ঢাকা, সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করা বিভ্রান্তি-উসকানি

প্রকাশিত : 03:35 PM, 1 December 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও উসকানি দেয়ার অপচেষ্টা পরিহার করুন। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় ‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে এর বিরুদ্ধে কথা বলছেন কেউ কেউ, কিন্তু জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে তারা কিছু বলছেন না কেন’-এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের আর সব দেশের মতো আমাদের দেশেও অনেকের ভাস্কর্য বহু বছর আগে নির্মিত হয়েছে। তখন কিন্তু কেউ প্রশ্ন উত্থাপন করেনি। এখন এটি নিয়ে প্রশ্ন করা মানে এটি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। আর আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি, ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

পুরো পৃথিবী এমনকি যদি ইসলামী দেশগুলোর দিকেই তাকাই, তাহলেও আমরা দেখতে পাই, ইরানে যেখানে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ভাস্কর্য আছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ইরাকেও রাস্তায় রাস্তায় ভাস্কর্য আছে। তুরস্কে সেখানে ইসলামী ডানপন্থী দলই ক্ষমতায়, সেখানে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ভাস্কর্য আছে। পৃথিবীর অন্যান্য ইসলামী দেশ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় নানা ভাস্কর্য এমনকি সেখানকার শাসকদের ছবি সংবলিত ভাস্কর্যও রাস্তায় রাস্তায় আছে।

সৌদি আরবের উদাহরণ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে আমাদের মক্কা শরিফ, মসজিদে নববী অবস্থিত, সেখানে জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে ঘোড়া, উট এমনকি সৌদি প্রশাসকদের ছবি সংবলিত ভাস্কর্য আছে। এছাড়া জেদ্দায় পৃথিবীর বিখ্যাত ভাস্করদের দিয়ে ভাস্কর্য বানিয়ে তৈরি করা হয়েছে স্কালচার মিউজিয়াম, যার আরবীয় নাম হচ্ছে আল-হামরা। নারী-পুরুষ, জীবজন্তুসহ বহুকিছুর ভাস্কর্য সেখানে আছে। তুরস্কে কবি ফেরদৌসি, সেখ সাদী, হযরত জালাল উদ্দীন রুমীর ভাস্কর্য আছে, এমনকি সেখানে মসজিদের সামনেও ভাস্কর্য আছে, বলেন হাছান মাহমুদ।

ড. হাছান বলেন, আবার যখন মানুষ চাঁদে গেল, তখন অনেকে ফতোয়া দিয়েছিল মানুষ চাঁদে গেছে এটি বিশ্বাস করা হারাম, শিরক। যখন টেলিভিশন চালু হল, অনেকে টেলিভিশন দেখা হারাম বলেছিল। আবার অনেকে হজে যাওয়ার সময় ছবি দিয়ে দরখাস্ত করা যাবে না, এটা বলেও বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল। এখন যারা এসব কথা বলেন, তারা কিন্তু টেলিভিশনে বক্তব্য দেন, টেলিভিশনে বক্তব্য তাদেরটা গেলে তারা খুশি হন এবং তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা ধরনের পোস্ট দেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এসব কথা বলে সমাজকে বিভ্রান্ত করতে চায়, আমি আশা করব, এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক, উসকানিমূলক বক্তব্য তারা পরিহার করবেন। এগুলো কখনো জনগণ মেনে নেয়নি, মেনে নেবে না। এসবের বিরুদ্ধে জনগণ বক্তব্য দিয়েছে। এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য যদি ক্রমাগতভাবে দেয়া হতে থাকে সেক্ষেত্রে সরকার নিশ্চয়ই বসে থাকবে না। বাংলাদেশে কোনো মৌলবাদের স্থান নেই, কোনো জঙ্গিবাদের স্থান নেই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তিসাপেক্ষে অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT