ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

“মা ইলিশ ধরবো না দেশের ক্ষতি করবো না”

প্রকাশিত : 11:37 AM, 15 October 2020 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

‘মা ইলিশ ধরবো না, দেশের ক্ষতি করবো না’ স্লোগানে কয়েক শ’ জেলের মা ইলিশ রক্ষায় সরব উপস্থিতি নদীতে। ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নবেম্বর ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই সময়ে সরকারের নানা সহায়তাও পাচ্ছে জেলেরা। এবার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলেরাই স্বতঃস্ফূর্ত পাহারা দিচ্ছে মা ইলিশ মাছ রক্ষায়। আর নদীতে তৈরি হয়েছে ইলিশ রক্ষার প্রচারের এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের প্রথম দিনই এ দৃশ্য দেখা যায় মেঘনা নদীতে। নদীতে ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকারসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা।

বুধবার নৌপুলিশের ব্যবস্থাপনায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ব্রিজ ঘাট থেকে নৌপথে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ঘাট পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। এ সময় শত শত জেলে ও মৎস্যজীবী নদীতে নৌকা ও ট্রলারে করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের গুরুত্বসম্বলিত সেøাগান দিয়ে ও গান গেয়ে অভিযানের ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারে অংশগ্রহণ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনার যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। বালুবাহী যাত্রীবাহী ট্রলার দেখা গেলেও কোন মাছ ধরার দৃশ্য নেই নদীতে। এরই মধ্যে প্রায় শতাধিকের বেশি ট্রলারে চেপে শত শত জেলে মাছ না ধরার প্রচার চালাচ্ছেন। জেলেদের পাশাপাশি নৌপুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।

জেলেরা স্বতঃস্ফূর্ত মা ইলিশ রক্ষায় ॥ এ প্রচারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার বলেন, সরকারের প্রচারের কারণে জেলেরা আজ সচেতন হয়েছেন। এখন জেলেরা নিজের লাভ বুঝতে পারে যে মা ইলিশ ধরলে নিজেদের ক্ষতি। চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে টহলের পাশাপাশি জেলে পাড়াগুলোতে প্রচার চালাচ্ছে সরকার।

মোহনপুর লঞ্চঘাটে অভিযান তদারকি করতে গিয়ে স্থানীয় জেলে, বাসিন্দা জনপ্রতিনিদিদের উদ্দেশে মৎস্যমন্ত্রী শ. ম রেজাউল বলেন, এবার মা ইলিশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আকাশপথে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে তাদের ঠিকানা হবে জেলখানা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সঙ্গে সাজা দেয়া হবে। কাজেই কোন দুর্বৃত্তের প্ররোচনায় মৎস্যজীবী ভাইয়েরা মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বিঘœ ঘটাবেন না। মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি গভীর রাতেও মা মাছ ধরতে আসে তাদের আটকানোর জন্য নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান থাকবে। আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব কেউ মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ধুলিসাৎ করার জন্য ভূমিকা রাখছেন কিনা।

পরে মন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২০ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। মা ইলিশ রক্ষা তদারকি কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ মোঃ ইমদাদুল হক, সুবল বোস মনি, মোঃ তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, নৌপুলিশের ডিআইজি মোঃ আতিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মোঃ মাহমুদুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুসসহ মৎস্যজীবীদের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT