাটুরিয়া ঘাটের অবস্থাও পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখার সম্ভব নয় বলে জানিয়েন বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তা।

শুক্রবার বিকেলের দিকে পাটুরিয়া ঘাটের দুটি ট্রাক টার্মিনালে তিনশতসহ পাঁচশতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা থাকতে দেখা গেছে। একই অবস্থা দৌলতদিয়া ঘাটের। সব মিলিয়ে দুই ঘাটে পাড়ের অপেক্ষায় প্রায় এক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে। এ ছাড়া গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ ছোটগাড়িরও চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT