রবিবার ২৯ মে ২০২২, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যে কারণে ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চান পুতিন

প্রকাশিত : 10:53 PM, 27 April 2022 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্বর এক যুদ্ধ শুরু করেছেন। এর কারণ হলো, তিনি বিশ্বাস করেন, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা একই জাতির মানুষ। ইউক্রেনে আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পুতিন যেসব যুক্তি দেখিয়েছেন, তার মধ্যে সুনির্দিষ্ট করে দুটি যুক্তি উল্লেখযোগ্য। প্রথম যুক্তিটি হলো, ইউক্রেন হলো ‘রাশিয়াবিরোধী’। এটা সুস্পষ্টভাবে অবাস্তব যুক্তি। দ্বিতীয় যুক্তিটি হলো, ‘রুশ ও ইউক্রেনীয়রা একই জাতির মানুষ’। প্রথম যুক্তির প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় যুক্তিটি অসংগত। যদিও এই যুক্তির জোরেই রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও বেশি খুনে আচরণ করছে।

রাজনীতির ক্ষেত্রেও দেখা যায় উদ্ভট বলে মনে হওয়া কোনো বিষয়ই শেষ পর্যন্ত কোনো ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পুতিনের দেওয়া দুটি যুক্তিরই গভীর ঐতিহাসিক শিকড় ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। এ কারণগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় এবং ব্যাখ্যা প্রয়োজন। মধ্যযুগে মস্কোর রাজপুত্রদের উত্থান এবং রুশ সাম্রাজ্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

মস্কোর রাজপুত্ররা প্রথম যুগে শক্তি সঞ্চয় করেছিলেন মঙ্গল সাম্রাজ্যের অধীনে করসংগ্রাহক হিসেবে। মঙ্গল প্রভুদের কাছ থেকে নিষ্ঠুর স্বৈরতন্ত্রের পাঠ নিয়েছিলেন মস্কোর রাজপুত্ররা।

ইতিহাস বলে, মস্কোকে কেন্দ্র করে স্বৈরতান্ত্রিক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এর আশপাশে বিকল্প শাসনব্যবস্থাও ছিল। উত্তর-পশ্চিমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল বাণিজ্যিক প্রজাতন্ত্র নভগ্রদ। লিথুয়ানিয়া রাজ্যটিতে (বর্তমানের বেলারুশ ও ইউক্রেন এ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল) মধ্যযুগের ইউরোপের বিবেচনায় অনেক বেশি সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ষোড়শ শতকে লিথুয়ানিয়ার অভিজাতদের দ্বারা পরিচালিত কেন্দ্রীয় কিংবা প্রাদেশিক পরিষদের হাতে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটিশ ও আইবেরিয়ানদের তুলনায় বেশি ক্ষমতা ছিল। লিথুয়ানিয়ার দাপ্তরিক ভাষা ছিল পুরোনো বেলারুশ। রাজ্যটির অভিজাতদের বেশির ভাগই ছিলেন অর্থোডক্স খ্রিষ্টান এবং জাতিগতভাবে রুশ।

পুতিন ও তাঁকে ঘিরে থাকা অভিজাতদের কাছে ইউক্রেন যুদ্ধ হচ্ছে একটি গৃহযুদ্ধ। এটা রাশিয়া প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং সেই ইতিহাসের সঠিকতা সম্পর্কে তাঁদের যে ধারণা তারই প্রতিফলন। স্বৈরতন্ত্র ভালো এবং স্বাধীনতা হচ্ছে খারাপ—এ ধারণা রাশিয়ার অনেক নাগরিক পোষণ করেন। একই সঙ্গে একটা প্রতারণামূলক মনস্তাত্ত্বিক ধারণাও তাঁরা পোষণ করেন। সবাই ভয় করে এমন একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়ার জন্য তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিস্বাধীনতাও বিসর্জন দেন।

আজকের ইউক্রেন সংঘাতের কেন্দ্রীয় কারণ খুঁজতে হলে রুশ সাম্রাজ্যের এই আধিপত্যবাদী মতাদর্শের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। এ ধরনের মতাদর্শ মস্কোর শাসকদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। লিথুয়ানিয়ার অভিজাততন্ত্র, নভগ্রদের প্রজাতন্ত্র, কসাক, ইংরেজ ব্যারন কিংবা আমেরিকার উপনিবেশ স্থাপনকারীদের সমকক্ষ তারা ছিল না। সে কারণেই আভিজাত্য রক্ষার জন্য এ ধরনের বিধিবহির্ভূত নির্বাহী ক্ষমতার চর্চার প্রয়োজন মস্কোর শাসকদের হয়েছিল।

এই বয়ান দুটি প্রধান প্রতিপাদ্যের সঙ্গে জড়িত। প্রথমটি হচ্ছে, কাইজার বা সম্রাট হচ্ছেন সব জনগণের ‘ছোট পিতা’। অভিজাত প্রভুদের সঙ্গে তাঁরা ক্রীতদাসের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, রাশিয়ার জনগণ সাংবিধানিক স্বাধীনতা ভোগ করতে যোগ্য নয়। এই বয়ানের অর্থ হচ্ছে, রাশিয়ানরা পশ্চিমাদের মতো নিজেদের সাংবিধানিক পন্থায় শাসন করতে অক্ষম। ‘শক্ত হাতে’ শাসন করতে পারে, এমন শাসক তাদের জন্য প্রয়োজন। রাশিয়ানরা মনে করেন, শাসনক্ষমতার ভাগাভাগি মানেই হলো রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেওয়া। এর ফল হবে, বহিঃশক্তির হুমকির মুখে রাষ্ট্রকে সঁপে দেওয়া। চূড়ান্ত বিচারে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতাকে বিনষ্ট করা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT