মঙ্গলবার ২৪ মে ২০২২, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কেজিদরে তরমুজ বিক্রি করলে ব্যবস্থা

প্রকাশিত : 09:28 PM, 27 April 2021 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অনলাইন ডেস্ক:রাজশাহীতে এখন থেকে আর কেজিদরে তরমুজ বিক্রি করা যাবে না। বুধবার (২৮ এপ্রিল) থেকে খুচরা কিংবা পাইকারী বাজারে কেজিদরে তরমুজ বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আড়তে আড়তে গিয়ে এ কথা জানিয়ে এসেছেন।রাজশাহীতে এবার প্রথম থেকেই তরমুজের দাম চড়া। সোমবার সকালে নগরীর শালবাগানে তরমুজের আড়তগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এখানে পাইকারীতে দুই হাজার টাকা মণ দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা তা কিনে নিয়ে গিয়ে বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করছেন। রাজশাহীর আড়তে তরমুজ আসে বরগুনা, খুলনা ও চুয়াডাঙ্গা থেকে।বাজারে এবার তরমুজের দাম বেশি হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এই গরমে মন চাইলেও অনেকে তরমুজ ছুঁয়ে দেখতে পারছেন না। সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, চাহিদা থাকায় সিণ্ডিকেট করে তরমুজের দাম বৃদ্ধি করে দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার বাজারে নামেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ও কৌশিক আহমেদ। তাঁদের সঙ্গে জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনও ছিলেন।বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা নগরীর শালবাগানে তরমুজের আড়তগুলোতে যান। তাঁদের দেখে কোন কোন আড়ৎদার আড়তের বেড়া লাগিয়ে পালিয়ে যান। তবে কর্মকর্তারা দুটি আড়তে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন। মামা-ভাগ্নে ফল ভাণ্ডারে গিয়ে দুই ম্যাজিস্ট্রেট সব আড়ত মালিকদের ডাকেন। তারপর জানিয়ে দেন, তরমুজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাই বুধবার থেকে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করা যাবে না। পিস হিসেবে বিক্রি করতে হবে। তাহলে ক্রেতারা দাম করার সুযোগ পাবেন। দামও তাহলে কমে আসবে।এ সময় মামা-ভাগ্নে ফল ভাণ্ডারের মালিক শাহিন হোসেন কালু বলেন, বরগুনা, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা থেকে যেসব ব্যবসায়ীরা তরমুজ এই আড়তে আনেন তাঁদেরকেও কেজিদরে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। তাই এটি বাস্তবায়ন করতে কয়েকদিন সময় লাগবে। আড়ৎদারেরা বলেন, কেজিদরেই তরমুজ বিক্রি করলে যে দাম কমবে ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাঁদেরকে যদি কেজিদরেই বিক্রি করার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে একটু সময় নিয়ে তাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করবেন।তখন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, তার মানে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ছিল এবং আছে। কিন্তু আপনারা নিয়ন্ত্রণ করেননি ইচ্ছেকরেই। তাই বুধবার থেকেই কেজিদরে তরমুজ বিক্রি করতে হবে। এরপর জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর শিরোইল ও ভদ্রা এলাকার কয়েকটি আড়তে গিয়ে একই ঘোষণা দিয়ে আসেন। এ দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বুধবার থেকে যদি খুচরা কিংবা পাইকারী বাজারে কেজিদরে তরমুজ বিক্রি করা হয় তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই এখন থেকে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করতে হবে।একসময় রাজশাহী-নাটোরে প্রচুর তরমুজ উৎপাদন হতো। দিনে দিনে তরমুজের আবাদ কমে এসেছে। রাজশাহীতে এ বছর মাত্র ১৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলার চাহিদা মেটাতে বাইরের থেকে তরমুজ আসে বলে বাজার থাকে আড়ৎদারদের নিয়ন্ত্রণে। চাহিদা বেশি থাকলেই তাঁরা দাম বাড়িয়ে দেন। এতে মধ্যস্বত্ত্বভোগী এসব আড়ৎদারেরাই লাভবান হয়ে থাকেন।

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT