ঢাকা, সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মাদ্রাসার দুই ছাত্র ২ শিক্ষক গ্রেফতার

প্রকাশিত : 09:40 AM, 7 December 2020 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

অবশেষে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ধরা পড়ল কুষ্টিয়ায় বহুল আলোচিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার হোতা দুই মাদ্রাসা ছাত্র। একই সঙ্গে মাদ্রাসার দুই শিক্ষককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সারাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনায় সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ঘটনায় সরাসরি জড়িত এ দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। রবিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি এম নাহিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাতসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো, মাদ্রাসা ছাত্র আবু বক্কর মিঠুন (১৯), সবুজ ইসলাম নাহিদ (২০) এবং ইবনি মাসউদ (রা.) নামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক আল আমিন ও ইউসুফ আলী। এর মধ্যে মিঠুন মিরপুর উপজেলার শিংপুর গ্রামের সমশের মৃধার ছেলে। আর নাহিদ দৌলতপুর উপজেলার গোলাবাড়িয়া গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে। শিক্ষকদের মধ্যে ইউসুফ আলী পাবনার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের আজিজুল মণ্ডলের ছেলে এবং আল আমিন কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। শনিবার কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা জানাজানি হলে, তা দেশ ব্যাপী উত্তাপ ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশে রাস্তায় নামে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, সমমনা রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠন। এতে মারাত্মক চাপে পড়ে যায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। রবিবারেও কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সামাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে শহরের জুগিয়া এলাকায় পুলিশের একটি প্রাত্যহিক টহল ছিল। এ সময় জুব্বা ও পাগড়ি পরা দুজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে তারা। সে সময় ওই পুলিশ সদস্য বিষয়টি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাননি। শনিবার সকালে ভাস্কর্য ভাঙ্গার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ের কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। এ ফুটেজ দেখে পুলিশ ভাস্কর্য ভাংচুরে জড়িত দুজনকে দেখতে পায়। তবে এ ফুটেজে তাদের মুখ অনেকটা অস্পষ্ট ছিল। পরে পুলিশ জুগিয়া এলাকা থেকে পুলিশের গাড়ি দেখে পালিয়ে যাওয়া দুজনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। এই ফুটেজে দুজনের মুখ স্পষ্ট দেখা যায়। পরে পুলিশ দুই জায়গার ফুটেজ দেখে ওই দুই মাদ্রসা ছাত্রকে শনাক্ত করে। শনিবার রাতে এ দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যে মাদ্রাসার ছাত্ররা ঘটনা ঘটিয়েছে সেটির নাম মাদ্রাসা ইবনে মাসউদ (রা.)। মাদ্রাসাটি শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে। সেখানে ১৫০ জন ছাত্র লেখাপড়া করে। সেখানে শিক্ষকের সংখ্যা ৫ থেকে ৬ জন।

গ্রেফতার হওয়া দুই মাদ্রাসা ছাত্রের বরাত দিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের ডিআইজি জানান, মাওলানা মামুনুল ও ফয়জুল করিমের বক্তব্য শুনে তারা এ কাজে উদ্বুদ্ধ হন। ডিআইজি জানান, ওই ছাত্রদ্বয় তাদের মাদ্রাসা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে এসে ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সাদা পাঞ্জাবি পাজামা ও কালো কোট পরা ওই দুই ছাত্র মই বেয়ে ভাস্কর্যের বেদিতে ওঠে। পরে একজনের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে ভাস্কর্যে ভাংচুর চালায়। মিশন শেষ করে তারা একইভাবে পায়ে হেঁটে মাদ্রাসায় ফিরে বিষয়টি দুই শিক্ষককে (গ্রেফতার হওয়া) জানান। এ সময় শিক্ষকরা ওই ছাত্রদের মাদ্রাসায় না থেকে বাড়ি চলে যেতে বলেন।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ২৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মাদ্রাসা থেকে হাতুড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে সাদা রং লেগেছিল। মাদ্রাসার শিক্ষক মুহাম্মদ মুসা বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। এটি করা ছাত্রদের ঠিক হয়নি। দেশের আইনে তাদের বিচার হবে। আমাদের কিছু বলার নেই।’ এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রবিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা ডাকা হয়। এতে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন সভাপত্বি করেন। সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভা থেকে ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। মিছিলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি নেতৃত্ব দেন। এদিকে ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান এডিএম মোঃ সিরাজুল ইসলাম। অপর দুই হলেন- গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ও এএসপি পদ মর্যাদার এক পুলিশ সদস্য। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে। রবিবার বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাসে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ করে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগার আলী, জিপি অনুপ কুমার নন্দী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT