বুধবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মায়ের কোলে ফিরল গ্রেফতার সেই চার শিশু

প্রকাশিত : 11:32 AM, 10 October 2020 Saturday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

জেলার বাকেরগঞ্জ থানায় কথিত ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার শিশু আসামিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে হাইকোর্টের এক আদেশের পর শুক্রবার সকাল আটটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ওই চার শিশুকে তাদের অভিভাবকের হাতে তুলে দিয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বুকে জড়িয়ে ধরে বিলাপ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামসহ প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তারা।

এর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে বরিশালের শিশু আদালত চার শিশুকে জামিন দেয়। এর পর রাতেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালককে তাদের মুক্তির জন্য ই-মেইলে বার্তা প্রেরণ করেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশ অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বরিশালের বিচারক চার শিশুকে জামিন দেন বলে জানিয়েছেন সুপ্রীমকোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

অপরদিকে আগামী ১১ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে চার শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ বাকেরগঞ্জ থানার ওসি এবং বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহকে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ধর্ষণের শিকার ছয় বছরের শিশুর মেডিক্যাল প্রতিবেদন ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশ বৃহস্পতিবার রাতেই টেলিফোনে বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ এবং বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে অবহিত করা হয়। এরপর বরিশালের সংশ্লিষ্টরা চার শিশুকে জামিন এবং তাদের যশোর থেকে বরিশালে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

শুক্রবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতেই যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে ওই চার শিশুকে বরিশালে এনে সকালে তাদের বাবা ও মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে মামলার এজাহারে আসামি ওই চার শিশুর মধ্যে তিনজনের বয়স ১০ বছর ও একজনের বয়স ১১ বছর দেখানো হলেও তাদের অদের দাশিশুদের বয়স ৯ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

উল্লেখ্য, ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে আসামি করে গত ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় চার শিশুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরেরদিন ৭ অক্টোবর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ এক আদেশে ওই চার শিশুকে যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। ওইদিন সন্ধ্যায় চার শিশুকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময়ে আদালতপাড়ায় হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কথিত ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত চার শিশুর চিৎকার, আতঙ্কগ্রস্ত চেহারা আর বাবা-মাকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মীরাও কেঁদে ফেলেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে বিচারপতি মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসে। এর পর ওদিন রাতেই বিচারপতিদ্বয় নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ভার্চুয়াল আদালত বসান। শুক্রবার সকালে নিজ সন্তানদের ফিরে পেয়ে কান্নাজড়িতকণ্ঠে ওই চার শিশুর পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী হাইকোর্টের বিচারপতিদ্বয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার সকালে রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি ধর্ষণ নয়। ধর্ষণের ঘটনা সাজানো হয়েছে। মূলত বাদী ও বিবাদীর পরিবার আপন চাচা-ভাতিজা। উভয়পক্ষের মধ্যে ১৫ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে অসংখ্যবার আমি নিজেও শালিস বৈঠক করেছি। পুরনো শত্রুতার জেরধরে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি পুরো ঘটনাটি সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনসহ দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।

বরিশালের একাধিক আইনজীবী আক্ষেপ করে জনকণ্ঠকে বলেন, থানা পুলিশ অভিযোগ পেয়েই কোন ধরনের তদন্ত না করে মামলা রুজু করা এবং আসামিদের বয়সের বিবেচনা না করে চার শিশুকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার পুরো বিষয়টি রহস্যজনক।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জনকণ্ঠকে বলেন, মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন- তার ছয় বছরের কন্যাশিশুটিকে ওই চার শিশু খেলার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করেছি। ওসি আরও বলেন, এজাহারে তিন আসামির বয়স ১০ বছর ও একজনের ১১ বছর দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনজনের বয়স ৯ বছর এবং একজনের বয়স দশ বছর দুইমাস। আলোচিত এ মামলার বাদীর (জাহিদুর রহমান রুবেল) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT