ঢাকা, মঙ্গলবার ০৯ মার্চ ২০২১, ২৫শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ কুষ্টিয়ায় তামাক চাষীদের অনশন ◈ খিলক্ষেতে লেক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার ◈ রাজধানীতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার ৪২ ◈ সঠিক রাজনীতিই নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে পারে : শিক্ষামন্ত্রী ◈ বেসরকারি পাঠাগারে গ্রন্থাগারিক নিয়োগ, সরকারি অনুদান বাড়ানোর দাবি ◈ ঢাবিতে ভর্তি আবেদন শুরু, পরীক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন ◈ কাজের কোয়ালিটি নিয়ে নো কম্প্রোমাইজ, অনিয়ম করলে কঠোর শাস্তি : এলজিআরডি মন্ত্রী ◈ গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি আবেদন শুরু ১ এপ্রিল, পরীক্ষা শুরু ১৯ জুন ◈ ঢাকা থেকে নীলফামারী গিয়ে যাত্রীবেশে ইজিবাইক চালক হত্যা, গ্রেফতার ৩ ◈ খালেদা জিয়া দেশের যেকোনো জায়গায় চিকিৎসা নিতে পারবেন ॥ আইনমন্ত্রী

লোককালের ধারা-বাংলার ঐতিহ্য ‘গীত’

প্রকাশিত : 09:53 AM, 2 February 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাংলার ঐতিহ্যের জীবনধারার অন্যতম সংস্কৃতি ‘গীত’ হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া গীত পুনরুদ্ধারের কোন উদ্যোগ নেই। একদা গ্রামীণ জীবনের জোয়ার-ভাটার সকল অনুষঙ্গে গীত ছিল মুখ্য। পুঁথিপাঠের কবিয়ালরা ঘটনার বর্ণনায় মুহূর্তের শব্দ চয়নে কবির লড়াই শুরু করতেন। গীতের রচয়িতা নারী সমাজজীবনের কোন ঘটনায় (বিশেষ করে বিয়েশাদি) তাৎক্ষণিক সুর তুলে ছন্দের তালে তালে নেচে যে বর্ণনা করতেন তা হৃদয়ে গেঁথে যেত। একজন নাচ শুরু করলে সঙ্গ দিতে কয়েকজন নাচত। বাঙালীর শিকড়ে গীতের এমন মধুময়তা আজও আছে; তবে তা লুকিয়ে। কেউ খুঁজে দেখছে না। যারা গান লেখেন তাদের বলা হয় গীতিকার। যা এসেছে গীত থেকে।

কালের আবর্তে প্রতিটি পরতে সৃষ্টি হয় লোকায়তকাল, লোককাল বা লোকজ। বাঙালীর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশের তিনটি ধারা- আদিমকাল, মধ্যকাল ও আধুনিককাল। প্রতিটি কালের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে লোককাল। লোককথা। লোকজধারা। এই লোকজধারা বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাসের গভীর থেকে উৎসারিত। লোকায়তকালের একের সৃষ্টি অন্যের বা গোষ্ঠীর কাছে অনুকরণীয় হওয়ার নাম সংস্কৃতি। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষ হয়ে ওঠার ইতিহাস’। লোকায়তকালের সাহিত্য বাঙালীর গর্ব যা বাঙালীর সংস্কৃতির সমৃদ্ধির অযুত ভাণ্ডার।

ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সংগৃহীত ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’ প্রকাশিত হলে সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোমাঁরোলাঁ পর্যন্ত ময়মনসিংহের মদীনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষায় ‘বাংলার প্রতিটি পল্লীর মাঠেঘাটে, পল্লীর আলোবাতাসে, পল্লীর পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। দূর অতীতের পল্লীর এই সাহিত্যের নাম লোকসাহিত্য। লোকসংস্কৃতি-লোকসমাজ সর্বকালের কৃষিসমাজের সৃষ্টি। ড. তুষার চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায় : অনগ্রসর কৃষিসমাজ বা পল্লীজীবন হচ্ছে লোকসংস্কৃতি বিকাশের প্রকৃত ক্ষেত্র। দিনে দিনে এই ধারা নানাবর্ণে, নানারূপে লোকজ রসসুধা তৈরি করে সমুখ পানে অগ্রসর হয়। সমাজের গভীর থেকে উঠে আসা এই লোকজ লালিত হয় চিরন্তন হয়ে।

লোকসংস্কৃতির ইংরেজী আধুনিক নাম ‘ফোকলোর’। সৃষ্টি ১৮৪৬ সালে। এর আগে লোকসংস্কৃতিকে বলা হতো ‘পপুলার এ্যান্টিকুইটিজ’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘জনপ্রিয় পুরাতনী’। ড. আশরাফ সিদ্দীকীর মতে ফোকলোরের দুটি ভাগ। এক. ম্যাটেরিয়াল ফোকলোর বা লোকশিল্প। দুই. ফরমালাইজড ফোকলোর বা লোকসাহিত্য। লোকশিল্পের মধ্যে আছে- লোকপ্রথা, লোকভাস্কর্য, লোকবাদ্যযন্ত্র। লোকসাহিত্যের মধ্যে আছে লোককথা, রূপকথা, ধাঁধা, মন্ত্র, ছড়া, খেলার ছড়া, জায়গার নাম, লোকবিশ্বাস, লোকসংস্কার, গীতিকা, গীতি, কিংবদন্তি, পুরাণ কাহিনী ইত্যাদি। লোকসাহিত্যের সমৃদ্ধ শাখা লোকগীতি। যা সাহিত্যের আদি সৃষ্টি। লোকগীতিরই একটি শাখা গীত। পরবর্তী সময়ে এই গীত নারীর কণ্ঠেই অলঙ্কৃত হয়েছে।

ব্যক্তি ও সমাজজীবনের সুখদুঃখ, প্রেম, বিরহ, আনন্দবেদনার ভাষা হৃদয়ে লালিত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনেক জারি, সারি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, মারফতি, বাউল, বিরুয়া, হেরায়া। এগুলোতে আবেগ, উচ্ছ্বাস, দুঃখ, বেদনার চিত্রই সাহিত্যগুণে পরিপূর্ণতা পেয়েছে। তবে ভাষার ক্ষেত্রে এগুলো ধারণ করেছে আঞ্চলিক স্বকীয়তা। এদিকে গীত ও গীতি শব্দের আভিধানিক অর্থ এক হলেও গীত বলতে সাধারণত মেয়েদের কণ্ঠের গীত বোঝায়। গীতি মেয়ে-পুরুষ উভয়ের কণ্ঠে গাওয়া গান।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েরা গীত গেয়ে অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তোলে। বিয়ের প্রতিটি ধাপেই গীত আছে। আবেগ, উচ্ছ্বাস, আনন্দ, বেদনা, বর ও কনেপক্ষের পরস্পরের প্রতি বিদ্রƒপাত্মক কৌতুক, নক্সা, কথার মাধুর্য ও সুরে গীত হয়ে অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তোলে। গীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এলাকা ও অব্জলভেদে ভাষার ভিন্নতা। তবে কথা, অর্থ ও সুর কাছাকাছি। গীত শুনে মনে হবে বর ও কনে পক্ষের মধ্যে রীতিমত বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। নানি-দাদির গীত এক রকম, খালা-ফুপুর গীত আরেক রকম। শ্যালিকাদের গীত শুনে মনে হবে যত দাবিদাওয়া আছে তা পেশ করা হচ্ছে বরের কাছে। বিয়ে অনুষ্ঠানে কনেবাড়ির শেষের পর্যায়ের গীত অনেকটাই বেদনার। কনে ঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে স্বামীর ঘরে। যে ঘর তার কাছে নতুন। স্বামীর ঘরের ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয় গীত। বরের বাড়িতে আরেক ধরনের গীত। কনে বরণ করে নেয়ার আনন্দের গীত।

বিয়ের গীতের পাশাপাশি বাঙালীর নানা আনুষ্ঠানিকতা-পার্বণেও গীত গাওয়া হয়। আবার ঋতুভিত্তিক গীত আছে। বর্ষায় বৃষ্টি না হলে খরা দেখা দিলে বৃষ্টির জন্য গীত তৈরি হয়। কোথাও বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে গীত হয়। বাঙালীর সমাজজীবনে গীতের আবেদন চিরন্তন। শুধু গ্রামেই গীত হয় না। শহুরে জীবনে এই লোকজ ঐতিহ্য প্রবেশ করেছে; যা প্রমাণ করে বাঙালীর সংস্কৃতির শিকড় কতটা গভীরে। লোকজ বাঙালীর চিরন্তন গর্ব। গীত সেই চিরন্তন ধারাকে করেছে সমৃদ্ধ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT