ঢাকা, সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখুন : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : 08:50 PM, 2 September 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, রেমিটেন্সের প্রভাবে রিজার্ভের যে রেকর্ড হচ্ছে তা প্রবাসী ভাই- বোনদের অর্জন। এতে এই দেশ, তারা নিজেরা এবং তাদের পরিবার লাভবান হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী গত বছরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত দুই মাসে রেমিটেন্স প্রায় ৫০ ভাগ বেড়েছে। এটা একটি অবিশ্বাস্য বিষয়।

এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, সরকার রেমিটেন্সের উপর বাজেটে সামান্য সহায়তা দিয়েছে। আর এ কারণেই রেমিটেন্সের এই উস্ফলন। এখন বৈধপথে রেমিটেন্স আসছে, প্রবাসীরা সাদা টাকার মালিক হচ্ছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়ছে। প্রায় ১৮শ’ কোটি টাকার ১০টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা সংযুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ভার্চুয়াল বৈঠকে ১০টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রধান সূচকগুলো ভাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে রফতানি, রেমিটেন্সে ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এটা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এখনো প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ৪৯ ভাগ অবৈধপথে হন্ডির মাধ্যমে আসছে। এতে অনেক সময় প্রবাসীদের টাকা খোয়া যাচ্ছে। এই টাকা যদি বৈধ পথে আনা যায় তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও দ্রুত বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। আর এলক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। আগে রেমিটেন্স আসলেও নানা রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো। এখন এসব কমে গেছে। প্রবাসীরা বিদেশে কষ্ট করে টাকা পয়সা আয় রোজগার করেন। সেই কষ্টার্জিত টাকায় দেশের রিজার্ভ বড় হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ কারণে এসএমইখাতে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে। তিনি বলেন, আজ যারা এসএমই তারাই একদিন মিডিল এবং বড় শিল্পোদ্যেক্তা হবেন। এ কারণে কাউকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগে ৫ হাজার টাকার কৃষি ঋণ নিতে হলে তিন থেকে চার টেবিলে টাকা দিতে হতো। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। পয়সা খরচ না করেই উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারছেন। এজন্য বেশকিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট উদ্যোক্তাদের অনেকের ব্যাংক হিসাব নেই। ঋণ নিতে হলে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। যাদের এ্যাকাউন্ট আছে তারা ছোট ঋণও পাচ্ছেন। প্রণোদনা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে তদারকি করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকেও পৃথক উইন্ডো রয়েছে।

প্রসঙ্গত, রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই একের পরে এক রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ। প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে করেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর দিনের শুরুতে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ তিন লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে (ডলার ৮৪ টাকা ধরে)। প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরে মজুত এই বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। এছাড়া গত অর্থবছর রেমিটেন্সের ওপর ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকেই বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়তে থাকে। চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরপর থেকেই বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়তে থাকে।

১০টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন ॥ বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ১০টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৫ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ২২ টাকা। উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-সার ক্রয় সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১টি, সেতু বিভাগের ঢাকা এলিভেটেট এক্সপ্রেস সংক্রান্ত ১টি, পুলিশের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার নির্মাণ, মোংলা বন্দর ড্রেজিং,বিদ্যুৎ সংক্রান্ত দুটি এবং এলএনজি আমদানি সংক্রান্ত ১টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT