বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর ঘরে ঘরে করোনা সংক্রমণ

প্রকাশিত : 12:54 PM, 23 June 2021 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

কঠোর ‘লকডাউনের’ পরও রাজশাহীতে কিছুতেই লাগাম টানা যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণের। একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না। এ হাসপাতালে একের পর এক ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করার পরও করোনা ইউনিটে শয্যার তুলনায় সবসময়ই রোগীর সংখ্যা থাকছে অনেক বেশি। বাড়তি এ চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল র্কর্তৃপক্ষ।এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও একটি ওয়ার্ডকে করোনা ইউনিটে যুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আরও দুটি ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে। কিন্তু এতকিছুর পরও পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না।এদিকে ১ হাজার ২০০ শয্যার রামেক হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৫০-এর বেশি করোনা রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে সাধারণ রোগের চিকিৎসাব্যবস্থা পড়েছে ঝুঁকির মুখে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের মাঝেও করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভয়ংকর হিসেবেই দেখছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ‘লকডাউনে’ কোনো সুফল মিলছে না, কারণ ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন সব থেকে জরুরি হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।রামেক হাসপাতালে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে করোনা রোগী। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোর ‘লকডাউন’ শেষে চলছে বিশেষ বিধিনিষেধ। আর রাজশাহী শহরে ‘লকডাউন’ চলছে ১৩ দিন ধরে। কিন্তু এতকিছুর পরও এ দুই জেলায় সংক্রমণের মাত্রা কমছেই না। থামছে না মৃত্যুও। রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে মারা গেছেন ২১৬ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার।করোনা ইউনিটে বাড়তি রোগীরা আছে চরম ঝুঁকিতে। কারণ শয্যায় জায়গা না হওয়ায় তারা সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা পাবে না। অথচ এখন যারা হাসপাতালে ভর্তি আছে তাদের সবারই প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেন সুবিধার। বাড়তি রোগীদের সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়ে সেবা দেওয়া হলেও তাদের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। যেভাবে রোগী বাড়ছে, সেভাবে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে বর্তমানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নতুন নতুন ওয়ার্ড বাড়ানোর কারণে অন্য রোগের চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন আমাদের আর নিয়ন্ত্রণে নেই। এখন ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। লকডাউন দিয়েও ফল মিলছে না। এ অবস্থায় খুব জরুরি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বাড়িতে থাকলেও একজন আরেকজনের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। কারণ বাড়ির বাইরে বের না হয়েও অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে অন্যের মাধ্যমে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। আর চিকিৎসা পরিস্থিতিও দিনদিন খারাপই হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ভয়ংকর অবস্থার দিকেই যাচ্ছি আমরা।’প্রায় একই ধরনের তথ্য জানিয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘আমরা যেটা খবর পাচ্ছি এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে করোনা রোগী। প্রত্যেকের বাসায় করোনা আক্রান্ত বাড়ছে। এখন লকডাউনও চলছে। আমাদের এখানে ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আছে। সঠিক সময়ে আমরা সঠিক কাজটি করতে পারিনি। এজন্যই আজ করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’তার হাসপাতালে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৬০ জনের মধ্যে গ্রামের রোগী ৩৮ জন জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার ইয়াজদানী বলেন, ‘এখন ৬০ শতাংশের ওপরে রোগী গ্রাম থেকে আসছে। গ্রামে যাতে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানে এটি জরুরি ভিত্তিতে নিশ্চিত করাতে হবে। এজন্য গ্রামে জনপ্রতিনিধিসহ সবাই যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এটি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এটি ভয়াবহ হতে পারে। যতই রোগী বাড়ছে আমাদের উদ্বেগ বাড়ছে।’

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT