ঢাকা, সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মুখোমুখি বিতর্কে পেন্স-হ্যারিসের বাগ্যুদ্ধ

প্রকাশিত : 10:49 AM, 9 October 2020 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দলের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মাইক পেন্স ও কমলা হ্যারিস এবার বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটির উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই প্রার্থী লাইভ টেলিভিশন বিতর্কে পরস্পরের মুখোমুখি হন। এ সময় করোনাভাইরাস ও বর্ণবাদের মতো নানা ইস্যুতে পরস্পরকে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে জনমত নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করেন। এর বাইরে দেড় ঘণ্টার ওই বিতর্কে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, আইন-শৃঙ্খলা, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সুপ্রীমকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের মতো বিষয়গুলো। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।

বিতর্কের অনেকটা অংশজুড়েই ছিল করোনা মহামারী মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্ণবাদ ইস্যু নিয়ে। ডেমোক্র্যাট ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ব্যর্থ প্রশাসন’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মহামারী মোকাবেলার পরিকল্পনা হোয়াইট হাউস থেকে ‘চুরি করা’ বলে অভিযোগ করেছেন। এদিন বিতর্কের এক পর্যায়ে একটি মাছি উড়ে এসে পেন্সের মাথায় বসা এবং দুই মিনিট অবস্থান করার ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প-বাইডেন উত্তপ্ত ও বিশৃঙ্খল বিতর্কের তুলনায় এদিন দুই ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর বিতর্ক ছিল বেশ শান্ত। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কে বাইডেন ও ট্রাম্প একে অপরকে অপমান করেছেন, একজনের কথা বলার সময় অন্যজন বাধাও দিয়েছেন। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের বিতর্কে তেমনটা দেখা যায়নি। পেন্স দুই-একবার কমলার কথার মাঝখানে কথা বলার চেষ্টা করলেও বাইডেনের রানিংমেটকে তাৎক্ষণিকভাবে বলতে শোনা গেছে, মিস্টার ভাইস প্রেসিডেন্ট, আমি কথা বলছি, আমি কথা বলছি। দেড় ঘণ্টার এ বিতর্কে দুইজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডাও হয়েছে। পেন্স ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনেছেন কমলা হ্যারিস। কমলা বলেন, তারা জানতেন আর তারা তা লুকিয়েছেন, এর মাধ্যমে তারা পুনর্নির্বাচন করার অধিকারও হারিয়েছেন। রিপাবলিকান পেন্স তার বক্তব্যে বাইডেন-হ্যারিস শিবিরের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের মহামারী মোকাবেলার কৌশল হুবহু নকল করার অভিযোগ করেন। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৮৭ সালে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নের দৌড় থেকে বাইডেনের ছিটকে পড়ার দিকেও ইঙ্গিত করেন। সেবার বাইডেনের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ লেবার নেতা নেইল কিনোকের বক্তৃতা চুরির অভিযোগ উঠেছিল। বিতর্কের এক পর্যায়ে সঞ্চালক নির্বাচনের আগে কোন টিকা অনুমোদন পেলে ও সরবরাহ শুরু হলে হ্যারিস তা গ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাইলে ডেমোক্র্যাট ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বলেন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা না বললে কেবল ট্রাম্পের কথায় তিনি টিকা নেবেন না। ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থানের জবাবে বলেন, হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের প্রধান পেন্স বলেন, আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে কোন টিকা এলেও আপনি (কমলা হ্যারিস) ওই টিকার বিষয়ে ধারাবাহিকতা জনগণের আস্থা হ্রাসের চেষ্টা করবেন, যাকে বিবেকবর্জিত কাজ বলেই আমি মনে করি। বর্ণবাদ নিয়ে আলোচনায় মার্কিন এ ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, মিনেসোটায় জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড তাকে মর্মাহত করেছে। তবে এরপরও দাঙ্গা ও লুটপাটের কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। পেন্স অডিটরিয়ামে থাকা তার এক অতিথি ফ্লোরা ওয়েস্টব্রুকসের প্রসঙ্গও তোলেন। মিনিয়াপোলিসে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার সময় কৃষ্ণাঙ্গ এ নারীর ‘হেয়ার স্টুডিও’ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। বিতর্কের এক পর্যায়ে পেন্স বলেন, বাইডেন ও হ্যারিস যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পদ্ধতিগতভাবে বর্ণবাদী দেশ’ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মার্কিন পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করে বলে দাবি করে আসছে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘মারাত্মক অপমানজনক’। পেন্সের এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে হ্যারিস বলেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ৭ কোটি মার্কিনীর সামনে একটি বিতর্ক মঞ্চে দাঁড়িয়ে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তার উত্তরে পেন্স বলেন, তা সত্য নয়, সত্য নয়। কমলা হ্যারিস যখন সানফ্রান্সিসকোর কৌঁসুলি ছিলেন, তখন ছোটখাটো মাদক সংক্রান্ত অপরাধে শ্বেতাঙ্গ কিংবা লাতিন বংশোদ্ভূতদের চেয়ে আফ্রিকান-আমেরিকানদেরই বেশি বিচার হয়েছিল।

কমলা চীনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘শুল্ক যুদ্ধেরও’ বিরোধিতা করেন, এর ফলে উৎপাদন খাতে মন্দা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোন দলের হয়ে প্রথমবারের মতো ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করা কৃষ্ণাঙ্গ এ নারী। তিনি বলেন, শুল্ক যুদ্ধে আপনারা হেরে গেছেন। আপনারা হেরেছেন। পাল্টা উত্তরে পেন্স বলেন, চীনের সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধে হার? জো বাইডেন কখনও এই যুদ্ধ করেননি। বাইডেন গত কয়েক দশক ধরেই কমিউনিস্ট চীনের চিয়ারলিডারের ভূমিকায় আছেন। কমলা হ্যারিস তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত ট্রাম্পের বছরে মাত্র ৭৫০ ডলার কর দেয়ার প্রসঙ্গও টানেন। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অংশের স্বৈরশাসকদের কাছে টেনে নিয়েছেন। পেন্স এর জবাবে বলেন, ট্রাম্পের নির্দেশেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের আবু বকর আল-বাগদাদি ও ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যা করা হয়েছে।

বিতর্ক অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ইউএসএ টুডের সাংবাদিক সুসান পেজ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে জানতে চান, অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু সবচেয়ে বেশি কেন? এমনকি প্রতিবেশী কানাডার চেয়েও এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ার কারণ কি? উত্তরে পেন্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি দেশের জন্য যা করেছেন অন্য কোন প্রেসিডেন্ট তা করেননি। এমনকি তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সব ধরনের ভ্রমণ বাতিল করেছেন। অন্যদিকে কমলা হ্যারিস বলেন, করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন জানত। অথচ জেনেশুনেই তারা এটি ধামাচাপা দিয়েছে। দেশের এমন সঙ্কটময় মুহূর্তে জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT