ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শহরেও বাড়ছে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার

প্রকাশিত : 10:18 AM, 4 September 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দেশে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি পর্যায়ে সোলার হোম সিস্টেমে বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সাল থেকে। দুর্গম ও চরাঞ্চলে বিদ্যুতের সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়। এর পর পেরিয়ে গেছে ২৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে সোলার হোম সিস্টেমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার গণহারে বাড়ছে। চর এবং দুর্গম অঞ্চলেই এটি সীমাবদ্ধ নেই। খোদ শহরাঞ্চলে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। শুধু বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ নয়, সেচকাজসহ সৌরবিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রিড লাইনের পাশাপাশি এখন অনেকে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। সর্বক্ষণিক বিদ্যুত ব্যবহারের সুবিধা পেতেই অনেকে ঝুঁকছেন সোলার হোম সিস্টেমের প্রতি। ইডকলের হিসাব মতে, দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছেন ৬০ লাখ। সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। এই হিসাবের বাইরেও অনেকে এখন দোকান থেকে কিনেই বাড়িতে সিস্টেম স্থাপন করছেন। এছাড়া ডিভাইসের মাধ্যমে অনেকে ভাগাভাগি করেও সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বলতে গেলে গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এর পরও ব্যক্তি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণে। আগের চেয়ে সোলার হোম সিস্টেমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে অনেকগুণে। বিশেষ করে যেসব বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ রয়েছে এমন সব বাড়িতে বাড়তি ব্যবস্থা হিসেবে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করা হচ্ছে এই সিস্টেমের মাধ্যমে। ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বক্ষণিক বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর কারণেই তারা গ্রিড লাইনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের দিকেও ঝুঁকছেন। ফলে গ্রামের পাশাপাশি শহরে বা মফস্বল শহরে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে। তারা জানিয়েছেন, যখন গ্রিড লাইনের বিদ্যুত থাকে না তখন তারা সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করেন। লোডশেডিংয়ের সময়ে বাড়তি এই ব্যবস্থা হিসেবে সৌরবিদ্যুত বেশ কাজে দিচ্ছে। তারা জানান, দুই ধরনের বিদ্যুত ব্যবহারের কারণে সৌরবিদ্যুত অনেকটা অব্যবহৃত থেকে যায়। ফলে বিদ্যুত নষ্ট না করে ডিভাইসের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারছেন। ফলে একজনের থেকে অন্যরা এখন সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।

দেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে সোলার হোম সিস্টেম বা বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। এর আগে সরকারী পর্যায়ে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়। বেসরকারীভাবে ডাউন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমেই প্রথম চরাঞ্চল, দুর্গম এলাকা এবং গরিব ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হয়। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শক্তি প্রথম বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় এই কার্যক্রম হাতে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেন, সৌরবিদ্যুতের অধিক দামের কারণে প্রথমদিকে এটি ব্যবহারে অনেকেই আগ্রহী ছিল না। কিন্ত গ্রামীণ শক্তি ডাউনপেমেন্টের মাধ্যমে মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। এই পদ্ধতিতে কয়েক বছরের কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করে নিজেরাই তার মালিকানা পেতেন। ফলে বিদ্যুত ব্যবহারের জন্য গ্রিড লাইনের অপেক্ষায় থাকতে হতো না। এই সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে মানুষের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত নিয়ে আগ্রহ বেশ বেড়ে যেতে থাকে।

এখন আর সেই অবস্থায় নেই। তারা জানান, এখন যাদের ঘরে গ্রিড লাইনের বিদ্যুত রয়েছে তারাও সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করছেন বাড়তি সুবিধা বা সর্বক্ষণিক বিদ্যুত ব্যবহারের জন্য। এই পন্থায় উৎপাদিত বিদ্যুত ব্যবহারের পরও ব্যাটারিতে জমে থাকা অতিরিক্ত বিদ্যুত তারা বিক্রি করেও অর্থ আয় করছেন। ফলে দিন দিন সৌর বিদ্যুত মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে তার অবস্থানগত কারণে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের বেশ উপযোগী। বছরের প্রায় অধিকাংশ সময় সৌরবিদ্যুতের জন্য সূর্যের পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি যে বছর অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে সে বছরও প্রয়োজনীয় সূর্যালোক পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সোলার হোম সিস্টেমে বিদ্যুত উৎপাদনের কোন ধরনের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে না। নেই লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণাও। ফলে ইচ্ছমতো সৌরবিদ্যুত ব্যবহার এখন মানুষের হাতের নাগালে এসে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে এখন সৌরবিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে। শুধু বাসাবাড়িতেই ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সেচ থেকে শুরু করে, সড়কবাতিতে ব্যবহার, ইকো ভিলেজ তৈরিতে সোলার বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। সরকার টিআর, কাবিখার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভবন নির্মাণে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার নীতিমালা থাকায় ব্যবহার বাড়ছে বহুগুণে। ফলে রাজধানী ঢাকায় বহুতল ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে সারি সারি সোলার প্যানেল।

গ্রামীর শক্তি মহাব্যবস্থাপক ওয়াসিম রেজা জনকণ্ঠকে বলেন, দেশে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার গণমুখী হয়ে গেছে। এখন আর বাসাবাড়িতে সীমাবদ্ধ নেই। আগের সেই ডাউন্ট পেমেন্ট সিস্টেমের প্রথা প্রায় উঠেই গেছে। এখন দোকান থেকে কিনে নিয়েই বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। দামে সস্তা হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে চাহিদা আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও সেদিকেই মনোনিবেশ করছে। গ্রামের অনেকেই সোলার প্যানেল ব্যবহার করে টিউব ওয়েলের মাধ্যমে পানি উত্তোলন বা পানি বিশুদ্ধকরণের কাজ করছে। সরকারের সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মধ্যে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে। ফলে সরকার থেকেও এটি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। এ কারণে টিআর, কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে।

তিনি বলেন সৌর বিদ্যুত ব্যবহারের প্রথম পর্যায়ে এর দাম ািছল অনেক। কিন্তু বর্তমানে, সৌরবিদ্যুতের দাম ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় ব্যবহার বাড়ছে অনেক বেশি। আগে যেখানে একটি সিস্টেম ব্যবহারে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হতো এখন সেই ধরনের একটি সিস্টেম বসাতে একজনের খরচ পড়ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তিনি জানান, এখন দেশে গণহারে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে ব্যক্তি পর্যায়ে। ইডকলের হিসাব অনুযায়ী শুধু গ্রামীণ পর্যয়ে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারের গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ। সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। এর বাইরে যারা সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করছেন তাদের হিসাব ইডকলের কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। বলেন, এখন অনেকে দোকান থেকে কিনেই সংযোগ বসাচ্ছে। এই সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে- ইতোমধ্যে বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুত ব্যবহারে (সোলার হোম সিস্টেম) বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ মানুষ বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করছে। গত জুন মাসে প্রকাশিত বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্টে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশে প্রথম স্থানে রয়েছে নেপাল। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর পৃথিবীতে বিদ্যুত ব্যবহারকারী গড়ে বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর বাংলাদেশ এ হার বৃদ্ধিতে পৃথিবীতে অন্যতম। ২০১০ সালে বাংলাদেশে ৪৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় ছিল, যা ২০১৯ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT