ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রাবি পুকুর খননের মাটি বিক্রির টাকার হিসাব বলে দেওয়ায় মেরাজকে খুন করেছে পলাশ ও নিউজ করার কারনে দুই সাংবাদিকে পিটিয়ে গুরুত্ব অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ

প্রকাশিত : 04:40 AM, 30 April 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাবির পুকুর খননের মাটি চুরি করে পলাশ (৪০)। পিতা মৃত- মুক্তার, সাং কিশমত কুখন্ডি, থানা কাটাখালী, রাজশাহী। ট্রাক্টর মালিকের মাধ্যমে বিক্রি করছিলেন, রাবি ভিসি আঃ সোবহান। প্রভিসি জাকারিয়া, প্রক্টর লুৎফর রহমান। আর কাজ গুলো দেখাশুনা করছিলেন ভিসির গুপ্তচর নিহত মেরাজ মন্ডল, এতে রাগে খোবে ট্রাক্টরের মালিক পলাশ মেরাজ কে চলন্ত গাড়ি থেকে ড্রাইভারের মাধ্যমে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন। কারন মেরাজ মাটির সমস্ত হিসাব গুলো ভিসির কাছে পৌছে দিতেন। এতে লাভের অংশ কমে যেত পলাশের।

ঘটনার বিবরণে জানাযায়, কাটাখালী থানাধীন কিসমত কুখন্ডি মহল্লায় নানীর বাড়িতে বসবাস কারে সন্ত্রাসী যুবক পলাশ (৩৫)। ছেলে বেলায় বাবা মারা যাওয়ায় ভাই ও মাকে সঙ্গে নিয়ে নানীর বাড়িতে আশ্রয় নেয় এই পলাশ। আস্তে আস্তে মাথা চাড়া দেওয়ায় নানীর জমির উপর ভাগ বসায় পলাশ। এনিয়েও বহু বার মারামারি হয়েছে পলাশের মামাদের সঙ্গে। মামলা ও হয়েছে কাটাখালী থানায়।

পলাশের বাবা, বর্তমান ভিসি আঃ সোবহান এর একজন ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। সেই সুবাদে পলাশের বাবর মৃত্যুর পর পলাশের মাকে রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে আয়ার চাকুরির ব্যবস্থা করে দেন ভিসি আঃ সোবহান।

এদিকে দিনে দিনে পলাশ বেড়ে উঠে রাজশাহীর মতিহার ও কাটাখালী থানা এলাকার কালো বাজারী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসীদের সাথে। দিনে দিনে শুরু করে পলাশ বিভিন্ন ভাটায় বালু ভরাট কাঁঠের খড়ি দেওয়া। কেহ নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, তার বাহীনি দিয়ে শুরু করতো অত্যাচার জুলুম। পলাশের ভয়ে কাটাখালী থানা এলাকায় এখন আর অন্য কেহ ভেকু বা ডেজার চালাতে পারে না। যে ব্যক্তির ই ভেকু, ড্রেজার বা ট্রাক্টরগাড়ি লাগুক তার কাছে থেকে নিতে হবো। কোন ব্যক্তি পুকুর খনন বা মেরামত করলে তাকে দিয়েই করাতে হবে এভাবেই চলছে পলাশের আধিপত্ব।

বর্তমান ভিসি আঃ সোবহান যতগুলো পুকুর খনন করছে তার সমস্ত মাটি গুলো পলাশের মাধ্যমেই টানাচ্ছেন। রাজশাহীতে পলাশ এখন মাফিয়া ডন হিসেবে পরিচিত। পলাশের হুকুমে মেরাজ হত্যা হলেও হুকুম দাদা হিসেবে মামলায় পলাশের নাম নাই। আর নাম দেওয়ার ক্ষমতা মেরাজ হত্যা মামলার বাদীর নাই। কারন পলাশের নামে মামলা হলে বাদীকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে।

এব্যাপারে রাসিক ৩০ নং ওয়ার্ডের কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমি ও রোকনুজ্জামান ২৬ তারিখ রাত্রি ১২’০০ টার দিকে। যখন রাবি এলাকা থেকে আসি তখন পলাশ ও মেরাজের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হচ্ছিল। মেরাজ বার বার বলছিলো দুটি গাড়ি দিনে ৪ হাজার টাকা আর রাতে ৪ হাজার টাকা করে ভাড়া নিয়েছে। গাড়ি আমার কথা মত চলবে। আমি বার বার মেরাজ কে শান্তনা দিচ্ছিলাম। পরে সেখান থেকে চলে যায়। গত সপ্তাহে একবার মেরাজ আর পলাশের বাক বিন্ডা হয়। পরে মোহনপুর এলাকার মোমিনের ছেলে সাইদুল (৪০) ও মহাসেনের ছেলে রানা (৩৫) আসায় আমরা সেখান থেকে চলে গেছে এবং রাবি প্রক্টর লুৎফর রহমান কে বিষয়টি জানিয়ে ছিলাম।

মাস খানেক আগে থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর খননের মাটি রাতের আধারে ভিসি আঃ সোবহান, প্রভিসি জাকারিয়া, প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান। সম্মিলিত হয়ে রাবি কয়েকজন শিক্ষক মৃত জেবের মিয়ার পরিবারের কাছে থেকে ক্রয় সূত্রে মালিক ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ভাটার মালিক জনাব, আব্দুল কুদ্দুস, মাসকাটাদিঘী ও বাবু, জয়পুর থানা কাটাখালী রাজশাহীর কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।

এব্যাপারে স্থানীয় জনগন মিডিয়ার কাছে অভিযোগ করলে, সাংবাদিকগন ঢালাও ভাবে পেপার পত্রিকা, অন লাইন নিউজ পোটাল, এবং টিভির সংবাদে প্রচার করতে থাকেন। তবুও রাবি কর্তৃপক্ষ ট্রাক্টর মালিক পলাশের সাথে আতাত করে মাটি চুরি করে বিক্রি করেই চলেছিলেন।

সোমবার ২৬ এপ্রিল ভোর ৩ টার দিকে। বিষয়টি ট্রাক্টরের মালিক পলাশের দূষ্টিগোচর হয় যে, মেরাজ ভিসির সোর্স হিসেবে মাটির হিসাব রাখছেন। এতে রাগে খোবে ড্রাইভার কে শিখিয়ে দেন পলাশ, ট্রাক্টরের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মেরাজ কে হত্যা করেন। আমরা দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিবো।

পলাশের শিখানো কথা মতে ট্রাক্টর ড্রাইভার মেরাজ কে গাড়ি থেকে ছিটকে ফেলে দেন। এতে মেরাজের মাথা ফেটে প্রচুর পরিমানে রক্তখরণ হয়ে ঘটনা স্থলে নিহত হন মেরাজ।

ঘটনার ব্যাপারে রাবি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মিগন বলেন, রাবি ভিসির কেয়ার টেকার মেরাজ মন্ডল নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) নিহতের বাবা মো. মনির উদ্দিন মন্ডল দুলাল (৫৫)। বলেন, আমি বাদী হয়ে মহানগরীর মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।

নিহত মেরাজের পিতা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বপাড়া চৌদ্দপাই ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন পুকুর খননের কাজ চলছিল। সেখানে মাটিকাটা ঠিকাদার সানা উল্লাহ ও মাটি টানার জন্য ট্রাক্টরের সর্দার মো. টুটুলের তত্ত্বাবধানে থাকা ট্রাক্টরের ড্রাইভার মো. ইব্রাহিমের সাথে আমার ছেলে মো. মেরাজ মণ্ডল সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলো। সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে উক্ত ট্রাক্টরটি রাবির পূর্বপাড়ায় খননকৃত পুকুর থেকে মাটি নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এসময় ট্রাক্টরের মালিক পলাশ চৌদ্দপাই ফায়ার সার্ভিসের মোড়ে দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় ট্রাক্টর মালিক পলাশ মেরাজ কে দেখে রেগে ড্রাইভার কে বলেন, বার বার গাড়ির সাথে মেরাজ কে কেন যেতে হবে। সালাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেন। তৎক্ষনাৎ ট্রাক্টর ড্রাইভার আলঙ্গীর পলাশের কথা মতো মেরাজ কে দ্রুতগতিতে গাড়ি থেকে থাক্কা দিয়ে পাকা রাস্তায় ফেলে দেয়। আমার ছেলেকে গাড়ি থেকে রাস্তায় ফেলে দিলে মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

চৌদ্দপাই মোড়ের পাহারাদারগন বলেন, ঘটনার পর পরই চালক ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে উত্তর দিকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন মতিহার থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেরাজের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে।

রাবি শিক্ষক সমাজ ও রাসিক ৩০ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ শহিদুল ইসলাম পিন্টু এবং রাসিক ৩০ ওয়ার্ডের কাজী এনায়েত, বিহাস, চৌদ্দপাই, মহনপুর, বুধপাড়া মহল্লার বাসিন্দারা জোর দাবী জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সেই সাথে রাবি এই প্রশাসনকে এক্ষুনি চাকুরিচ্যুত করে আইনের কাঠ গড়াই দাড় করানো হোক।

এই নিউজ প্রকাশ কারার কারনে ২জন সাংবাদিককে গত বৃহস্পতিবার দিবগত রাতে বেদম প্রহর করে হাসপাতালে প্রেরণ করছেন তারা ২জন হলেন দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ পত্রিকার রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ্ ও পবা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রোকনুজ্জামান। তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি একই সাথে এই নেক্কার জনজ ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপের জোর দাবি জানাচ্ছি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT