ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১, ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

যমুনার পাড়ে হচ্ছে বৃহৎ সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র

প্রকাশিত : 09:37 AM, 3 September 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

যমুনার পাড়ে পরিত্যক্ত জমিতে বসানো হয়েছে হাজার হাজার পাইল। এখন এসব পাইলের ওপরই বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল। এভাবে ২৩ হাজার প্যানেল বসিয়ে উৎপন্ন হবে সাত দশমিক আট মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত। বঙ্গবন্ধু সেতুর সিরাজগঞ্জ প্রান্তে নির্মাণ শেষের পথে থাকা কেন্দ্রটি আগমী ৪ অক্টোবর গ্রিডে বিদ্যুত সরবরাহ শুরু করবে। রাষ্ট্রীয় কোম্পানি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) সূত্র বলছে, যমুনা সেতুর পাশেই আরও ১০০ মেগাওয়াটের একটি সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের জন্য তাদের জমি ইজারা দিতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনে এটি সরকারী সব থেকে বড় কেন্দ্র। যদিও এর চেয়ে বেশি ক্ষমতার বেসরকারী সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে উন্নত দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যাপকভাবে বিদ্যুত উৎপাদন করছে। দেশে বেসরকারী কোম্পানিকে দিয়ে সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শুরুতে সরকারের এই উদ্যোগে ধাক্কা লাগায় এখন রাষ্ট্রীয় কোম্পানিকে দিয়ে সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কাপ্তাই জল বিদ্যুত কেন্দ্রের পাশে একটি সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে এখন রাষ্ট্রীয় সকল কোম্পানিকে বিদু্যুত উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে এনডব্লিউপিজিসিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এএম খোরশেদুল আলম বলেন, আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার সময় ১৫০ দিন পেছাতে হয়েছে। কারণ এই সময়ে কোন বিদেশী শ্রমিক কেন্দ্রটি নির্মাণে কাজ করতে চায়নি। গত মে মাসে কেন্দ্রটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন আগামী ৪ অক্টোবর নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করি অক্টোবরের মধ্যেই কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে।

ওই কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা গেছে যমুনার পাড়ে পরিত্যক্ত জমিতে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সরকার পরিত্যক্ত জমিতে সোলার বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাধারণত চরের যেসব সরকারী জমি বেদখল হয়ে গেছে সেখানে সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রটির জমিটি বর্ষার পানিতে তলিয়ে যায়। এজন্য এখানে বিশেষ প্রক্রিয়াতে উঁচু পাইল বসিয়ে প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।

দেশী এবং চীনা শ্রমিকরা এখন কেন্দ্রটি নির্মাণে কাজ করছে। এখানের ২৩ হাজার সোলার প্যানেলের মধ্যে বেশিরভাগই স্থাপন করা শেষ হয়েছে। বাকি প্যানেল স্থাপনসহ ক্যাবলিংয়ের কাজ এখন করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে কেন্দ্রটি আগামী মাসেই বিদ্যুত সরবরাহ শুরু করবে। কেন্দ্রের বিদ্যুত গ্রিডে সরবরাহের জন্য ১৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনও তৈরি করা হয়েছে।

উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এনডব্লিউপিজিসিএল সূত্র জানায় যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে আরও ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের জমি নিয়েছে তারা। এজন্য চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট এ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) এর সঙ্গে যৌথ কোম্পানি গঠন চুক্তি করা হয়েছে। সমান অংশীদারিত্বে এখানে আরও ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় সেতু কর্তৃপক্ষের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষর বোর্ড সভায় বিষয়টি অনুমোদন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এই কেন্দ্রটি এলে এখানে ১০০ মেগাওয়াটের আরও একটি মেগা প্রকল্প গড়ে উঠবে।

বিদ্যুত কেন্দ্রটি ২২ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রটি নির্মাণে ২০১৭ সালের ২৩ নবেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রটি স্থাপনে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই হয়। গত বছর ৮ মে থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়। সেই হিসেবে চলতি বছর ৭ মে কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে না পারায় সময় বৃদ্ধি করা হয়। কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য দেশীয় অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ঋণ নেয়া হয়। এনডব্লিউপিজিসিএল নিজস্ব তহবিল থেকে ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে। এজন্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে একটি ঋণ চুক্তি হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT