ঢাকা, সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মেধাবী ছাত্র হৃদয়কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

প্রকাশিত : 10:24 PM, 25 September 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দিনাজপুরের হিলি সিপির শফিকুল ইসলাম হিরুর ছেলে হাফিজুর রহমান হৃদয় (২২) কে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। মেধাবী ছাত্র হৃদয় বগুড়ার (আইআইটিবি) ডিপার্মেন্ট কম্পিউটার কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পর্ণ করে। সে গত দেড়বছর যাবৎ মরণব্যাধী প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগে আক্রন্ত হয়ে বর্তমান এনায়েতপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ছেলেকে বাঁচাতে তার বাবা-মা সংসারের সব শেষ করেও সুস্থ্য করতে পারছে না। চিকিৎসক বলেছেন হৃদয়ের অপারেশন করতে হবে, অপারেশন করতে প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। তার পরিবারের নিকট এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই ছেলেকে বাঁচাতে দেশের বিত্তবান, বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের নিকট আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন হৃদয়ের পরিবার।

হৃদযের বাবা হিরু হিলিতে জাকের পরিবহন কোচ কাউন্টারে কাজ করতো, বর্তমান কাউন্টারটি বন্ধ রয়েছে। হিলি পানামা পোর্টে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার একটা হাজিরার কাজ করেন। তারা দুই ভাই, বাবার স্বল্প আয়ে সংসার চলে কোন রকম। ২০১৫ সালে এসএসসি পাশ করে হৃদয়। পরে বগুড়া (আইআইটিবি) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির হওয়ার সুযোগ পায় সে। ২০১৯ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কোর্স সম্পর্ণ করে এবং ঢাকায় ইন্টার্নিও করে বাড়ি ফিরে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, চতুরদিক থেকে আসতে শুরু করে হৃদয়ের বিভিন্ন চাকরির সুযোগ-সুবিধা। এমন সময় মরণব্যাধি রোগ প্যানক্রিয়াটাইটিস আক্রমণ করল হৃদয়কে। বাবা-মার কত আশা ছিলো ছেলে বড় হবে,বড় বড় পাশ দিয়ে সরকারী চাকুরী করবে। দিনমজুরি বাবা রক্তকে পানি করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অনেক কষ্ট করে হৃদয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগিয়েছেন। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা খেয়ে না খেয়ে পাঠিয়েছেন ছেলের কাছে। ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে, বাবা-মার মুখে হাসি ফুটেছে, স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তারা ছেলেকে নিয়ে। তাকে আর রোদ-বৃষ্টিতে ঘামতে আর ভিজতে হবে না। ছোট ছেলের লেখাপড়া নিয়ে বাবাকে আর ভাবতে হবে না। হৃদয় চাকুরী করবে, ছোট ভাইকে লেখাপড়া করিয়ে তার মতো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করবে, সংসারের হাল ধরবে। হঠাৎ মরণব্যাধি রোগ হৃদয়কে গ্রাস করলো, ভেঙে গেলো তাদের সব স্বপ্ন। এবার ছেলেকে বাঁচাতে সংসারে যা ছিলো তাই বিক্রি করে শুরু করলো ছেলেকে বাঁচানোর সংগ্রাম। আজ বাবা নিঃস্ব, আর কুলাতে পারছেন না তিনি। হইতো স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার সাথে সাথে ছেলেকেও হারাতে বসেছে তারা।

হৃদয়ের মা শাপলা বেগম বলেন, আমার ছেলে সমাজের আট-দশ জন ভাল ছাত্রদের মধ্যে একজন। ছোট থেকে সে সুন্দর সুস্থ্যসবল ভাবে চলাফেরা করে আসছে। সে বগুড়া (আইআইটিবি) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পর্ণ করেছে। গত দেড় বছর আগে আমার ছেলে হৃদয়ের প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়। ছেলেকে সুস্থ্য করার জন্য বগুড়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করেছি। বর্তমান তাকে নিয়ে এনায়েতপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। তা ছাড়াও ভারতে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম,কিন্তু অর্থের স্বল্পতার কারণে যেতে পারিনি। ছেলেকে ভাল করার জন্য আমার সংসারে যা সম্পদ ছিলো আজ তা শেষ হয়ে গেছে। তার পরও তাকে সুস্থ্য করতে পারছিনা। শেষে ডাক্তার বলেছেন তার অপারেশন করলে ছেলে সুস্থ্য হবে। অপারেশন করতে প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন, কিন্তু এতোগুলো টাকা জোগার করা আমার পক্ষে সম্ভব নই। তাই ছেলেকে বাঁচার জন্য আজ আমি দেশের হৃদয়বান, বিত্তবান, বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য কামনা করছি। আর্থিক সহযোগীতার জন্য ফোন নাম্বার= ০১৭৯৩-৫৫১৭৬১

হৃদয়ের চাচা টগর মল্লিক বলেন, ভাইয়ের পাশাপাশি আমিও স্বপ্ন দেখতা হৃদয় একদিন অনেক বড় হবে। আজ শুধু আশা,আশায় রয়ে গেলো। আমরা আত্বীয়-স্বজন যে যেমন পেরেছি তেমন ভাবে তার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করে আসছি। তারপরও ছেলেকে সুস্থ্য করতে পারছিনা। সিরাজগঞ্জ এনায়েতপুর হাসপাতালে হৃদয় এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসক বলেছেন তাকে সুস্থ্য করতে হলে অপারেশন করতে হবে।

হাকিমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি সোহাগ সরকার বলেন, হৃদয় আমাদের বন্ধু মানুষ, অনেক কষ্ট করে তার বাবা-মা তাকে লেখাপড়া করিয়েছেন। তাকে নিয়ে আমরা অহংকার করি। হৃদয় ছিলো সবার হৃদয়ে এবং হিলির গর্ব। তার এই অসুস্থতার জন্য আমরা মর্মাহত। তাকে আমরা সুস্থ্য করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের সংগঠনসহ হিলির আরও দুইটি সংগঠন তারুণ্য শক্তি ও উদ্দিপ্ত তরুণ মিলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সারাদিন হিলির বিভিন্ন ধনী ও ব্যবসায়ীদের নিকট গিয়েছি। তাদের কাছে যা পেয়েছি তা হৃদয়ের পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি।

হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন জানান, হৃদয় একজন ভাল ও ভদ্র ছেলে এবং মেধাবী ছাত্র ছিলো। এতো অল্প বয়সে তাকে মরণব্যাধিতে আক্রমণ করেছে, এটা আমার মোটেই কাম্য নই। তাকে সহযোগিতার জন্য ইতিমধ্যে হিলির কয়েকটি সংগঠন বিভিন্ন স্থান থেকে অর্থ নিয়ে তার পরিবারের হাতে তুলে দিচ্ছে। আমার নিকটেও তার পরিবার এসেছে, আমি যথাসাধ্য তাদের আর্থিক সহযোগিতা করবো।
তিনি আরও বলেন, আমরা যারা বিত্তবান বা হৃদয়বান আছি তারা স্বস্ব স্থান থেকে এই অসহায় হৃদয়ের পাশে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করবো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT