ঢাকা, মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বৃষ্টির বাড়াবাড়িতে কোণঠাসা শরত

প্রকাশিত : 09:40 PM, 26 August 2020 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

এমন নয় যে, শরতে বৃষ্টি হয় না। সে তো কতই হয়। সব ঋতুর ওপর পূর্ববর্তী ঋতুর কম বেশি প্রভাব থাকে। একই কারণে শরতে অনুপ্রবেশ করে বর্ষা। বৃষ্টি হয়। তাই বলে বর্ষার বৃষ্টি শরতে এসে এত জোর খাটালে চলে? শ্রাবণের দু’ দশ ফোঁটা সঞ্চিত আছে, যদি থাকে সময় সুযোগ বুঝে ঢেলে দাও ভাই। টানা বর্ষণ কেন? কে শুনে কার কথা? এবার শরত শুরুর পর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ছিঁচকাঁদুনে মেয়েটির মতো যখন তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে আকাশ। ফলে শরত আর শরতের মতো করে বিকশিত হতে পারছে না।

আরও দশ দিন আগে গত ১ ভাদ্র শুরু হয় শরত। আশ্বিনের শেষ দিন পর্যন্ত এর স্থিতি। দুই মাসের মধ্যে আমূল বদলে যায় প্রকৃতি। প্রিয় ঋতুর আগমণে নদীর দুই ধার কাশফুলে ছেয়ে যায়। দোলতে থাকা কাশফুল আর পাল তোলা নৌকোর ছবি আবহমান গ্রাম বাংলার রূপকে আরও হৃদয়গ্রাহী করে তুলে। এ সময় শিউলি ফুলে ভরে ওঠে বাগান। শরতের শিউলি নজরুলকে ভীষণ মুগ্ধ করেছিল। নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে কবি লিখেছিলেন : এসো শারদপ্রাতের পথিক এসো শিউলি-বিছানো পথে।/এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে…। শরতের সকালের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেন : শিউলিতলায় ভোরবেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।/শেফালি ফুলকে ঝরে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা…।

তবে শরতের মূল সৌন্দর্য তুলে ধরে আকাশ। স্বচ্ছ আকাশজুড়ে থাকে নীল আর নীল শুধু। সেই নীলে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ায়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় : আজি ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলাÑ/নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাইÑ লুকোচুরি খেলা…।

শরতের সেই নীল আকাশ, লুকোচুরি খেলা এরই মাঝে আমরা দেখেছি। কোন কোনদিন দেখার সুযোগ হয়েছে। তাতেই মন আনন্দে নেচে উঠেছে। যারা ঋতু বদলের খোঁজ খবর রাখেন না তারাও তখন মুগ্ধ হয়ে আকাশের পানে তাকিয়েছেন। উপলব্ধি করেছেন, শরত এসেছে। ওই ক’দিন ঢাকার আকাশটাকে আরও বড় আরও খোলা মনে হয়েছে। কিন্তু মুগ্ধতার যখন সবে শুরু তখনই হানা দেয় বৃষ্টি। রাতে বৃষ্টি। সকালে বৃষ্টি। দুপুর এবং বিকেলেও তা-ই। বর্ষা যে বিদায় নিয়েছে, কে বলবে? আগেই এমনকি বন্যার কবলে পড়েছিল দেশ। কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন উৎপাত। ফলে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রকাশিত হতে পারছে না শরত। বেশিরভাগ সময় মুখ গুমরা করে রাখছে আকাশ। উপরের দিকে তাকালে পুকুরের ঘোলা পানির মতো মনে হয়। বর্ষায় হলে মানা যায়। শরতে এমন কদাকার আকাশ! মেনে নেয়া সত্যি কঠিন।

কেন এত নিয়ম ভাঙ্গা? অসময়ে অতি বৃষ্টির কারণ কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়া অফিস বলছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই বৃষ্টি। সেইসঙ্গে আছে লঘুচাপ। শরত শুরুর পর এখন পর্যন্ত কয়েক দফা লঘুচাপের কবলে পড়েছে দেশ। এর প্রভাবেও অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে এর পরিমাণ বেশি। মঙ্গলবারও সুস্পষ্ট লঘুচাপ ছিল। আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ- আগামী চার পাঁচ দিন হয়তো এমনই থাকবে আবহাওয়া। আগস্ট শেষে প্রকৃতিতে শরতের প্রভাব জোরালো হতে পারে।

এদিকে প্রিয় ঋতু শরত ঘিরে রাজধানী শহরে উৎসব অনুষ্ঠান আয়োজনের রীতি প্রচলিত আছে। প্রতি বছরই সঙ্গীত নৃত্য কথা কবিতায় শরতের বন্দনা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় অভূতপূর্ব নাগরিক সমাবেশ ঘটে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনার ঘায়ে গোটা বিশ্ব বেসামাল। ভয়ঙ্কর সংক্রমণ ব্যাধি ঠেকানো যাচ্ছে না। শরত বন্দনার সব আয়োজনও তাই বন্ধ রয়েছে।

কতদিন আর বন্ধ থাকবে সব? কবে স্বরূপে ফিরবে শরত? কবে উৎসব হবে? অপেক্ষা করে আছে ষড়ঋতুর বাংলাদেশ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT