ঢাকা, শুক্রবার ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা পেয়ে অপকর্ম চালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত : 11:16 AM, 21 November 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

থ্রি জি, ফোর জি নেটওয়ার্কের সুবিধা নিয়ে দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মোবাইলযোগে যাবতীয় অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়াবা পাচার, মানব পাচার, খুন, ডাকাতি, অপহরণ বাণিজ্য থেকে শুরু করে হেন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। দীর্ঘ সময় উখিয়া টেকনাফের ৩৪ শিবির এলাকাজুড়ে থ্রি জি, ফোর জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ এনজিও এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তদ্বির ও চাপের মুখে ফের নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে এখন দেশীয় সিম। তবে রেজিস্ট্রেশন স্থানীয়দের নামে। বেসরকারী পরিসংখ্যানে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশী সিমযুক্ত মোবাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের সব তথ্য নিমিষেই চলে যাচ্ছে বহির্বিশ্বে। এর পাশাপাশি সবধরনের অপকর্মের বিস্তৃতিও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশের মোবাইল কোম্পানিগুলো আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। স্থানীয়দের বড় একটি অংশের নাম ঠিকানা ব্যবহার করে তারা দেশীয় সিম হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি দেশের অন্যান্য স্থানের আইডিও ব্যবহার হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে উখিয়া টেকনাফের ৩৪ শিবিরে দেশীয় সিমের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যারমধ্যে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উখিয়া টেকনাফে প্রতিষ্ঠিত ৩৪ রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশী সিম চলে গেছে। রোহিঙ্গারা কোন ধরনের বাধাবিঘ্ন ছাড়াই ব্যবহার করছে বাংলাদেশী সিমযুক্ত মোবাইল ফোন। কেউ কেউ আবার মিয়ানমারের সিমও ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য যে কোন দেশের সিমযুক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে সরকারের অনুমতি নেই। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নাগরিক। তারা বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হিসেবেই রয়েছে। শরণার্থী আইন অনুসারে কোথাও বা অপর আশ্রয় ক্যাম্পে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে ক্যাম্প ইনচার্জের অনুমতিক্রমে ক্যাম্প প্রশাসনের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের বিধান রয়েছে। নিজেরা ইচ্ছেমতো আশ্রয়দাতা দেশের বা অন্য কোন সিমযুক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে না। দেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কিছু এসআর এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ও আশেপাশে গড়ে ওঠা মোবাইলের দোকানিরা রোহিঙ্গাদের বেশি দামে সিম ও মোবাইল সেট বিক্রি করেই চলেছে। বাংলাদেশী যে কোন সিম হাটেবাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে ২’শ টাকা হারে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওই সিম বিক্রি করা হয় ২ হাজার টাকারও বেশি মূল্যে। বিশেষ করে স্থানীয়দের নামে রেজিস্ট্রেশনে সিম যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে। রোহিঙ্গাদের বেলায় শরণার্থী আইন ও দেশের প্রচলিত আইন কোনটাই প্রয়োগ করা হচ্ছে না। যার ফলে রোহিঙ্গারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ব্যবহার করছে অবৈধ অস্ত্র। সক্রিয় করে তোলা হচ্ছে সন্ত্রাসী ও মিয়ানমারের বিদ্রোহী সদস্যদের। তারা বিক্রি করে চলেছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছে মিয়ানমারের স্বর্ণের বার। ক্যাম্পে প্রায় গোলাগুলি, খুনখারাবি, অস্ত্রের ট্রেনিং, অপহরণ-গুম ও মুক্তিপণ আদায় ইত্যাদি ঘটনা ঘটে চলেছে মোবাইল ফোন যোগাযোগের কারণে।

আরও জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে ইস্যু করার কাজে জড়িত রয়েছে পুরনো রোহিঙ্গা নেতাসহ স্থানীয় দালালচক্র। একেকজন নাগরিক ১৫টি করে সিম তোলার অধিকার পাওয়ায় তাদের ওইসব সিম নিজেদের নামে রেজিস্ট্রেশন হলেও ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। দেশের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় নাগরিকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের ও সিম বিক্রেতারা ১৫টি করে বাংলাদেশী সিম পাওয়ার রেজিস্ট্রেশন কার্ড পূরণ করে নিয়েছে। ১৫টি করে যদি একজন নাগরিক সিম পাবার বা গ্রাহক হয়ে থাকেন, তাহলে ৫টি অপারেটর কোম্পানির ৭৫টি সিম মিলছে একজনের পেছনে। এভাবে মাত্র ১০ হাজার নাগরিকের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত সাড়ে সাত লাখ সিম রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

দেশীয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানির এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, তারা কোন রোহিঙ্গার নামে সিম বিক্রি করেন নাই। প্রমাণও নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তার বক্তব্য সঠিক। রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে থাকা মোবাইল সিমের রেজিস্ট্রেশন বাংলাদেশী কোন না কোন ব্যক্তির নামেই রয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালে সরকারের নির্দেশে রোহিঙ্গা শিবিরে থ্রি ও ফোর জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখায় রোহিঙ্গারা বেকায়দায় পড়ে। পুরনো রোহিঙ্গা নেতা, কিছু এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার তদ্বিরে এ বছরের মাঝামাঝি সময় ফের নেটওয়ার্ক চালু করে দেয়া হয়। নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকাকালীন সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালাতে মিয়ানমারের সিম এনে ব্যবহার করেছে বিভিন্ন শিবিরে। র‌্যাব ও পুলিশ কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে সহস্রাধিক মিয়ানমারের সিম জব্দ করেছিল ওই সময়। আটক করেছিল পাঁচ রোহিঙ্গাকে।

এদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ সিম ব্যবহার কোনভাবে বন্ধ হোক সেটা চাইছে না মোবাইল অপারেটরগুলো। যেহেতু রোহিঙ্গা শিবির থেকে তাদের দৈনিক আয় হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। একটি পরিসংখ্যান মতে যদি একজন রোহিঙ্গা দৈনিক মাত্র ২০ টাকার কথা বলে তাহলে সাত লাখ রোহিঙ্গার কাছে থাকা সিম থেকে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর আয় হচ্ছে প্রতিদিন এক কোটি ৪০ লাখ টাকা। এভাবে প্রত্যহ কোটি কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হতে চাইছে না কোম্পানিগুলো।

সূত্র জানায়, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের দোহাই দিয়ে বিদেশ থেকে অঢেল অর্থ এনে সামান্যটুকু রোহিঙ্গাদের বিতরণ করে সিংহভাগ বিদেশী অর্থ আত্মসাত করছে পুরনো রোহিঙ্গা ক্যাডাররা। হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ এনে রোহিঙ্গাদের সামান্যটুকু বিলিবন্টনের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করে ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্কের সাহায্যে ক্যাম্প থেকে ওই ভিডিও বিদেশে পাঠাচ্ছে পুরনো রোহিঙ্গা (আরএসও) নেতারা। আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলে ওই জঙ্গীদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ জন্য তারা আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহসা প্রত্যাবাসনে রাজি না হওয়া ও ভাসানচরে না যাবার ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির নেটওয়ার্ক সীমান্তের ওপারে রাখাইন জেলার মংডু জেলাজুড়ে বিস্তৃত। সেখানকার নাগরিকদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশী সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত হয়ে আছে। সীমান্তের টেকনাফ উখিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত দেশীয় মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার থেকে ওপারের ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। যদিও সরকারের গোয়েন্দা রিপোর্টে রয়েছে ১০ কিলোমিটার। এ নেটওয়ার্ক সুবিধার কারণে এদেশীয় সিম কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে মিয়ানমার অভ্যন্তরে। এরফলে এসব টাওয়ার সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করে গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া নেটওয়ার্কের ফিকোয়েন্সিও কমানোর সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এতে কোন কাজ হয়নি। উখিয়া টেকনাফের নিবন্ধিত ৩৪ ক্যাম্পের প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গার হাতে রয়েছে মোবাইল ফোন। শুধু মোবাইল সিম নয়, ক্যাম্পগুলোতে থ্রি ও ফোর জি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ও স্থানীয়ভাবে ব্রডব্যান্ড লাইন ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। আবার রোহিঙ্গা ভাষায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভি নেটওয়ার্কও গড়ে তোলা হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT