ঢাকা, রবিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম

যাওয়ার অপেক্ষায় আরও আড়াই হাজার

প্রকাশিত : 10:30 AM, 5 December 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে আগ্রহী তিন শতাধিক পরিবারের দুই সহস্রাধিক অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার রোহিঙ্গা ভাসান চরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তাদেরকে রাখা হয়েছে। ভাসান চরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের তালিকা বাড়ছে। ইতোমধ্যে যারা ভাসান চরে পৌঁছেছে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে জেনে গেছে সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি। যারা গেছে তারা ক্যাম্পে থাকা আত্মীয়-স্বজনকে উৎসাহিত করছে। বলছে, দ্রুত চলে আস ভাসান চরে। কোন ভয় নেই। ক্যাম্পে যারা বিভিন্ন কথা ছড়াচ্ছে এর সবই অপপ্রচার। উখিয়া-টেকনাফের সঙ্গে ভাসান চরের পরিবেশের আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। গ্রাম নয়, এ যেন আমরা শহরে এসেছি। পাকা ভবনে থাকার সুযোগ পেয়েছি। খাবার-দাবার সবই ফ্রি। এ জাতীয় আরও কত কথা ইতোমধ্যে চাউর হয়েছে আশ্রয় ক্যাম্পগুলোতে। ফলে ভাসান চর যেতে আগ্রহীর সংখ্যা নিমিষেই বেড়ে গেছে।

উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ শুক্রবার জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা এবার আত্মখুশিতে রয়েছে। তারা স্বেচ্ছায় ভাসান চরে যেতে একের পর এক রাজি হচ্ছে। তবে কিছু সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা ও ষড়যন্ত্রে থাকা এনজিও প্রতিনিধিদের প্ররোচনায় ভাসান চরে যেতে কেউ কেউ রাজি হচ্ছে না। এখন যারা যাচ্ছে তারাও এক সময় রাজি ছিল না। রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের ভাসান চর সফর শেষে তাদের মুখে বর্ণনা শুনে ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাসান চরের অবকাঠামো দেখে রোহিঙ্গারা খুশি হয়েই স্বেচ্ছায় ভাসান চরে যেতে ইতিবাচক ভূমিকায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে স্বেচ্ছায় চলে আসে দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। এরপর প্রথম ধাপে ২০টি চেয়ারকোচযোগে এসব রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিএফ শাহিন কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সকালে ১৬৪২ রোহিঙ্গাকে সেখান থেকে জাহাজযোগে ভাসান চরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়া ভাসান চরে পৌঁছে রোহিঙ্গারা উখিয়া ও টেকনাফে স্থাপিত আশ্রয় শিবিরে তাদের স্বজনদের কাছে ফোন করেছে। তারা ভাসান চর দেখে মুগ্ধ হয়েছে। ভাসানচরে পৌঁছা কুতুপালং ক্যাম্পের আনকিছ বেগম ক্যাম্পে আশ্রিত তার স্বজনদের জানায়, ‘এনডইল্যা সুখ এড়ে নাই’ তোয়ারা এড়ে আইজওগই’ অর্থাৎ অবকাঠামোগত সুখশান্তি উখিয়া টেকনাফের ৩৪ ক্যাম্পে নেই। তোমরাও ভাসান চরে চলে এসো।

ষড়যন্ত্র থেমে নেই ॥ উখিয়া-টেকনাফের আশ্রয় শিবির ছাড়া রোহিঙ্গাদের ভাসান চর বা মিয়ানমারের কোথাও নড়তে দেবে না বলে ইতোপূর্বে হুঙ্কার দিয়েছিল সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা। কিছু ধান্দাবাজ এনজিওর পক্ষাবলম্বন করে সন্ত্রাসীরা নীরিহ রোহিঙ্গাদের আতঙ্কে রেখেছিল সব সময়। শুক্রবার ১৬৪২ রোহিঙ্গার একটি দল ভাসান চরে পৌঁছে উখিয়া ও টেকনাফে ফোন করলে অন্য রোহিঙ্গারাও ভাসান চরে যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের কারণে প্রাণের ভয় রয়েছে তাদের। শুক্রবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে একদল সন্ত্রাসী কুতুপালং ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে ভাসান চরে যেতে রাজি হলে প্রাণে মেরে ফেলে লাশ গুম করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাসান চরে যেতে আগ্রহী নীরিহ রোহিঙ্গারা জানায়, তারা সেখানে যেতে রাজি, তবে র‌্যাব-পুলিশের পাহারা লাগবে। নইলে মেরে ফেলা হবে তাদের। সন্ত্রাসীরা ব্লকে ব্লকে ঘুরে ভাসান চরে যেতে আগ্রহীদের খোঁজ নিচ্ছে। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, আজ শনিবার আরও একটি দল স্বেচ্ছায় ভাসান চরে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে জমায়েত হবে। তাদের যা যা সহযোগিতা দরকার, তা দেয়া হবে। সন্ত্রাসীরা এক্ষেত্রে কোন ধরনের পাত্তা পাবে না। যারা বাধার সৃষ্টি করবে তাদেরকে পাকড়াও করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য, নোয়াখালী জেলার ভাসান চর দ্বীপটি রোহিঙ্গাদের বসবারের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাসস্থান তৈরি করা হয়েছে। সেখানে এক লাখ এক হাজার ৩৬০ জন বসবাস করার মতো গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়েছে। ১২০টি গুচ্ছগ্রামে ঘরের সংখ্যা এক হাজার ৪৪০টি। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবায় দুটি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT