শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ভুয়া ডিবি আটকের নেপথ্যে কে এই মতিন?

প্রকাশিত : 09:15 PM, 27 April 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ গত ১৫ এপ্রিল রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার গো-গ্রাম পুজাতলা মোড় থেকে আব্দুল্লাহ নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ডিবি পরিচয় দানকারি এক অপরাধ চক্র। আর এই অপরাধ অভিযানের মাষ্টার মাইন্ড পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিন। এমনটাই দাবি করলেন মাইক্রোবাসের ড্রাইভার, আটককৃত আসামী মাসুমের পরিবারের।ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল রাত পৌনে ৯ টায় মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামে এক ব্যক্তি গোদাগাড়ী থানাধীন গোগ্রাম পুজাতলা মোড়ে তার নিজ মুদি ও বিকাশ এজেন্টের দোকানে বসে ক্যাশের হিসাব নিকাশ করছিলো। এসময় একটি মাইক্রোবাসে করে ৪ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে লকডাউনের সময় দোকান খোলার অপরাধে তার হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে দেয়। তার দোকানে থাকা ২ লক্ষ টাকা নিয়ে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে রাজশাহীর দিকে রওনা দেয়। পথিমধ্যে তাকে ব্যাপক মারপিট করে এবং বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে ঘটনা চক্রে বাধ্য হয়ে ফেলে দেয় ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ’কে।এরপর অজানা অনেক ভয়ংকর তথ্য বেড়িয়ে আসতে শুরু করে। প্রকৃত পক্ষেই এই ঘটনার মাষ্টার মাইন্ডার বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিন। সেই দিন যে গাড়িটি নিয়ে অভিযানে যাওয়া হয়েছিল, সেই মাইক্রোবাসটি ভাড়া নেয় এস আই মতিন। মাইক্রোবাস চালক মাসুম হোসেন এস আই মতিনের পূর্ব পরিচিত বলে জানাযায়। সেই সুত্র অনুয়ায়ী আসামী ধরার কথা বলে এস আই মতিন মাইক্রোবাসটি ভাড়া নেন। এরপর এস আই মতিন সহ চারজন গোদাগাড়ী থানাধীন গোগ্রাম পুঁজাতলাতে যায়। সেখান থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় আব্দুল্লাহকে। এসময় ডিবি পরিচয়দানকারীদের নিকট হ্যান্ডকাপ, ডিবি লিখা গায়ে পরিহিত কোটি, মাজায় পিস্তল দেখেছে বলে নিশ্চিত করেছেন খোদ মামলার বাদি আব্দুল্লাহ।মাইক্রোবাস চালক মামলার আসামীও স্বীকার করেন সেইদিন তাদের সাথে এস আই মতিনসহ আরও দুইজন ছিল। মাসুমের পরিবারের দাবি, এস আই মতিন মাইক্রোবাসটি ভাড়া নিয়েছিল, আসামী ধরতে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু এস আই মতিনসহ অন্যরা কাশিয়াডাংগা মোড়ে পৌছার আগেই নেমে যায়। পরে কাশিয়াডাংগা থানা পুলিশের হাতে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-২২৫৮) গাড়ীসহ আটক হয় মাসুম হোসেন। আটককৃত মাসুম হোসেন বোয়ালিয়া থানার বড়কুঠি এলাকার মো. আমির হোসেনের ছেলে।তবে অন্যান সাংবাদিকদের মাধ্যম দিয়ে এই মামলার মাষ্টার মাইন্ড বোয়ালিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ( এসআই) মতিন এর সাথে কথা বললে, তিনি কোন পাত্তা দেননি। এর কারন হিসেবে জানা যায়, তিনি এর অাগেও এর চেয়ে বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়েছেন।এবিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নিবারণ চন্দ্র বর্মন এর সাথে কথা বললে, তিনি বলেন মামলা যেহেতু কাশিয়াডাঙ্গা থানার, তাই মামলার তদন্ত ঐ থানায় করবে। এই মামলায় তার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিন জড়িত থাকার কথা বললে, তিনি সাফ জানিয়ে দেন অপরাধ করলে অপরাধির ছাড় নেই। মতিন যদি জড়িত থাকে অবশ্যই ডিপার্টমেন্ট আইনানুগ ব্যাবস্থা নিবে। তবে এসআই মতিন বোয়ালিয়া থানা থেকে শাহমুখদুম থানায় বদলি হয়েছে। এখন তার অপরাধের দেখভাল ঐ থানায় করবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT