ঢাকা, রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বিদেশি বিনিয়োগে করোনার বড় ধাক্কা তিন মাসেই কমল ৬০ শতাংশ, বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবও দায়ী

প্রকাশিত : 06:40 PM, 8 November 2020 Sunday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

মহামারি করোনার বড় ধাক্কা এসেছে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই)। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিট এফডিআই কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ কমার পেছনে শুধু করোনা সংকট নয়, অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের অভাবও দায়ী। বিশেষ করে ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। ফলে নানা সুবিধা ঘোষণার পরও বিদেশি বিনিয়োগে খুব বেশি উন্নতি হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এফডিআই কমার পেছনে শুধু করোনাই দায়ী, এমনটি নয়। আমি বলব, বাংলাদেশে যে হারে এফডিআই আসার কথা, সেটা আসছে না। এর কারণ অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশের অভাব রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়ে গেছে। যেকোনো পারমিশন পেতে কিংবা ভূমি নিবন্ধনে অনেক সময় লাগে। সহজে ব্যবসা করার সূচকও এখানে অনেক হাই। ফলে নানা সুবিধা দেওয়ার পরও বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায়ই রয়েছে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও মনে করেন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দেশে যে অনুকূল পরিবেশের দরকার, সেটার অভাব রয়েছে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আমরা বরাবরই পিছিয়ে রয়েছি। করোনাভাইরাসের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ আরো চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। কারণ এখন যারা বিনিয়োগ করবে তাদের দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়। এ ছাড়া সহজে ব্যবসা করার সূচক এবং সুশাসনের জায়গায় এখনো অনেক দুর্বলতা আছে। এগুলোর উন্নতি করতে হবে।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক লেনদেনের ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে সেখানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশে ৫৪ কোটি ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই তিন মাসে মোট এফডিআই কমেছে ২৪.৬ শতাংশ। তবে এই সময়ে নিট এফডিআই এসেছে মাত্র ছয় কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৭ কোটি ডলার। এ হিসাবে নিট এফডিআই কমেছে ৬০ শতাংশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে নিট এফডিআই বলা হয়।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ে বিদেশি বিনিয়োগে রেকর্ড হয়েছিল। ওই অর্থবছরে নিট ২৫৪ কোটি ডলারের রেকর্ড এফডিআই পায় বাংলাদেশ। যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪২.৮৬ শতাংশ বেশি ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার কারণ আকিজ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে জাপানের কম্পানি জাপান টোব্যাকোর বড় বিনিয়োগ। তার প্রভাবে বেড়ে গিয়েছিল এফডিআই। তবে অর্থবছরের হিসাবে বাড়লেও ক্যালেন্ডার বছরের হিসাবে গত বছর বড় অঙ্কের এফডিআই কমে যাওয়ার তথ্য উঠে আসে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা আংকটাডের বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫৬ শতাংশ।

তবে শুধু বাংলাদেশই নয়, করোনার কারণে সারা বিশ্বেই কমে গেছে বিদেশি বিনিয়োগ। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে চায় সরকার। এ জন্য বিদ্যমান আইন-কানুন আরো সহজ ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, করোনার কারণে চীন থেকে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ অন্য দেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলের অনেক দেশ যেমন ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া তাদের নিজ দেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত আইন-কানুন, বিধি-বিধান ও ব্যাংকপ্রক্রিয়া সহজ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইন-কানুন সহজ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে গত জুলাইতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আরো সহজ ও গতিশীল করার কথা বলা হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT