ঢাকা, শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১, ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রাজধানীতে বসন্তের কোকিল, অবিরাম কু-উ কু-উ

প্রকাশিত : 08:52 AM, 11 February 2021 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

কুহু সুরে মনের আগুন আর জ্বালাইও না…। লোককবি কি তাহলে বারণ করছেন? থামতে বলছেন কোকিলকে? নাকি এই ‘না’ এর মাঝেই লুকিয়ে আছে গভীর গোপন এক ‘হ্যাঁ’? বাঙালী মাত্রই উত্তরটি জানেন। সবাই কান পেতে থাকেন চেনা সুরটি শোনার জন্য। কারণ এ সুরে ভর করেই যে আসে বসন্ত! ঋতুরাজের আগমনী ঘোষণা করে কোকিল। এবারও তাই করছে। এখন গ্রামে শোনা যাচ্ছে, নিশ্চয়ই শোনা যাচ্ছে কুহু সুর। রাজধানী শহরে, অনেক নাগরিকই ভাবতে পারেন, মিষ্টি এ সুর শোনার সুযোগ নেই। আছে। একটু সৌভাগ্যবান হলে, জায়গা বুঝে কিছু সময় কান পাতলে ঠিক শোনা যাবে প্রিয় সুর।

আর মাত্র দুদিন পর পহেলা ফাল্গুন। পাতাঝরার দিন শেষ হয়ে আসছে। রিক্ত বনভূমি ভরে উঠছে সবুজে। তারও আগে নানা রঙের ফুলে ভরে উঠেছে বাগান। শিমুলের বাগানে পলাশের বনে আগুন লেগেছে। সৌন্দর্যের সবটুকু নিয়ে সামনে এসেছে গোলাপ, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা। এর পর আর আকৃষ্ট না হয়ে পারে ভ্রমর? প্রজাপতি গুটিয়ে রাখতে পারে তার ডানা? পাখিরাও গাইছে। চলছে কিচিরমিচির। তবে বসন্তে স্পেশাল কোকিল। বসন্তের দূত বলা হয় পাখিটিকে। ঋতুরাজ যে আসছে, কোকিলের কণ্ঠেই তা প্রচার হয়। আগেভাগে সবাইকে খবরটি জানিয়ে দেয় সে।

যতদূর তথ্য, পৃথিবীতে প্রায় ১৩০ প্রজাতির কোকিল আছে। বাংলাদেশে দেখা মেলে ২০ প্রজাতির। এর মধ্যে ৬টি পরিযায়ী। বাকি ১৪টি মোটামুটি স্থায়ীভাবে এ দেশে বসবাস করে। আকারে যথেষ্ট বড় হলেও পাখিটিকে সহজে দেখা যায় না। ডাক কানে আসে শুধু। কবির ভাষায়: কাকের কঠোর রব, বিষ লাগে কানে।/কোকিল অখিলপ্রিয়, সুমধুর গানে…।

রাজধানীতে কোকিলের ডাক শোনার কথা বলছিলাম, নিজের অভিজ্ঞতাটুকু এ পর্যায়ে শেয়ার করি। গত দেড় কী দুই সপ্তাহ আগের কথা। ঢাকার মনিপুরী পাড়ার একটি বৃক্ষশোভিত বাগান থেকে হঠাৎই কুহু সুর ভেসে এলো। প্রথমবার শুনে আমি একটু থামলাম। ঠিক নিশ্চিত হতে পারলাম না। সত্যি কোকিল হলে এখনই আবার ডাকবে, জানতাম। তা-ই হলো। ঠিক ডাকল পাখিটি। অদ্ভুত ভাললাগায় মন ভরিয়ে দিল। তাহলে তো চলেই এসেছে বসন্ত! কোন কারণ ছাড়াই ভেতরে এক ধরনের পুলক অনুভব করলাম। প্রিয় সুর কোথায় যেন, কিভাবে যেন ছুঁয়ে দিয়ে গেল। কোকিলের নিজের মনেও কি ভীষণ আনন্দ এখন? সেই যে শুরু হয়েছিল ডাক, আর থামার নাম নেই। এর পর থেকে নিয়মিতভাবেই শোনা যাচ্ছে কুহু ডাক। এর আগে একবার বাংলা একাডেমি চত্বরে কোকিলের ডাক শোনা হয়েছিল। অনুমান করি, ঢাকার আরও অনেক জায়গায় শোনা যায় কোকিলের ডাক।

স্মরণ করিয়ে দেয়া ভাল, মিষ্টি সুরটি আসে পুরুষ কোকিলের কণ্ঠ থেকে। নারী কণ্ঠে অত সুর খেলে না। ভাঙ্গা ভাঙ্গা সুরে গায়। প্রাক বসন্তে শুরু হওয়া ডাকাডাকি চলে বৈশাখ পর্যন্ত। বাকি সময় পাওয়া যায় না। এ কারণে পাখিটি কিছু বদনামও কুড়িয়েছে। সুবিধাবাদী অর্ধে একে ‘বসন্তের কোকিল’ নামেও ডাকা হয়। তবে এসব নিন্দা মন্দ গায়ে মাখে না সে বরং বসন্ত এলেই সে আসে। সুরে সুরে ফাল্গুন উৎসবে আমন্ত্রণ জানায় সবাইকে।

হ্যাঁ, শহর ঢাকায় প্রতি বছর দারুণ সব আয়োজনে বসন্তকে বরণ করে নেয়া হয়। অনেক মঞ্চ থেকে বন্দনা করা হয় ঋতুরাজের। উৎসবে যোগ দেন সব বয়সী মানুষ। তবে এবার সময়টা বৈরী। কোভিডের কাল ফুরোচ্ছে না। সব তাই থমকে আছে। এ অবস্থায় কোকিলের ডাকে কতটা দেয়া যাবে সাড়া? সংশয় সন্দেহ তো ছিলই। ছিল বলার কারণ, এখন আর সেটি নেই। বাধা কেটে গেছে। নগরে বসন্ত উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।

আয়োজকদের পক্ষে মানজার চৌধুরী সুইট জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসন্ত উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এবার একাধিক ভেন্যুর পরিবর্তে একটি ভেন্যুতে উৎসব আয়োজন করা হবে। চারুকলার বকুলতলা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বিকল্প ভেন্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চটি। টিএসসি সংলগ্ন মঞ্চ থেকে গানে কবিতায় নৃত্যায়োজনে বসন্তকে বরণ করে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আর বাসন্তী রং পাঞ্জাবি শাড়ি? গাঁদা ফুলের মালা? মাথায় মৌসুমি ফুলের ক্রাউন? শহর ঘুরে বেড়ানো? সবই হবে। হবে বলেই আভাস! আপনি প্রস্তুত তো?

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT