ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

লকডাউনের খবরে মার্কেট শপিংমল বিপণি বিতানে উপচেপড়া ভিড়

প্রকাশিত : 08:15 AM, 5 April 2021 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

লকডাউনের খবরে মার্কেট শপিংমল ও বিপণি বিতানে কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা ছিল স্বাভাবিক। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল এবং সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে মার্কেটগুলোতে এই ভিড় আজ রবিবারও থাকবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কারণে কাল সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন শুরু হচ্ছে। ওই সময় নিত্যপণ্যের বাজার, সুপারশপ ও ফার্মেসীগুলো চালু থাকলেও বন্ধ থাকবে মার্কেট ও শপিংমলগুলো।

পহেলা বৈশাখ ও রোজা সামনে রেখে ইতোমধ্যে মার্কেটগুলোতে উৎসবকেন্দ্রিক বেচাবিক্রি শুরু হয়েছিল। সাত দিনের বেশি লকডাউন চায় না ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। সরকারী সিদ্ধান্ত মেনে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি আগামী ৫থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কেট-শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে ঢাকায় গুঞ্জন ছিল আবার লকডাউন শুরু হচ্ছে। শনিবার বেলা ১১ টা পর থেকে ফেসবুকে লকডাউনের খবর চাউর হয়ে যায়।

আর তখনই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে মার্কেট শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় ছিল। রাজধানীর গাউছিয়া, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট, গুলিস্তান, এ্যালিফ্যান্ট রোড, যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী ও বেইলি রোডসহ সর্বত্র ছিল উপচেপড়া ভিড়। মৌচাক মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা শিরিন শারমিন।

তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, হঠাৎ করেই জানতে পারলাম আবার লকডাউন শুরু হচ্ছে। আর এ কারণে মার্কেটে এসেছি প্রয়োজনীয় কাপড়- চোপড় ও কসমেটিক্স সামগ্রী কিনতে। তিনি বলেন, সামনে পহেলা বৈশাখ ও রোজার ঈদ রয়েছে। কিন্তু এখনো কোন কেনাকাটা করা হয়নি। এবারও লকডাউন দীর্ঘস্থায়ী হলে তো আর কেনাকাটা করার সুযোগ থাকছে না।

গাউছিয়া মার্কেটের জ্যোতি শাড়ি হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, লকডাউনের খবরে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। কেনাকাটাও ভাল হচ্ছে। কিন্তু এটা সাময়িক। লকডাউন দীর্ঘস্থায়ী হলে এবার তারা বড় অঙ্কের লোকসান গুনবেন। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশে লকডাউন শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনভাবেই যেনো সাত দিনের বেশি লকডাউন না হয়। এর বেশি হলে ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবেন।

লকডাউনে চালু থাকবে ফার্মেসী নিত্যপণ্যের বাজার ॥ লকডাউনের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী ও নিত্যপণ্য যেমন চাল, ডাল, সবজি, মাছ-মাংসের বেচাকেনা চলবে যথারীতি আগের নিয়মে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাকে মাস্ক ও প্রয়োজনীয় স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। লকডাউনে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবি তাদের ট্রাকসেল বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। লাইনে দাঁড়িয়ে এবং ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে নিত্যপণ্য কেনাকাটার সুযোগ রাখা হয়েছে। লকডাউনের সময় রাজধানীতে কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হবে। ক্রেতা সাধারণ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের কেনাকাটা করতে পারবেন। নিত্যপণ্যবাহী ট্রাক, লরি এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচলে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হবে। ক্রেতাদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য না কেনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ সব ধরনের মার্কেট শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকলেও ভোগ্যপণ্য বিশেষ করে কাঁচা বাজার চালু রাখা হবে। ক্রেতারা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ পণ্যের কেনাকাটায় চালু থাকবে ফার্মেসীগুলো।

এ কারণে চাহিদার অতিরিক্ত কোন ওষুধ কেনার প্রয়োজন নেই। গতবছর লকডাউনের সময় চাহিদার অতিরিক্ত পণ্যের কেনাকাটা করায় প্রথম ধাপে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার যেন সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে।

আজ রবিবার দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠক ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জনকন্ঠকে বলেন, রোজা সামনে রেখে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চাহিদার দ্বিগুন পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ কারণে বাড়তি পণ্যের কেনাকাটা করার প্রয়োজন নেই।

সাত দিনের বেশি লকডাউন চান না ব্যবসায়ীরা ॥ করোনা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় আগামীকাল সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করছে সরকার। এ সময় দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, লকডাউনের বিষয়ে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের মানতেই হবে। কারণ দেশের করোনা পরিস্থিতি এখন ভালো না। তাই আগামী ৫ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।

তবে আমাদের দাবি এই লকডাউন এক সপ্তাহের বেশি যেন না বাড়ে। তিনি আরও বলেন, এর আগে সরকারের নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শপিংমল ও দোকানের ব্যবসা পরিচালনা করেছি। নতুন করে যদি এর সঙ্গে কিছু যোগ করে তাও আমরা মানতে রাজি। তবে ঘোষিত লকডাউনের সময় যেন আর না বাড়ে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের জানাচ্ছি। কারণ এক সপ্তাহ পর সময় বাড়ালে অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

এ বিষয়ে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অ্যাকাউন্ট) শেখ আব্দুল আলিম বলেন, লকডাউনের ঘোষণা এসেছে, তবে এখন পর্যন্ত পুরো নির্দেশনা পাইনি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবেই আমরা চলব। শপিংমল এক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বললে আমরা বন্ধ রাখব।

লকডাউনের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার গণমাধ্যমে বলেছেন, লকডাউনে জরুরি সেবা দেয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোই শুধু খোলা থাকবে। তিনি বলেন, আমরা চাইছি লকডাউনে যেন মানুষের চলাচল যতটা সম্ভব বন্ধ করা যায়। কারণ, যেভাবে করোনা ছড়াচ্ছে তাতে মানুষের ঘরে থাকা জরুরি।

তবে জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এছাড়া পোশাক ও শিল্পকারখানাগুলো খোলা থাকবে। কারণ কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকদের বাড়িতে ফেরার বিষয় থাকে। এতে করোনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

তবে কারখানায় শ্রমিকদের একাধিক শিফটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT