ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মানুষ আর মানুষ, বিক্রেতারা বলছেন ‘ক্রেতা কম’

প্রকাশিত : 10:04 AM, 3 May 2021 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

মানুষ আর মানুষ। কেউ কেনাকাটা করছে, কেউ করছে বিক্রি; কেউ বা আবার ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে একটি অংশের মুখে মাস্ক নেই। আর শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার সুযোগও নেই, বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। কেউ দিচ্ছেন গরমের অজুহাত, কেউ বা কথা বলতে সমস্যা হয় বলে জানালেন।

এ দৃশ্য আজ রোববার দুপুরের নিউমার্কেট এলাকার। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেকের মুখেই মাস্ক নেই। তবে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই হাসি দিয়ে মাস্ক পরে নেন অনেকেই।

চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। যেন নিউমার্কেট এলাকাজুড়ে কোথাও শারীরিক দূরত্ব মেনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। তবুও বিক্রেতারা বলছেন, তেমন একটা লোকজন আসছে না কেনাকাটা করতে। বেশ কিছুক্ষণ কথার পর শরিফুল নামের এক বিক্রেতা বললেন, ‘আজ মানুষ কম আসছে। তবে গত দুদিন বেশি বেশি লোক ছিল। শুক্রবার ও পহেলা মে সরকারি ছুটি ছিল। ফলে মানুষ এসেছিল অনেক।’

এই যে দাঁড়ানোর জায়গা নেই, লোক কম হলো কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফুল নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘ওই তো বেশি না। আরও বেশি আশা করছি আমরা। ভালো ব্যবসা হচ্ছে না।’

তবে পাশের এক বিক্রেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বললেন, ‘আসলে যতই লোক আসুক আর যতই বিক্রি হোক। দোকানিরা কখনো বলবে না, অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। বা বেশি লোকজন আসছে।’

ইমান আলী একজন পোশাক বিক্রেতা। তিনি ফুটপাতে বসে বিক্রি করছেন। তিনি ও তার দোকানে চারজন ক্রেতা ছিলেন। কথা বলার সময় কারও মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। চার ক্রেতা চলে গেলে তিনি বললেন, ‘আজ ক্রেতা কম। বিক্রিও কম। গত শুক্র ও শনিবার আজকের চেয়ে অনেক বেশি ক্রেতা ছিল। আর মাস্ক পরতে কষ্ট হয়। যে গরম।’

আইয়ুব হোসেন একজন বিক্রেতা। তিনি বললেন, ‘বিক্রি খারাপ না। তবে লোকজন কম। গাড়ি চললে লোকজন বাড়বে। আমরা সেই আশায় আছি। কিন্তু অন্যবার ঈদের আগে অনেক ভিড় থাকে। বিক্রি আরও ভালো হয়।’

কিন্তু আইয়ুব হোসেনের দোকানে থাকা তিন ক্রেতার করও মুখে মাস্ক ছিল না। মাস্ক ছিল থুতনির নিচে। তাঁদের ভেতরে সামাদ নামের একজন বললেন, ‘এতক্ষণ মাস্ক পরে ছিলাম। দোকানে দাঁড়িয়ে খুলে ফেলেছি।’

পুরো নিউমার্কেট এলাকায় বেশ কিছু বিক্রেতা ও ক্রেতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে তারা অনেকেই অসচেতন। আর শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে তাদের স্পষ্ট মত। মামুন নামের এক বিক্রেতা বলেই বসলেন, ‘এইটুকু নিউমার্কেট, হাজার হাজার মানুষ আসে। এখানে আপনি শারীরিক দূরত্ব কীভাবে রক্ষা করবেন? এটা নিয়ে যতই বলেন, তা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।’

শারীরিক দূরত্বের ব্যাপারে বেশির ভাগ ক্রেতা ও বিক্রেতা একই কথা বলেছেন। তবে শামীম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসন কঠোর থাকলে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব। প্রশাসন কঠোর থাকলে দোকানিরা প্রয়োজনে দোকানে মধ্যে গোল চিহ্ন দিয়ে দিত। তাতে নিয়ম মানা সম্ভব হতো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT