ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত : 01:30 PM, 8 December 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজাকারের তালিকা করার বিধান রেখে নতুন মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২০’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া মন্ত্রিসভা এখন থেকে সরকারী সব দফতরের তথ্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্কের কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টারে রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। টাকা দিয়ে বেসরকারী খাতের তথ্যও এই ডাটা সেন্টারে রাখা যাবে। পাশাপাশি জরিমানার পরও মানুষের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচার কার্যক্রমের নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০০২ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ছিল। সেই আইন পরিপূর্ণভাবে বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের খসড়া করেছে। এই আইন পাস হলে আগের আইন বাতিল হয়ে যাবে। আইনের খসড়ায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নিবন্ধন কীভাবে হবে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান সংগঠনের নিবন্ধনের বিধান, কাউন্সিলের কার্যকলাপ পরিচালনা, কীভাবে অর্থায়ন হবে, কাউন্সিলের তহবিল ও বাজেট কীভাবে হবে এসব বিষয় রাখা হয়েছে। আগের আইনকে বদলে এ আইন করা হচ্ছে।

খসড়া অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্রযুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের একটা তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। আগের আইনে এ বিধান ছিল না।

নতুন আইন অনুযায়ী অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গেজেটভুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে।

কী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা নির্ভর করবে কেমন অপরাধ করেছে তার ওপর। শুধু সার্টিফিকেট নিয়েছে নাকি অন্য সুবিধা নিয়েছে, নাকি দুটোই নিয়েছে বা তার সন্তানরাও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন কিনা, আইন অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করা হবে। দণ্ডবিধি অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশের কথাও খসড়া আইনে বলা আছে। আগের আইনেও এই বিধান ছিল।

রাজাকারের তালিকা কীভাবে করা হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজাকারের তালিকা করার বিষয়টি খসড়া আইনে রাখা হয়েছে। আইনে সব বিষয়ে বিস্তারিত নেই। এ বিষয়ে একটা বিধিমালা করা হবে। স্বাধীনতাবিরোধী বলতে কী বোঝাবে বিধিমালাতে তা বিস্তারিত বলা থাকবে। আগে আইন হোক, এরপর বিধি করবে। কীভাবে এই তালিকা করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়নি।

সরকারী তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টারে রাখা বাধ্যতামূলক ॥ এখন থেকে সরকারী সব দফতরের তথ্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্কের কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টারে রাখা বাধ্যতামূলক। এছাড়া টাকা দিয়ে বেসরকারী খাতের তথ্যও এই ডাটা সেন্টারে রাখা যাবে। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড’ শীর্ষক কোম্পানির ‘মেমোরেন্ডাম অব এ্যাসোসিয়েশন এবং আর্টিক্যাল অব এ্যাসোসিয়েশনের’ সংশোধিত খসড়া ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবার ডাটা আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) মন্ত্রণালয়ের কালিয়াকৈরের মেগা ডাটা সেন্টারে রাখতে হবে। এমনকি বিদেশীদেরটাও রাখা যাবে। কিন্তু সেটার জন্য প্রথমে একটা কার্যপরিচালানা তহবিল (অরপারেটিং ফান্ড) দিয়ে দিচ্ছে। এরপর থেকে সরকার টাকা দেবে না। তারাই ডাটা স্টোর করে যে টাকা-পয়সা পাবে সেটা দিয়েই এটি পরিচালনা করবে এবং ভবিষ্যতে এটা বাড়বে।

সচিব বলেন, কিন্তু এটার জন্য বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি করতে হবে। এটা যখন নিয়ে আসছিল, তখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছু আপত্তি দেয়া হল। যেহেতু টাকাটা বাংলাদেশ দিচ্ছে, সেজন্য কোম্পানির মালিক কম্পিউটার কাউন্সিল হতে পারবে না, এটা সরকার হতে পারবে।

তিনি বলেন, মূল কথা- প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের একটা করে সার্ভার বসায়, এখন থেকে কেউ আর তা পারবে না। সবার ডাটা এই কালিয়াকৈরে ডাটা সেন্টারে কোম্পানির অধীনে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ, ওখানে সব রকম নিরাপত্তা থাকবে। এটার একটা ‘ব্যাকআপ’ আছে যশোরে। কোন কারণে যদি কালিয়াকৈরে কোন রকমের সমস্যা হয়, সব ডাটা যশোরের ‘ব্যাকআপ সেন্টার’ থেকে উদ্ধার করা যাবে।

আগে সবার তথ্য কালিয়াকৈরের ডাটা সেন্টারে রাখার নির্দেশনা ছিল কিন্তু সেটা পুরোপুরি মানা হতো না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্প্রতি আমরা দেখলাম বড় বড় কিছু ডাটা ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু এখন থেকে সব সরকারী ডাটা ওখানে স্টোর করা যাবে। এখন পর্যন্ত সাত টেরাবাইট ডাটা সংরক্ষণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এ সেন্টার দেখে গেছেন। তিনি জানান, ইউরোপেও এত বড় ডাটা সেন্টার নেই। তাদের ডাটাও এখানে স্টোর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, প্রাইভেট সেক্টরের লোকজন টাকা দিয়ে ডাটা সংরক্ষণ করতে পারবে। নিজেদের আর সার্ভার করার দরকার হবে না। এখানে যারা তথ্য সংরক্ষণ করবেন ওই ডাটা সেন্টারের মালিকও ঢুকতে পারবে না, বুঝতেও পারবে না, কিছুই করতে পারবে না। যিনি সংরক্ষণ করবেন কেবল তারই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শুধু তিনিই এতে প্রবেশ করতে পারবেন।

মাস্ক পরা নিশ্চিতে সরকারের নতুন পদক্ষেপ ॥ জরিমানার পরও মানুষের মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচার কার্যক্রমের নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ পদক্ষেপের কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাঠ প্রশাসন থেকে আমাদের কাছে সুপারিশ এসেছে। তারা বলছেন, জরিমানা করার পরে, জেল দেয়ার পরে মানুষের মধ্যে ওইভাবে সচেতনতা আসছে না। সেক্ষেত্রে কাউকে জরিমানা করলে সে বলে- ওই যে চার-পাঁচজন মাস্ক ছাড়া যাচ্ছে ওদের জরিমানা করেন।

সেজন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে- স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে প্রচার করতে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলে দিয়েছে বিসিসিআইসহ যারা আছে তারা সবাই যেন প্রচারে নামেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচার করতে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওনার অঙ্গ-সংগঠনে যারা আছে তাদের সবাইকে ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন দিয়েছেন, যে প্রোগ্রামেই যারা আসবেন, যত যাই করুক, প্রোগ্রামে অবশ্যই তাদের মাস্ক পরতে হবে। তারা ম্যাসিভ ক্যাম্পেন করবে।

খন্দকার আনোয়ারুল আরও বলেন, যে ভাবসাব দেখা যাচ্ছে, যেভাবে বাড়ছে তাতে এটা আল্লাহ না করুক শীত যদি একটু বেশি পড়ে তাহলে আরও নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট পড়বে। শুধু জেল-জরিমানা করলেই হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রধানমন্ত্রী কাপড়ের মাস্ক দিতে বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলে ধুয়ে ব্যবহার করতে পারবে। জেলা প্রশাসনসহ মাঠ প্রশাসনের সবাইকে বলে দিয়েছি এখন থেকে তিন লেয়ারের কাপড়ের মাস্ক দিতে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বলেছে, মাস্ক যদি না পরে কোন কিছুই সফল করা সম্ভব হবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT