ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ভারতে করোনার অতিসংক্রামক ধরন মার্চেই পাওয়া যায়

প্রকাশিত : 10:02 AM, 27 December 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের যে নতুন ধরন (রূপান্তরিত রূপ) শনাক্ত হয়েছে, ভারতে অনেকটা একই প্রকৃতির একটি ধরন পাওয়া গিয়েছিল গত মার্চ মাসেই। সম্প্রতি এই দাবি করেছেন দেশটির বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (সিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক্স এ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির (আইজিআইবি) পরিচালক অনুরাগ আগারওয়াল। যদিও বিশে^ শনিবার পর্যন্ত ৮ কোটি ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৪ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মারা গেছে ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫৪ জন। সুস্থ হয়েছে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫২ জন। এখনও চিকিৎসাধীন আছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৮ জন। যাদের মধ্যে এক লাখ ৫ হাজার ৬৭১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৮ জন নতুন করে করোনা সংক্রমণ হয়েছে। একদিনে মারা গেছে ৮ হাজার ৮১৯ জন। খবর বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, রয়টার্স, দ্য ওয়াল, স্কাই নিউজ ও ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের।

ভারতীয় গবেষক অনুরাগ বলেন, ভারতে যখন করোনা মহামারী ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখনই একটি অতিসংক্রামক ধরনটি শনাক্ত হয়। অর্থাৎ গত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে এমন একটি ধরন ছড়িয়েছিল ভারতে। তবে ভারতে করোনার সেই নতুন ধরন বেশি দিন টেকেনি। আইজিআইবি পরিচালক বলেছেন, জুন মাসের মধ্যেই ভারত থেকে নতুন ধরনটি নির্মূল হয়ে যায়। তিনি বলেন, করোনার ওই নতুন ধরন বেশি মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারেনি। হয়ত কোনভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই মাস দুয়েকের মধ্যেই সেটি পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়। নোভেল করোনাভাইরাস কয়েকবার জিনের গঠন বদলেছে। ইতোমধ্যে একাধিক নতুন ধরন শনাক্ত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে। ভারতেও এর একাধিক রূপান্তরিত রূপ দেখা গেছে। এদের মধ্যে কিছু দুর্বল প্রকৃতির ধরনও ছিল। যুক্তরাজ্যে করোনার যে নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে বি.১.১.৭ বা ভিইউআই-২০২০১২/ ০১। এতে মোট ১৭টি জিনগত পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

অনুরাগ বলেন, ভারতে যে ধরন পাওয়া গিয়েছিল তার নাম এ৪। দিল্লী, হায়দরাবাদ, কর্ণাটকের করোনা রোগীদের নমুনায় এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ধরনটিরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা ছিল। প্রায় একই সময় করোনার দুর্বল জিনেরও খোঁজ মেলে সেখানে। সিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, করোনাভাইরাস এতবার জিনের গঠন বদলেছে এবং এখনও বদলাচ্ছে যে, এর প্রতিটা ধরনই একে অপরের চেয়ে আলাদা। দেখা গেছে, এক রোগীর শরীরে ভাইরাসের যে ধরন রয়েছে, তা পাশেরজনের চেয়ে আলাদা। অর্থাৎ একজন থেকে অন্যজনের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার আগেই জিনের গঠন বা বিন্যাস বদলে ফেলছে এই ভাইরাস। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের কারণ প্রসঙ্গে গবেষকরা বলেন, তাকে বেশিদিন টিকে থাকতে হবে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা বেঁচে থাকার সময় বাড়ানোর চেষ্টায় ভাইরাসগুলোর মধ্যে এই পরিবর্তন ঘটে।

সংস্পর্শে আসার পরপরই পরীক্ষা ॥ করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা মানুষদের সংক্রমণের ঝুঁকি ঠেকাতে নতুন এক এ্যান্টিবডি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আটদিনের মধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের শরীরে এই পরীক্ষা চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এরইমধ্যে ১০ স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়েছে এ এ্যান্টিবডি। স্টর্ম চেজার নামের নতুন এক ট্রায়ালের অংশ হিসেবে এজেডডি ৭৪৪২ নামে পরিচিত এ এ্যান্টিবডির সংমিশ্রণ তৈরি করেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ কোম্পানি এ্যাস্ট্রাজেনেকা। এর তত্ত্বাবধান করছে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালের (ইউসিএলএইচ) এনএইচএস ট্রাস্ট। গবেষকদের আশা, এ পরীক্ষায় তারা সফল হবেন।

ভ্যাকসিন গ্রহণের অনুমতি দিল রাশিয়া ॥ নিজেদের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের শরীরেও প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে সে দেশের সংবাদ সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। করোনাভাইরাসের নিরাপদ টিকা উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে ‘স্পুটনিক ভি’ অনুমোদনের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। রাশিয়ার ভ্যাকসিন অনুমোদনের ঘোষণার পরই এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের আগেই এই টিকার অনুমোদন দেয়া হলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানান, এই ভ্যাকসিন তার মেয়ের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। মেয়ের শরীরের তাপমাত্রা খানিক বেড়ে গিয়েছিল, তবে অন্য কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রাশিয়ার জাতীয় টিকা কর্মসূচী থেকে এতদিন ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের বাদ রাখা হয়েছিল। এ ধরনের বয়সীদের শরীরে আলাদা করে এ টিকার পরীক্ষা চালানো হয়। আর পরীক্ষার পর শনিবার ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষেরাও এ ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা না পেয়ে ডাক্তারের মৃত্যু ॥ যুক্তরাষ্ট্রের এক কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে ওই চিকিৎসক অভিযোগ করে গেছেন, শুধু গায়ের রঙের কারণেই তিনি যথাযথ চিকিৎসা পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসে ঘটনাটি ঘটেছে। করোনায় মারা যাওয়া চিকিৎসকের নাম সুসান মুর (৫২)। ৪ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের বিছানা থেকে একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। সেখানে বলেন, তার শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসকের কাছে বাঁচার জন্য তিনি ‘চিকিৎসা ভিক্ষা’ পর্যন্ত করেছিলেন। এরপরও তা পাননি। গত রবিবার সেখানকার অন্য একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ২৯ নবেম্বর মুরের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। উচ্চ জ্বর নিয়ে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থে ভর্তি হন। তখন তার কাশির সঙ্গে রক্তও পড়ছিল। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। সুসানের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য তিনি কান্নাকাটি করেন। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান। কিন্তু এরপরও তিনি চিকিৎসা পাননি। তিনি আরও বলেন, তিনি (চিকিৎসক) আমার একটি কথা পর্যন্ত শোনেননি। একবারের জন্যও আমাকে স্পর্শ করেননি। কোন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে দেননি ওই শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসক। চিকিৎসক মুর আরও বলেন, ওই চিকিৎসক আমাকে একজন মাদকাসক্ত হিসেবে মনে করেন। তিনি জানতেন, আমি একজন চিকিৎসক। আমি মাদক গ্রহণ করি না। চিকিৎসক সুসান মুরের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বর্ণবৈষম্যের অভিযোগটি খুব গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। প্রত্যেক রোগীর জন্য সমান চিকিৎসা দিতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে ওই মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য করেনি তারা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সুসান মুরের ১৯ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তার মা-বাবাও জীবিত। তারা ডিমেনশিয়া রোগে ভুগছেন। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন সুসান। গো-ফান্ডমি নামের একটি অনলাইন পেজ খুলে তার পরিবারকে সহায়তার জন্য অর্থ তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ২ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওতে চিকিৎসক মুর বলেন, তিনি এ্যান্টিভাইরাল রেমডিসিভির প্রয়োগের আবেদন জানিয়েছিলেন। বুকের স্ক্যান করারও অনুরোধ করেন। তখন একজন চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা ভাল। এই ওষুধ নেয়ার মতো অবস্থা তার হয়নি বরং বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত। মুর বলেন, চিকিৎসা না পেয়ে তিনি অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন। পরে তাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু অন্য হাসপাতালে গিয়ে জীবন নিয়ে আর ফিরতে পারেননি মুর। গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গরা বেশি করোনার ঝুঁকিতে। ২০১৫ সালের আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ রোগীর চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ রোগীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে দেখা যায় স্বাস্থ্যকর্মীদের।

ইতালিতে পৌঁছেছে ফাইজারের টিকা ॥ ইতালিতে বহুল আলোচিত এন্টি-কোভিড বায়োএনটেক-ফাইজারের টিকা রোমে পৌঁছছে। বেলজিয়াম থেকে সকালে রওনা দিয়ে বিকেলে সরাসরি স্প্যালাজান হাসপাতালে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে টিকাবাহী গাড়িটি পৌঁছায়। স্থানীয় গণমাধ্যম এ সংবাদ প্রকাশ করে।

ব্রিটিশ করোনার ধরন মিলল জাপান ও ফ্রান্সে ॥ করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের ঢেউ চলাকালে যুক্তরাজ্যে ভাইরাসটির যে নতুন ধরন (স্ট্রেইন) দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেটি জাপান ও ফ্রান্সেও পাওয়া গেছে। জাপানে সংক্রমণের পাঁচটি ঘটনায় ও ফ্রান্সে একটি ঘটনায় এ ভাইরাসের নতুন ধরনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এদিকে যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে দেশটি থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে কঠোর কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা কার্যকর করা দেশগুলোর তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো রাশিয়া। ইতোমধ্যে অনেক দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT