ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

শিরোনাম
◈ করোনা ভাইরাস ॥ সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদের মৃত্যু ◈ “লকডাউনে কাউকে রাস্তাঘাটে দেখতে চাই না” ◈ ১০০ গ্রামকে কৃষি ডিজিটাল গ্রাম করবে সরকার ॥ পলক ◈ লকডাউনে এটিএম বুথ থেকে কার্ড দিয়ে এককালীন এক লাখ টাকা তোলা যাবে ◈ বসনিয়ায় গৃহযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক কর্মীদের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক যৌন ব্যবসা শুরু হয় ◈ যেসব কারণে সর্বোচ্চ সুসময় পার করছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ◈ কার্যকারিতায় কোভিশিল্ডের চেয়ে এগিয়ে কোভ্যাক্সিন ◈ রয়টার্সে ১৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান সম্পাদক হলেন আলেসান্দ্রা ◈ ১৪ এপ্রিল থেকে শিল্প-কারখানা বাদে সব অফিস-গণপরিবহন বন্ধ ◈ ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন, প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযোদ্ধা মিত্রবাহিনীর ব্যবহার করা অস্ত্র, গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি

প্রকাশিত : 09:12 AM, 28 December 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বাঙালীর লড়াই অনেক পুরনো। নানাভাবেই লড়াই করতে হয়েছে। তবে অস্ত্র হাতে পাকিস্তানী শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ইতিহাসটি আর সব ইতিহাস থেকে আলাদা। চির গৌরবের। কিন্তু কেন যেন একাত্তরের সেই সম্মুখ সমর, সেই যুদ্ধজয়ের গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি আজকের দিনে খুব একটা সামনে আসে না। এ জায়গা থেকে দেখলে জাতীয় জাদুঘরের চলমান প্রদর্শনীটি ব্যতিক্রম এবং আলাদা তাৎপর্যের। বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর ব্যবহার করা অস্ত্রশস্ত্র। চলমান প্রদর্শনী ঘুরে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল সে সম্পর্কে চমৎকার একটি ধারণা পাওয়া যায়।

প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়েছে নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে। এখানে একাত্তরের অস্ত্রশস্ত্র গোলা বারুদ ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে। এক সময়ের অস্ত্র এখন অমূল্য নিদর্শন। তার পরও দেখতে গিয়ে বুকে এক ধরনের সাহস সঞ্চার হয়। মুক্তিযুদ্ধটা আসলে কত কঠিন ছিল, অনুমান করা যায়। নতুন করে জেগে ওঠে দেশপ্রেম।

প্রথমেই চোখে পড়ে রণাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার করা অস্ত্রশস্ত্র। একেবারেই সাধারণ দেখতে অস্ত্র সময়ের প্রয়োজনে গর্জে উঠেছিল। প্রতিটি অস্ত্র যুদ্ধজয়ের সাক্ষী। প্রদর্শনীতে রাখা কাঠের বাঁটযুক্ত রাইফেল ৭.৬২ এমএম ২এ ইসাপুর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কাঠ ও ধাতব বাঁটযুক্ত অস্ত্রে বীরদের হাতের ছাপ। না, খালি চোখে দেখা যায় না। অনুভব করা যায় ঠিকই। বাঙালী যোদ্ধাদের ব্যবহার করা গোলার খোসাও সাজিয়ে রাখা হয়েছে গ্যালারির মেঝেতে। খোসাগুলোও এখন তরতাজা ইতিহাস।

ভারতীয় বাহিনীর ব্যবহার করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে আলাদাভাবে চোখে পড়ে ১০৬ এমএম রিকইলেস এন্টি ট্যাঙ্ক গান। যুদ্ধের ময়দানে যেভাবে স্থাপন করা হতো, অনেকটা সেভাবেই গ্যালারিতে স্থাপন করা হয়েছে। বিরাট নলযুক্ত এন্টি ট্যাঙ্ক গান কৌতূহলী চোখে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ৪০ এমএম আরপিজি এ্যান্টিট্যাঙ্ক ১৯৬১ সালে তৈরি। সহজে বহনযোগ্য। আছে ২ ইঞ্চি মর্টার। ১৯৪৪ সালে তৈরি মর্টার একাত্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করেছেন। প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে রকেট লাঞ্চারও। ৩.৫ ইঞ্চি রকেট লাঞ্চার ১৯৪৪ সালে তৈরি। মুক্তিযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা এটি ব্যবহার করেছেন বলে জানা যায়।

একাত্তরের রণাঙ্গনে ভারতীয় সেনারা ব্যাপকহারে ব্যবহার করেছেন ব্রেন গান মেশিন এম কে ২। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীও এটি ব্যবহার করেছে। পরবর্তীতে আসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা এটি ব্যবহার করেন। প্রদর্শিত হচ্ছে কাঠের বাঁটযুক্ত ব্রেন গান মেশিন ও স্নাইপার রাইফেল। ১৯৬৩ সালে তৈরি স্নাইপার ভারতীয় বাহিনীর অত্যন্ত কার্যকর একটি অস্ত্র হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে সেল্ফ লোডিং রাইফেল। গ্যালারিতে রাখা ৭.৬২ এমএম ১এ১ সেল্ফ লোডিং রাইফেলটি ১৯৫৪ সালে তৈরি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদাতিক সৈন্যবাহিনীর আদর্শ রাইফেল হিসেবে এটি ব্যাপক ব্যবহৃত হয়েছিল বলে জানা যায়। জি ৩ পি ৩ ৭.৬২ এমএম রাইফেলটিও ব্যবহার করেছিল পদাতিক সৈন্যবাহিনী। একইভাবে কার্বাইন মেশিন, স্টেনগানও তুলে ধরছে যুদ্ধ দিনের স্মৃতি।

এসবের বাইরে একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যার ইতিহাসটিও তুলে ধরা হয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে। গ্লাস শোকেসে রাখা হয়েছে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নিহত দুজনের মাথার খুলি। কী নির্মম গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তান বাহিনী নিদর্শনগুলোর দিকে তাকিয়ে উপলব্ধি করা যায়।

এছাড়াও গ্যালারির প্রতিটি দেয়ালে আলোকচিত্র। এসব আলোকচিত্রেও একাত্তরের খণ্ডচিত্র। ছবিতে পাকিস্তান বাহিনীর বর্বর গণহত্যার ইতিহাস বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ঘুরে ফিরে এসেছেন বাঙালীর মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জনসভা বৈঠকের ছবি দেখলে ঘটনাবহুল সময়ের উত্তাপ অনুভব করা যায়।

প্রদর্শনীতে আছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার কপি। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর অনেক ঘটনা ও বিশ্লেষণ জানা যায় সেসময় প্রকাশিত পত্রিকার পাতা থেকে। একাধিক গ্লাস শোকেসে যুদ্ধদিনের সংবাদপত্র। আছে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত পোস্টার ও লিফলেট। মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা কিছু বইও রাখা হয়েছে।

রণাঙ্গন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতের লেখা চিঠি দেখে অশ্রুসিক্ত হতে হয়। কেউ প্রিয় বাবার কাছে লিখেছেন। কেউ বলছেন মাকে উদ্দেশ্য করে। কত কত কথা! আবেগী উচ্চারণ! মন নরম হয়ে যায়। বুক কেমন যেন হাহাকার করে ওঠে। সব মিলিয়ে সমৃদ্ধ আয়োজন। বিশেষ প্রদর্শনী ডিসেম্বরের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT