ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি মিললো খুলনার কপিলমুনির গুরুদাসি মন্ডলসহ ৬১ জন নারীর

প্রকাশিত : 09:24 PM, 15 December 2020 Tuesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি মিলেছে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বামী-সন্তান হারানো খুলনার কপিলমুনির গুরুদাসি মাসি নামে পরিচিত গুরুদাসি ম-লসহ ৬১ জন নারীর। মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রথীন্দ্র নাথ দত্ত স্বাক্ষরিত গেজেটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের তালিকায় বীরাঙ্গনা নারীর সংখ্যা চারশো জনে উন্নীত হলো।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও বীরাঙ্গনাসহ সংশি¬ষ্ট সকলের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যদা নিশ্চিত করতে চায়। তারই ধারাবাহিকতায় গুরুদাসিসহ ৬১ জন নারীকে বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়ে মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করেছে। এখন থেকে তারা ও তাদের পরিবার রাষ্ট্রীয় সকল সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা পাবে বলে তিনি উলে¬খ করেন।

বীরাঙ্গনা গুরুদাসির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল ভদ্র। তিনি জানান, গত ৩০ নভেম্বর কপিলমুনিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব তপন কান্তি ঘোষের উপস্থিতিতে ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন ও বীরাঙ্গনা গুরুদাসির স্বীকৃতির দাবি উত্থাপন করা হয়।

গত ৯ ডিসেম্বর কপিলমুনি মুক্ত দিবসের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বীরাঙ্গনা গুরুদাসির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী গুরুদাসিসহ অন্যান্য বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি দেয়ায় আমরা গর্বিত। কপিলমুনিতে দ্রুত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপে¬ক্সের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

সংশি¬ষ্ট সূত্র মতে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীণ পাকবাহিনীর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন গুরুদাসি ও তার পরিবার। তার বাড়ী উপজেলার দেলুটির বারোআড়িয়া গ্রামে। তার স্বামী গুরুপদ মন্ডল পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। গুরুদাসি দেখতে সুন্দরী হওয়ায় পাকদোসররা তার উপর হামলে পড়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। স্বামী এতে বাঁধা দিলে তার চোখের সামনে স্বামী, দু’ছেলে ও শিশুসহ দু’মেয়েকে গুলি করে হত্যা করে।

কথিত আছে, গুরুদাসীর ছোট মেয়ে যখন মায়ের কোলে দুধ খাচ্ছিল তখন পাক দোসররা আকষ্মিক ঐ বাড়ীতে হানা দেয়। এক পর্যায়ে তারা মায়ের কোল থেকে শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে কাঁদা মাটিতে পুতে মেরে ফেলে। এসময় সুন্দরী গুরুদাসিকে তার নিজ বাড়িতে আটকে রেখে পাক দোসররা নির্যাতন শুরু করে। এতে গুরুদাসি প্রাণে বেঁচে থাকলেও মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাকে উদ্ধার করে নিজেদের কাছে রেখে দেন। দেশ স্বাধীনের পর মানষিক ভারসাম্যহীন গুরুদাসীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখান থেকে চলে আসেন তিনি।

এরপর শুরু হয় তার ভবঘুরে জীবন-যাপন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এক সময় খুলনা জেলার পাইকগাছার কপিলমুনিতে আসেন, স্থায়ী হন সেখানে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি গুরুদাসি মাসি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ভিক্ষাই ছিল তার জীবন জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় লাঠি হাতে মানুষকে ভয় দেখিয়ে, হাত পেতে দু/পাঁচ টাকা চেয়েই চলত তার জীবন-জীবিকা। উপজেলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এমন কোন মানুষ নেই যে, তাকে চিনতো না। তার মাথা গোজার ঠাঁই বা আশ্রয়ের জন্য কপিলমুনিতে সরকারী জায়গায় তার বসবাসের জন্য একটি বাড়ি তৈরী করা হয়। সেখানেই মানবেতর জীবনযাপনের একপর্যায়ে ২০০৮ সালের ৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT