ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

রাজউকের সিল নকল করে গোল্ডেন মনিরের কব্জায় ২০০ প্লট !

প্রকাশিত : 06:28 PM, 21 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি এবং ভূমি দখল বাণিজ্য করে মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনির হাজার কোটি টাকার অধিক মূল্যের সম্পদ গড়েছেন। রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় শুধু সিল নকল করে রাজধানীতেই ২০০টির বেশি প্লট কব্জা করেছেন তিনি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে র‍্যাব।

শুক্রবার (২০ নবেম্বর) রাত থেকে শনিবার (২১ নবেম্বর) সকাল পর্যন্ত অব্যাহত অভিযানে রাজধানীর বাড্ডা থেকে গোল্ডেন মনিরকে অস্ত্র ও মাদক এবং বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাসহ গ্রেফতার করা হয়। অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জনিয়েছেন র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

আশিক বিল্লাহ বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। গোল্ডেন মনিরের আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি ভূমিদস্যু। রাজউকের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া সিল বানিয়ে বিপুল পরিমাণ ভূমি দখল করে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। ডিআইটি প্রজেক্ট ছাড়াও বাড্ডা, নিকুঞ্জ, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জে তার ২০০টির বেশি প্লট আছে বলে র‍্যাব জানতে পেরেছে। রাজউকের সম্পত্তি বেদখল করে এবং স্বর্ণ চোরাচালান করে বর্তমানে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকারও বেশি।

গোল্ডেন মনিরের উত্থান

মনির ’৯০ দশকের দিকে গাউছিয়া মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে কোকারিজের ব্যবসা এবং লাগেজ ব্যবসায় যুক্ত হন। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন মাল দেশে আনার কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধভাবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

তার স্বর্ণ চোরাচালানের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর এবং ভারত। এসব দেশ থেকে সে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বাংলাদেশের নিয়ে আসতো। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

জব্দ করা হয়েছে যা যা

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, মনিরের বাসা থেকে প্রায় ১০টি দেশের বিভিন্ন পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। যার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখ টাকার মতো। প্রায় ৬০০ ভরি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গোল্ডেন মনিরের অটোকার সিলেকশনের শোরুম রয়েছে। তবে আমদানি নিষিদ্ধ পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে তার। যার প্রতিটির মূল্য তিন কোটি টাকা করে। গাড়িগুলো দুটি বাসায় রাখেন ও তিনটি শোরুমে রাখেন। পাশাপাশি গাউসিয়াতে একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে।

চার সংস্থাকে তদন্তের অনুরোধ

র‍্যাব গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছে। এগুলো আনুষ্ঠানিক তদন্তের জন্য দুদক, বিআরটিএ, মানি লন্ডারিংয়ের জন্য সিআইডি এবং ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে এনবিআরকে তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানাবে র‍্যাব।

রাজনৈতিক দলকে আর্থিক সহযোগিতা

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন মনির ১০-১৫ বছর ধরে একটি রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করে আসছিল। ওই দলের যেসব নেতা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন তার কাছ থেকে তাদেরও খোঁজ করা হচ্ছে।

মনিরের বিরুদ্ধে তিন মামলার প্রস্তুতি

র‍্যাব বলছে, আমরা তার বিরুদ্ধে মূলত যে ফৌজদারি অপরাধ বিদেশি অনুমোদনবিহীন মুদ্রা রাখার জন্য বাড্ডা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করবো। তাছাড়া অস্ত্র এবং মাদক রাখার অপরাধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক অস্ত্র ও মাদকের মামলা করবো। গ্রেফতার মনিরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব-৩ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২০ নবেম্বর) রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় স্বর্ণ ও গাড়ি ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ওরফে গোল্ডেন মনিরের বাসায় রাতভর অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। অভিযানে শেষে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ তাকে গ্রেফতার করেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT