শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় ধরনের উৎসের খোঁজে রাজশাহী স্বাস্থ্য বিভাগ

প্রকাশিত : 09:09 AM, 4 June 2021 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে বলে মনে করছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কর্মকর্তারা। সংক্রমণের ব্যাপকতা ছাড়াও অব্যাহত মৃত্যুর ঘটনায় এ আশঙ্কা বেড়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে সাতজনের নমুনায় ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে তার উৎসের খোঁজ করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব জেলায় যারা সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যাদের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে তাদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর সিভিল সার্জনরা দাবি করেছেন, এক জেলার কয়েকজনের মধ্যে ভারতীয় ধরন শনাক্ত হলেও সামাজিক সংক্রমণ ঘটার প্রমাণ তারা এখনও পাননি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, তার জেলার যে ৭ জনের নমুনায় ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে তারা সবাই এখন পুরোপুরি সুস্থ। মঙ্গলবার একজনের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। বাকিদের নমুনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। তারা নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গেই আছেন। তাদের ভারত ভ্রমণের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীর দাবি, ভারতীয় ধরনের সামাজিক সংক্রমণ না ঘটলে দেশের মাত্র দুই তিনটি জেলায় সংক্রমণের এত ব্যাপকতা হতো না। গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হার বেড়ে চলেছে। সংক্রমণও বেড়েছে কয়েকগুণ।

এ কারণে এই আশঙ্কাটা তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার নমুনা পরীক্ষার সময় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের যে সাতজনের মধ্যে ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে, এদের চারজনের সঙ্গে বুধবার ফোনে কথা বলেছে যুগান্তর। একজন শহরের বাসিন্দা ৫২ বছরের ব্যবসায়ী।

তিনি জানান, বাহিরের কোনো জেলায় যাতায়াত নেই তার। সম্প্রতি ভারতও যাননি। ঈদের একদিন আগে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে এসে জ্বর অনুভব করেন। পরে একটি ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ নিয়ে আসেন।

তবে জ্বরের তীব্রতার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় ১৬ মে তিনি সদর হাসপাতালের কোভিড ডেডিকেটেড ওয়ার্ডে ভর্তি হন। একদিন পর নমুনা পরীক্ষায় তিনি পজিটিভ হন। সুস্থ হলে ২৩ মে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আমাকে জানানো হয় আমার নমুনায় ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এটা কিভাবে এলো বুঝতে পারছি না। এরই মধ্যে আমার পরিবারের সবার করোনা পরীক্ষা হয়েছে। সবাই নেগেটিভ। তবে তিনি এখনও দ্বিতীয়বার নমুনা দেননি।

আরেকজন শিবগঞ্জের কানসাট বিশ্বনাথপুর গ্রামের গৃহবধূ। ১৩ মে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে। বুধবার তিনি জানান, সামান্য জ্বর ছাড়া তার শরীরে আর কোনো উপসর্গ ছিল না। তাই হাসপাতালে যাননি। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। দু’একদিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার নমুনা দেবেন। গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামী ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। রোজায় তিনি বাড়িতে আসেন। তবে তার নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে।

ভারতীয় ধরনে সংক্রমিত ৩১ বছরের একজন নারী চিকিৎসক, যিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন। ঈদের আগে ক্লিনিক থেকে বাসায় ফিরে জ্বর ও মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখতে পান। পরের দিন সদর হাসপাতালে গিয়ে নুমনা দিলে পজিটিভ আসে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে দুই সপ্তাহ। এখন তিনি সুস্থ। এই চিকিৎসকও ভেবে পাচ্ছেন না তিনি কিভাবে ভারতীয় ধরনে সংক্রমিত হলেন।

ভারতীয় ধরনে আক্রান্ত ২১ ও ১৩ বছরের দুই ভাইয়ের বিষয়টিও তাদের পরিবারকে সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। তারা দুজনই ছাত্র। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে। চিকিৎসা শেষে তারাও এখন সুস্থ। পরিবারের একজন সদস্য জানান, তারা তেমন বাহিরে যায়নি। কীভাবে সংক্রমিত হলো সেটা তারা বুঝতে পারছেন না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরীর মতে, যাদের নমুনায় ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে তা তারা খুঁজে দেখছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ভারত ভ্রমণ অথবা ভারত থেকে আগত কারও সংস্পর্শে আসার কোনো ইতিহাস নেই। তিনি মনে করেন ঢাকা থেকে ঈদের আগে মানুষ গ্রামে এসেছে। তাদের মাধ্যমেই এই সংক্রমণ ঘটতে পারে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৭১টি নুমনা পরীক্ষায় ১৯৬ জনের পজিটিভ এসেছে। সংক্রমণের এই হার ৬৪ শতাংশের বেশি। বুধবার পর্যন্ত জেলার ৮৪৫ জন করোনা রোগী বাড়িতে ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দেশে কোনো একক জেলায় করোনা রোগীর এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন এই জেলার আরও ৫ জন। রাজশাহীতে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। নওগায় ১৪৮টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয় ৬৮ জন, নাটোরে ৩২টি নমুনা পরীঁক্ষায় ১৮ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, সংক্রমণের ব্যাপকতা দেখে আমরা ধারণা করছি শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ নয়-রাজশাহীসহ আশপাশের জেলায়ও ভারতীয় ধরন সামাজিক সংক্রমণের রূপ নিয়েছে। নতুন নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করলে হয়তো আরও অনেকের শরীরে এ ধরন পাওয়া যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT