ঢাকা, বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মেহেরপুরের কপি বিশ্ব বাজারে

প্রকাশিত : 01:13 AM, 6 March 2021 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

মেহেরপুরের গাংনীর পাতাকপি এখন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে যাচ্ছে। এতে সবজি চাষের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এরই মধ্যে ৬০০ মেট্রিকটন কপি রফতানি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে কপি রফতানি হওয়ায় চাষিরা উৎসাহ পাচ্ছেন কীটনাশকমুক্ত কপি চাষে। সঠিক দাম পেলে আগামীতে মেহেরপুরের ব্যাপক কপিচাষ হবে বলে আশা করছেন কৃষিবিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা। কৃষিনির্ভর মেহেরপুর জেলায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। দেশের সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে মেহেরপুরের কৃষকদের। এবার নিরাপদ সবজি হিসেবে অগ্রাধিকার পেয়েছে গাংনী উপজেলার চাষিদের উৎপাদিত পাতাকপি। গাংনীর পাতাকপি এখন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে যাচ্ছে। এ রফতানিতে সবজি চাষের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কৃষিবিভাগ। আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে ও বিদেশে নিরাপদ সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মেহেরপুর। এভাবে বিদেশে বেশি বেশি রফতানি করতে পারলে চাষিরা যেমন উপকৃত হবে তেমন আর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। এ লক্ষ্যে কীটনাশক সহনশীল ও নিরাপদ সবজি হিসেবে পাতাকপি চাষ করছেন মেহেরপুরের চাষিরা। এরই মধ্যে ৬০০ মেট্রিকটন পাতা কপি সংগ্রহ করছেন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। ক্ষেত থেকে সাদা কাগজে মুড়িয়ে বস্তা ভর্তি করে রফতানি উপযোগী করা হচ্ছে। রফতানিকারকদের মাধ্যমে বাঁধাকপি বিক্রি করে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চুক্তিবদ্ধ বেশ কয়েকজন কৃষক। রফতানিকারকরা কৃষকের জমি থেকেই নিরাপদ বাঁধাকপি সংগ্রহ করেছেন। এগ্রো ফ্রেশ নামে একটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানটি গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুধুমাত্র গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে বাঁধাকপি সংগ্রহ করছেন।
সরেজমিনে গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি গ্রামের কৃষক আজগর আলীর পাতাকপির জমিতে দেখা যায়, কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায় পাতাকপি ক্ষেত থেকে সংগ্রহের আগেই নিরাপদ সবজির প্রক্রিয়া করা হয়। কপি সংগ্রহর পর সাদা কাগজে জড়িয়ে নেট বস্তায় ভর্তি করা হচ্ছে। কপিচাষি আজগর আলী বলেন, প্রতি বছরেই শীতকালের সবজি চাষে আমাদের লোকসান হয়। প্রতিবছর এভাবে সবজি রফতানি করতে পারলে আমরা অতি আনন্দে সবজি চাষ বৃদ্ধি করতে পারবো। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সবজি গ্রামখ্যাত সাহারবাটির নিরাপদ সবজি চাষি আবুল কাশেমসহ অনেকেই।
এগ্রো ফ্রেশ নামের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার রুবেল আহমেদ বলেন, এবছর চুক্তিবদ্ধ ৪৫ জন কৃষকের ৭৫ একর জমি থেকে নিরাপদ উপায়ে চাষ করা হয়েছে পাতাকপি। জমিতে চারা রোপণের পর থেকে কপি সংগ্রহ করা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে রফতানি উপযোগী করা হয়। এ বছর রফতানিতে বেশ চাহিদা আছে।
গত বছর মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রফতানি করা হয়েছিলো। এবছর নতুন দেশ হিসেবে তাইওয়ানেও রফতানি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৬০০ মেট্রিক টন বাঁধাকপি রফতানি করা হয়েছে। এখনো ৪০০ টনের চাহিদা রয়েছে তাই নিবন্ধিত চাষি ছাড়াও অন্যান্য নিরাপদ সবজি চাষির থেকে কপি নেয়া হচ্ছে। আগামী বছর আরো অনেক বেশি সবজি রফতানি করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, কৃষিবিভাগ সব সময়ই নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করে। রফতানির জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT