ঢাকা, সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ

প্রকাশিত : 11:51 AM, 7 October 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজধানী ঢাকায় এবার রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। জাত ও মানভেদে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিভিন্ন বাজারে এবার ২৬০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ দাম। গত দুই মাস ধরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এই পণ্যটি। দাম কমাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করে বাজার সামাল দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কারণে দাম কমছে না। স্বাদে না হলেও কাঁচা মরিচের দামের ঝালে সাধারণ ভোক্তার চোখে পানি ঝরছে। কেউ কেউ নিত্যপণ্যের বাজারে গিয়ে কৌতুকের সুরে ব্যঙ্গ করে বলছেন, কাঁচা মরিচে ‘রেড এলার্ট’। হাত না দেয়াই ভাল। এদিকে, মরিচের পাশাপাশি আরেক পণ্য পেঁয়াজের দাম কমছে না। হঠাৎ করে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। প্রতিকেজি বড় আকৃতির আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। অন্যদিকে দেশী পেঁয়াজ জাত ও মানভেদে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। তবে পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে, বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এ মুহূর্তে সবজি জাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম কাঁচা মরিচের। এছাড়া অন্যান্য শাক-সবজির দাম চড়া। একমাত্র গোলআলু ছাড়া কোন সবজি ৭০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া সিম, টমেটো, গাজরসহ বেশ কিছু সবজি রয়েছে যা ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে গত প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস যাবত সবজির বাজার অস্থির। করোনার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে দিনমজুর পেশার মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। এ অবস্থায় সবজিসহ কাঁচা মরিচের দাম বাড়ায় তাদের কষ্ট বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের সবজি পুরোদমে বাজারে না আসলে সহসাই জিনিসপত্রের দাম কমবে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওরানবাজারের সবজির পাইকারি ব্যবসায়ী মোঃ জসিম জনকণ্ঠকে বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে। আর এ কারণে কমছে উৎপাদন। ফলে বাজারে সবজির দাম বাড়তি। তিনি বলেন, শীতের সবজি আসা শুরু হয়েছে। পুরোদমে আসলে দাম কমে আসবে। এজন্য ভোক্তাদের আরও একমাস অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দুদিন ধরে দাম আরও বেড়েছে। এখন ২৬০-৩০০ টাকায় ভোক্তাদের মরিচ কিনতে হচ্ছে। বেশি পরিমাণে প্রয়োজন না হলে ভোক্তারা ১০০ থেকে আড়াই শ’ গ্রাম মরিচ কিনে বাসায় ফিরছেন। কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় স্বল্প আয়ের ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি বিরক্ত। খিলগাঁও গোড়ান বাজার থেকে কাঁচা মরিচ কিনছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, গত গত কয়েক মাস ধরে সবজি ও মরিচের দাম চড়া। এখন আবার সর্বোচ্চ রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে মরিচ। তিনি বলেন, বেশি দাম হওয়ায় আড়াই শ’ গ্রাম মরিচ কেনা হয়েছে ৭০ টাকা দিয়ে। দাম আরও বাড়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভারত থেকে মরিচ আনা হচ্ছে ॥ বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে গত কয়েক মাস ধরে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাজারে দেশী মরিচের পাশাপাশি ভারতীয় মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমদানিকৃত মরিচের দামও বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হিলি বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ ট্রাক মরিচ আমদানি করা হয়। প্রতিকেজি মরিচে সরকারকে ২১ টাকা আমদানি শুল্ক দিতে হচ্ছে। তবে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলেও মরিচ রফতানি অব্যাহত রেখেছে। ভারতে এবার মরিচের উৎপাদন ভাল হয়েছে বলে জানা গেছে।

পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ ॥ বাজারে দাম কিছুটা বাড়লে আতঙ্কিত হয়ে পেঁয়াজ না কেনার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ আছে। এছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ দ্রুত দেশে এসে পৌঁছবে। মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে পৌঁছতে শুরু করেছে। দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। উৎপাদনকারী কৃষকরা মজুদকৃত পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি বৃদ্ধি করেছেন। ফলে পেঁয়াজের আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। দেশে পেঁয়াজের কোন ঘাটতি নেই। আমদানিকৃত পেঁয়াজ পুরোপুরি বাজারে আসলে মূল্য আরও কমে আসবে।

এছাড়া, ক্রেতাদের সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহের উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেশব্যাপী ট্রাক সেলের পাশাপাশি ই-কমার্সের মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রি করছে। এতে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে প্রতিকেজি ৩০ টাকা মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। চাহিদা মোতাবেক বাজারে পেঁয়াজের মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ দেশব্যাপী স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে বাজার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সরকার পেঁয়াজ আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। আমদানিকারকদের চাহিদা মোতাবেক সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ, পরিবহনসহ সকল ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার প্রচলিত আইনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT